বিশ্ব থেকে সরে যাচ্ছে আমেরিকা? ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের| US Withdraws from 66 UN and International Bodies: A Turning Point in Global Politics
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটি একযোগে ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক ধাক্কা।

বিশ্ব থেকে সরে যাচ্ছে আমেরিকা? ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের| US Withdraws from 66 UN and International Bodies: A Turning Point in Global Politics - Ajker Bishshow
২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বড় আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন — দেশটি ৩১টি ইউনাইটেড নেশন-সম্পর্কিত সংস্থা এবং ৩৫টি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে কার্যকরভাবে সদস্যতা ও অর্থায়ন প্রত্যাহার করবে।
এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মার্কিন বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় এক রূপান্তর, এবং এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশ-নীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো — এর পেছনের কারণে, এর সম্ভাব্য প্রভাব, এবং একে কেমনভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মূল্যায়ন করছে।
সিদ্ধান্তের পটভূমি
ট্রাম্প প্রশাসন ‘White House Memorandum’ নামে একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করেছে যে **মার্কিন সরকার নির্ধারিত ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে — কারণ এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের “জাতীয় স্বার্থের বিরোধিতা করে”।
এ তালিকায় যেমন রয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত বড় সংস্থাগুলো, তেমনি রয়েছে এমন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও, যেগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমঝোতা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা বা বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে কাজ করে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
- UN Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) — আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা ও সমঝোতার প্রধান দলিল।
- UN Population Fund (UNFPA) — গণসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্য সংস্থা।
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) — বিশ্বের শীর্ষ জলবায়ু বিজ্ঞান সংগঠন।
এই তিনটি সংস্থা ছাড়াও বহু সংস্থা ও চুক্তি রয়েছে, যেগুলোর উদ্দেশ্য মানবাধিকার, উন্নয়ন, শিক্ষা, বৈচিত্র্য, তথ্য প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-নিরীক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি
ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে “উন্নত স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা” নামে ব্যাখ্যা করেছে। এর প্রধান পয়েন্টগুলো নিম্নরূপ:
- জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার:
- প্রশাসন দাবি করেছে যে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত, যেগুলো মার্কিন স্বার্থের বিরোধিতা করে এবং দেশকে বাধাগ্রস্ত করে।
- অর্থায়ন ও দায়বদ্ধতার পুনঃসমীক্ষা:
- বর্তমান প্রশাসন মনে করে আন্তর্জাতিক সংস্থা-সমূহে দেওয়া অর্থায়ন “অপ্রয়োজনীয়”, “অর্থহীন”, বা “কার্যকারিতা কম” এবং তাই তা আমেরিকার করদাতাদের জন্য একটি ব্যয়বহুল লোড।
- রাজনৈতিক ও নীতিগত ভিন্নমত:
- বিশেষ করে জলবায়ু, লিঙ্গ সমতা, মাইগ্রেশন, শিক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসন “মার্কিন মূল্যবোধের বিরোধী” নামে অভিহিত করেছে।
এসব ব্যাখ্যা সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব যুক্তি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে; সেই বিষয়ে পরে আলাদা করে আলোচনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সিদ্ধান্তে “দুঃখ প্রকাশ” করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে UN-এর নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক দায়িত্ব ও চুক্তি পালন করতে হবে — বিশেষ করে এমনগুলিতে যা UN Charter-এর আওতায় আসে।
জাতিসংঘ বলেছে, যদিও সদস্যপদ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত দেশগুলো নিতে পারে, তবে কিছু আর্থিক ও আইনগত দায়িত্ব রয়েছে যা থেকে স্বতন্ত্রভাবে বেরিয়ে যাওয়া সহজ নয়।
জলবায়ু বিজ্ঞান ও পরিবেশ-নীতি সম্পর্কিত সমালোচনা
বহু পরিবেশ বিজ্ঞানী, বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক নৈতিক নেতারা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এটি বিশ্ব জলবায়ু সমাধানের উদ্যোগে মার্কিন নেতৃত্বের অবনতি ঘটাবে এবং বাস্তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যৌথ কর্মকাণ্ডকে ক্ষুণ্ন করবে।
