শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানী তার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছেন “সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি” কর্মসূচি। শপথগ্রহণ করেছেন কুরআন হাতে, এবং নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে এবং শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC - Ajker Bishshow
নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহারান মামদানি তার প্রথম দিনেই একটি ‘সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি (Affordability and Abundance)’ কেন্দ্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন—যা শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, সমগ্র মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর প্রতিবেদনে এই কর্মসূচির মূলদিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, এবং একইসঙ্গে মামদানি কীভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
একটি নতুন যুগের সূচনা
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি জোহারান মামদানি — ৩৪ বছর বয়সী রাজনীতিক, সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ধারক এবং দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটির আবাসিক ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় — আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পাশাপাশি তিনি সেই শহরের ইতিহাসে প্রথম এমন ব্যক্তি যিনি মূল আয়াতুল কুরআন দিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন, যা তার অধিবাসীদের মধ্যে ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে।
মামদানির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান একাধিক ধাপে সম্পন্ন হয়—প্রথম অভিনন্দনসূচক অনুষ্ঠানটি ছিল মধ্যরাতে, একটি ছাত্রী এলাকার বন্ধ সাবওয়ে স্টেশনেই। পরে দিনে একটি বৃহত্তর জনসমাবেশ ও অনুষ্ঠান রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়।
শপথগ্রহণ: কুরআন দিয়ে ইতিহাস
জোহারান মামদানি শপথগ্রহণের সময় একটি পুরোনো কুরআন শরীফ হাতে নিয়েছিলেন, যা শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতীক নয়, বরং শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবেও প্রতীয়মান হয়। এটি ছিল মার্কিন ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা, যেখানে কুরআন দিয়ে একটি বড় শহরের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া হয়েছে।
তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবার, রাজনৈতিক সহায়ক, এবং অনেকে যারা তার লক্ষ্যে বিশ্বাসী। এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতির প্রতীকী অর্থ শহরের বহুমাত্রিক সমাজ এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের চেতনাকে সামনে নিয়ে আসে—এমন এক শহরে যেখানে প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করে।
সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি: নতুন প্রশাসনের কর্মসূচি
মেয়র মামদানির প্রথম দিনেই ঘোষিত কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল “Safety, Affordability, and Abundance”—অর্থাৎ নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবনযাত্রা, এবং সকলের জন্য সমৃদ্ধি। এই তিনটি থিম তার প্রশাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা (Safety)
নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সার্বিক নিরাপদ জীবন-যাত্রাকে কেন্দ্র করে। এটি পুলিশের কাঠামো থেকে শুরু করে কমিউনিটি ভিত্তিক সমাধান, কর্মসংস্থান নিরাপত্তা, এবং শহরের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সাশ্রয়যোগ্য জীবন (Affordability)
নিউইয়র্ক সিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি। বাড়ি ভাড়া, সেবা খরচ, পরিবহন ও চাইল্ড কেয়ার—এগুলোর দাম ক্রমাগত বাড়ছে। মামদানির পরিকল্পনা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফ্রী বাস পরিষেবা, সবার জন্য সাশ্রয়যোগ্য শিশু যত্ন, এবং সাশ্রয়যোগ্য আবাসন তৈরির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সংগঠিত।
যেমনটি তিনি তার শপথোত্তর ভাষণে বলেছেন:
“City Hall will deliver an agenda of safety, affordability, and abundance—where government looks and lives like the people it represents.”
এটি প্রমাণ করে যে তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খরচ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন—এবং সরকারি নানা নীতির মাধ্যমে এটি বাস্তবে রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সমৃদ্ধি (Abundance)
‘সমৃদ্ধি’ বলতে মামদানি মূলত বোঝাতে চান এমন একটি শহর যেখানে সরকার কড়াকড়ি নয়, বরং মানুষদের জীবনযাত্রাকে উন্নীত করতে সক্ষম। তিনি জানিয়েছেন যে সরকার বড় গণগত এজেন্সি হিসেবেই কাজ করবে—সকলকে সামিল করবে এবং নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
সমৃদ্ধি ধারণাটি সামগ্রিক উন্নয়ন, সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, এমন একটি সমাজ যেখানে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেও তারা ব্যবসা, শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার সুযোগ পায়।
রাজনীতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা
মামদানির এই কর্মসূচি একটি মৌলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নির্দেশ করছে। গত দু’দশক ধরে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে বলে সমাজ ও রাজনীতিতে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভাড়া বাড়ি, স্বাস্থ্যসেবা খরচ, পরিবহন ব্যবস্থার খরচ—all এগুলো মানুষের আয় থেকে বহুগুণ বেশি। মামদানির এই উদ্যোগ এই সমস্যার মূলে আক্রমণ করার ইচ্ছাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি তার ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে:
“Freedom belonged only to those who can afford to buy it. Our City Hall will change that.”
এই উক্তিটি নিঃসন্দেহে তার প্রশাসনের একটি মূল দর্শন উপস্থাপন করে—সারে জনগণের জন্য সুযোগের অভাব, আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।
কর ব্যবস্থা ও অর্থায়ন
শহরের বাজেট ও অর্থায়ন ব্যবস্থা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। মামদানির প্রশাসন তার কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর বৃদ্ধি, বড় কোম্পানিগুলোর ওপর কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ের পুনঃবিন্যাসের পরিকল্পনা রেখেছে।
এই নীতিটি অবশ্যই বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। সমর্থকরা বলেন এটি ধনী ও বড় কোম্পানিগুলোর ওপর ন্যায্য দায়ভার আরোপ করবে, আর সমালোচকরা আয়কর বৃদ্ধি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের জন্য নেতিবাচক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। বর্তমান সময়ে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী মহল এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছে, কিন্তু মামদানির প্রশাসন ক্ষমতার ঊর্ধ্বতন স্তর এবং সংসদীয় সহায়তা সংগ্রহ করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে।
সমালোচনা ও সুযোগ
মামদানির প্রশাসনের কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক স্তরে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে এটি একদিকে কর্মসংস্থান এবং সুযোগ সৃষ্টি করবে, আবার অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, যা বাজেট ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে যারা সমর্থন করছেন তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি নাগরিকদের জীবনযাত্রা উন্নত করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সামগ্রিকভাবে, এই কর্মসূচিটি একটি জটিল নীতিগত সমন্বয়—যা শুধু আইনি প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং নাগরিকদের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা খাতেও গভীর প্রভাব ফেলবে।
জোহারান মামদানির মেয়রত্ব অভিষেক কেবল নিউইয়র্ক সিটির জন্যই নয়, বরং সমগ্র মার্কিন রাজনীতির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধি বিষয়ক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত।
শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এটি একটি প্রতিশ্রুতিমূলক দিন, এবং আশাবাদীরা মনে করছেন এই উদ্যোগ বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। যদিও এর বাস্তবায়ন কঠিন, এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে, তবুও এই কর্মসূচি নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি নতুন আদর্শ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
Related Posts
View All
২০ মিনিটে ধ্বংস! ডার্ক ঈগলে শক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, আতঙ্কে চীন–রাশিয়া | 20-Minute Strike Capability: America’s Dark Eagle Sends Shockwaves to China & Russia
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’-এর পরিসর বেড়ে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। মাত্র ২০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্র চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ।

ভেনেজুয়েলার তেল ঘিরে যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের অবরোধে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল| Trump Orders Naval Blockade on Venezuelan Oil Tankers, Global Tensions Rise
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকার প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।








