দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পর ট্রাম্প ও মমদানির ওভাল অফিস বৈঠক |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র-নির্বাচিত Zohran Mamdani শুক্রবার ওভাল অফিসে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন দীর্ঘ মাস ধরে চলা সমালোচনা ও দ্বন্দ্বের পর। এই বৈঠকে আলোচ্য বিষয় হবে সুরক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বাসযোগ্যতার সংকট।

দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পর ট্রাম্প ও মমদানির ওভাল অফিস বৈঠক | - Ajker Bishshow
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র-নির্বাচিত Zohran Mamdani, যিনি আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অফিস গ্রহণ করবেন, দীর্ঘ আলোচনা ও রাজনৈতিক টানাটানি শেষে শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে বসার জন্য সম্মত হয়েছেন।
এই সাক্ষাৎটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে — কারণ এই দুই নেতা রাজনৈতিক ও আদর্শগতভাবে একে-অপরের বিপরীতপ্রান্তে রয়েছেন। Trump নির্বাচনী প্রচারে Mamdani-র প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে ছিলেন এবং নির্বাচনের পর থেকে তিনি Mamdani-কে “কমিউনিস্ট” বলেও উচ্চারণ করেছেন।
কেন এমন ইঙ্গিত ছিল?
Mamdani নির্বাচনী প্রচারে মূলত বাসযোগ্যতা (affordability) সংকট, সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সামনে এনেছিলেন।
Trump তার পক্ষ থেকে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী Andrew Cuomo-কে সমর্থন করেছিলেন এবং Mamdani-র জয় হলে ফেডারাল অর্থায়ন কাটা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে হঠাৎ এই বৈঠক একটি সংযম ও একাত্মতার সংকেত হিসেবেও পড়তে পারে, কারণ Trump অভিনয়ে বলছেন GOP এখন “Party of Affordability!” হিসেবে।
বৈঠকের সময় ও স্থান
বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, ওয়াশিংটনে, Oval Office-এ।
Trump সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন: “We have agreed that this meeting will take place at the Oval Office on Friday, November 21st.”
আলোচ্য বিষয়সমূহ
Mamdani-এর স্পোকসভেক জানিয়েছেন, বৈঠকে আলোচ্য বিষয় হবে:
- জনসাধারণের সুরক্ষা (public safety)
- অর্থনৈতিক নিরাপত্তা (economic security)
- বাসযোগ্যতা (affordability)-সংক্রান্ত এজেন্ডা, যেটি তিনি নির্বাচনের সময় উল্লেখ করেছিলেন।
- এতে তিনি যুক্ত করেছেন যে, “রথে যেকোনও সম্ভাবনা থাকলে সহযোগিতায় আমি প্রস্তুত, তবে যদি সেটা নিউ ইয়র্কবাসীর ক্ষতি হয়, তাহলে আমি লড়ব।”
দ্বন্দ্বের মূল কারণ ও তাৎপর্য
এই সাক্ষাৎ একটি চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সামনে এসেছে — কারণ দুই নেতার মধ্যে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক লড়াই ও মূলধারার মতবিরোধ রয়েছে। Trump Mamdani-কে নির্বাচনের আগে এবং পরে কঠিন ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।
Mamdani-ও তার তরফ থেকে বলছেন, তিনি একটি বড় পরিবর্তন আনবেন যা Trump-এর সময়ে তৈরি পরিস্থিতিকে পরাভূত করবে।
এই সাক্ষাৎ শুধুই এক বৈঠক নয় — এটি দেখতে হবে একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরের incoming mayor এবং একজন প্রেসিডেন্ট আংশিক সহায়তা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে কিভাবে কাজ করবে।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও কৌশল
- মমদানির দলে রয়েছে ধারণা যে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে যোগসূত্র রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আদর্শগত দূরত্ব রয়েছে।
- Trump-র পক্ষ থেকে দেখা যেতে পারে, এ বৈঠক একটি ভাবমূর্তি সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে — অতীত সমালোচনার পর।
- ফেডারাল অর্থায়ন ও স্থানীয় নীতিমালার মধ্যে সঙ্গতি তৈরি করা হবে কিনা, সেটিই প্রেসিডেন্ট ও মেয়র-নির্বাচিত উভয়ের জন্য মূল পরীক্ষা হবে।
- রাজনৈতিক ভাবনায় বিকল্প ধারা (progressive) এবং রক্ষণশীল ধারা (conservative)-র মধ্যে মেটানো হলো কি না — তা নজরে রাখতে হবে।
ভবিষ্যতের প্রভাব
- যদি বৈঠক সফলভাবে হয় এবং কার্যকর ফলাফল আসে, তাহলে এটি জাতীয় রাজনীতিতেও একটি বড় ইঙ্গিত দিতে পারে: বিরোধীদের মধ্যেও কাজ করার প্রস্তুতি।
- অপরদিকে, যদি বৈঠক নির্ফল হয় অথবা ভূল হয়, তাহলে এটি শহর-ফেডারেল সম্পর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় আরও তীব্রতা আনতে পারে।
- নিউ ইয়র্ক শহরের বাসযোগ্যতা, সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্ব্য বিষয়গুলো– সরকারি মনোযোগ পাইবে কি না, তা এই বৈঠকের পর আরও স্পষ্ট হবে।
সংক্ষেপে বললে, এই সাক্ষাৎ একদিকে হচ্ছে একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায় যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা একটি টেবিলে বসছেন। অন্যদিকে, এই বৈঠক চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে — আদর্শগত ভাঙন, অর্থায়নের প্রশ্ন, এবং কাজের বাস্তবতা। আগামী শুক্রবার যে আলোচনার রীতি গড়ে উঠবে, তা শুধু নিউ ইয়র্ক-শহরের জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Related Posts
View All
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি: ৭৫ দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত | US to Suspend Immigrant Visa Processing for 75 Countries: Global Impact and Analysis
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত—৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হচ্ছে। এই নীতির ফলে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব কী—সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

বিশ্ব থেকে সরে যাচ্ছে আমেরিকা? ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের| US Withdraws from 66 UN and International Bodies: A Turning Point in Global Politics
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটি একযোগে ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক ধাক্কা।

শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানী তার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছেন “সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি” কর্মসূচি। শপথগ্রহণ করেছেন কুরআন হাতে, এবং নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে এবং শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।