বিশেষত UNFCCC এবং IPCC-এর মতো সংস্থা থেকে মার্কিন সরে যাওয়া বৈশ্বিক জলবায়ু নীতিতে এক বড় শূন্যস্থান তৈরি করবে বলে মত দিয়েছেন বহু জলবায়ু বিশেষজ্ঞ।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অনেক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বলে অভিহিত করেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে, এমন একটি সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জগুলো আন্তর্জাতিক সমন্বয় দাবি করে, তখন এমন প্রত্যাহার “নেতৃত্বের অভাব” নির্দেশ করে।
ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ হতে পারে এমন বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
মহল বিশেষ করে দায়বদ্ধ আন্তর্জাতিক কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান, নেতৃত্ব এবং নীতিগত সহায়তা-অংশগ্রহণ কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে — কূটনীতি, জলবায়ু নীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা-সহ।
বহুপাক্ষিক সম্পর্ক ও কূটনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মাল্টিল্যাটারালিজম (বহুপাক্ষিক সহযোগিতা)-এর প্রতি একটি বড় মেরুদণ্ডহীনতা সৃষ্টি করে। বহু বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা-প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
বিশেষত কোভিড-এর পরের বিশ্ব-পরিচালনা কাঠামো পুনঃগঠন চলছে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় বিরতিচিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশনীতি
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতি এবং কার্বন নির্গমনের অন্যতম বৃহৎ উৎস। এর জলবায়ু-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ছাড়াই, বিশ্ব জলবায়ু নীতি-সমঝোতা একটি বড় শূন্যসংকটের মুখে পড়তে পারে।
বিশেষত UNFCCC-এর মতো কাঠামো যা প্যারিস চুক্তির ভিত্তি, সে ধরনের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর স্থিতিশীলতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক ফল
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম এবং পরিবেশ-টেকনোলজি ক্ষেত্রে অনেক কোম্পানি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সরকারি সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সেই কাঠামোতে বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন চীন, যারা শক্তভাবে পরিবেশ-প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, তারা এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্কে আরো অগ্রসরে সুযোগ পেতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন ও দায়িত্ব
জাতিসংঘ জানিয়েছে যে চার্টার-এর কিছু আর্থিক দায়িত্ব থেকে দেশ পুনঃসংযুক্ত হলে পর্যন্ত মুক্ত থাকে না। এটি মার্কিন সরকারের পক্ষে ভবিষ্যতে কিছু আইনগত মাপকাঠিতে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা
এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল পরিবর্তন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে — যেখানে আন্তর্জাতিক কাঠামোতে দেশগুলো তাদের স্বার্থকে নিয়ে পৃথকভাবে অভিযান চালাতে আগ্রহী হচ্ছে। তবে এটি কি একটি “বিশ্বযুদ্ধের সূচনা”? কোন প্রচ্ছন্ন সামরিক সংঘাত বাস্তবে শুরু হয়েছে — এ ধরনের পরিসংখ্যান বা প্রমাণ সাপেক্ষে বলা যাচ্ছে না।
তবে এটা স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এক বড় শূন্যস্থান তৈরি হবে এবং বিশ্ব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
2026 সালের জানুয়ারির এই সিদ্ধান্তে দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিন্ন মাত্রা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শুধু এক страны-এর সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর বিশ্বরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ, যেখানে বহুপাক্ষিক কাঠামো ও স্বার্থ-ভিত্তিক কূটনীতি প্রতিযোগিতা উভয়েরই সংমিশ্রণগুলো উঠে আসছে।
বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব, পরিবেশনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী কিছু বছর আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Posts
View All
শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানী তার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছেন “সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি” কর্মসূচি। শপথগ্রহণ করেছেন কুরআন হাতে, এবং নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে এবং শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

২০ মিনিটে ধ্বংস! ডার্ক ঈগলে শক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, আতঙ্কে চীন–রাশিয়া | 20-Minute Strike Capability: America’s Dark Eagle Sends Shockwaves to China & Russia
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’-এর পরিসর বেড়ে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। মাত্র ২০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্র চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ।







