মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন | আজকের বিশ্ব
উচ্চপ্রোফাইল রিপাবলিকান মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং MAGA আন্দোলনের ভবিষ্যৎকে নতুন দৃষ্টিকোণ দিতে পারে।

মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন | আজকের বিশ্ব - Ajker Bishshow
জর্জিয়ার প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন, যিনি এক সময় মার্কিন রাজনীতিতে মেগা (MAGA) আন্দোলনের এক শক্তিশালী মুখ ছিলেন, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তার কংগ্রেস পদে থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কেবল ব্যক্তিগত নয় — বরং রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ ফাটলের প্রতীক।
ঝগড়ার পটভূমি: ট্রাম্পের সঙ্গে ফাটল
গ্রিন ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে চরিত্র পরিবর্তন শুরু করেছিল — একসময় অবিচল সমর্থক গ্রিন এখন তাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছেন। মূলভাবে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয় জেফ্রে ইপস্টাইন ফাইলসকে কেন্দ্র করে। গ্রিন, এপস্টাইনের শিকারদের পক্ষে কথা বলে তাদের ন্যায্যতার দাবিতে সরকারের কাছে স্বচ্ছতা চেয়েছেন, যা ট্রাম্প একসময় এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি ট্রাম্প এ ব্যাপারে ফিরে আসেন এবং একটি আইনতে সই করেন, যা ইপস্টাইনের নথি প্রকাশকে সহজতর করে। গ্রিন এই ঘটনাকে নিজের জয় বলেছিলেন, কিন্তু তাদের দ্বন্দ্ব গভীরতর হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ও নীতিগত অন্যান্য বিষয়ের কারণে।
নীতিগত সংঘাত: শুধু এপস্টাইন নয়
গ্রিন ও ট্রাম্পের বিরোধ কেবল এপস্টাইন ফাইলসেই সীমিত ছিল না। গ্রিন পরের মাত্রায় গিয়েছে বিদেশনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে। গ্রিন যুক্তি দিয়েছেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন যে তাঁর নিজের পার্টির নেতৃত্ব “নিয়ন্ত্রণহীন” হয়ে গেছে — বিশেষ করে বিদেশী যুদ্ধ, উচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট ও অভিবাসন নীতিতে পার্থক্য রয়েছে।
তিনি কংগ্রেসকে “সাইডলাইনড” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, বলছেন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গঠনতন্ত্রগত কাজ লাগাতার ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যক্তিগত ও নিরাপত্তা বিষয়
গ্রিন তার বক্তব্যেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি “নিজের সম্মান খুব বেশি গুরুত্ব দেয়ার” কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলে দিয়েছেন, তিনি আর এমন গৃহীত সম্পর্ক মেনে নিতে ইচ্ছুক নন, যেমন “বেটেড ওয়াইফ” (battered wife) – এটি একটি শক্তিশালী ইমেজ, যা বোঝায় যে তিনি তার পরিবার এবং সমর্থকদের জন্য আরও শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নিতে চান।
তার উপর এমনকি মৃত্যু-হুমকির অভিযোগও রয়েছে। গ্রিন দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা হুমকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিদায়, কিন্তু পুরোপুরি না হারানো
গ্রিন তাঁর বিদায় ঘোষণা করার সময় বলেছিলেন, “লইয়ালটি দুই-দিকের রাস্তা হওয়া উচিত” — অর্থাৎ, তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করা হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তার কাজ ছিল তাঁর জেলার মানুষের জন্য লড়াই করা, এবং তিনি চান যে প্রতিনিধি পদ শুধু পার্টি রাজনীতি নয়, জনসাধারণের স্বার্থ প্রতিফলন করুক।
গ্রিন ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার পদত্যাগ একটি “বিরতি” হলেও এটি একটি স্টেপ হতে পারে আরও বড় পরিকল্পনার দিকে।
প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্প এবং MAGA‑বেসে ফোট
ট্রাম্প গ্রিনের পদত্যাগকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটা দেশকে জন্য দারুণ খবর।” এই প্রতিক্রিয়াটি স্পষ্ট করে দেয় যে, তাদের সম্পর্কের অবনতির পর ট্রাম্প তার সাথে আর যুক্ত থাকতে চায়নি রাজনীতিতে।
অন্য দিকে, MAGA‑বেস ও আরও রক্ষণশীল সেক্টরগুলোর মধ্যে এই ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে: গ্রিন তার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি ও স্বচ্ছতা বিষয়ক দাবি নিয়ে অনেক অনেকে তাকে নেত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। তার পদত্যাগ কি তাদের মধ্যে নতুন ফাটল বাড়াবে, নাকি একটি প্রতীক হয়ে থাকবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ব্যাপারে ভাবছেন।
গার্হস্থ্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
গ্রিনের পদত্যাগ তার নিজ জেলা জর্জিয়া’র ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট (GA-14) এ একটি বিশেষ নির্বাচনের কারণ হবে। এটি রিপাবলিকানদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ তারা তাদের প্রভাবশালী MAGA নেতাকে হারাচ্ছে এবং পদত্যাগ এমন সময়ে হচ্ছে যখন অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের দল বিভাজন দেখাচ্ছে।
তবে, গ্রিন তার বিদায়ী ভাষণের শেষ দিকে সাধারণ আমেরিকার মানুষের শক্তি নিয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “যখন সাধারণ আমেরিকানরা বুঝবে তারা আসল নিয়ন্ত্রক … আমি তাদের পাশে থাকব এই ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে।” এই ধরনের প্রতিশ্রুতি অনেক সমর্থকের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাবকে অচিরেই শুষ্ক করতে দেবে না।
মার্জোরি টেলর গ্রিনের কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি মেগার আন্দোলন এবং ট্রাম্প রাজনীতির একটি সংকেত। একসময় ট্রাম্পের অনুগত মঞ্চে থাকা গ্রিন এখন নীতিগত ও ব্যক্তিগত কারণে বিদায় নিচ্ছেন — তার সাফ বার্তা হলো, রাজনৈতিক লয়্যালটি হলে পারস্পরিক হওয়া উচিত; এবং একজন প্রতিনিধির দায়িত্ব শুধুমাত্র পার্টির নয়, সাধারণ মানুষের প্রতি।
তার পদত্যাগের ফলে MAGA‑বিশ্বে যে ফাটল জন্ম নিয়েছে, তা ভবিষ্যতে রিপাবলিকান পার্টির দৃষ্টিভঙ্গা ও গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে গ্রিন নিজে নতুন রাজনীতির পথে হতে পারে — এমন এক পথ যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের শক্তিতে বিশ্বাস রাখেন এবং কংগ্রেস ছেড়ে এই বিশ্বাসকে নতুনভাবে বাস্তবায়ন করতে চান।
Related Posts
View All
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি: ৭৫ দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত | US to Suspend Immigrant Visa Processing for 75 Countries: Global Impact and Analysis
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত—৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হচ্ছে। এই নীতির ফলে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব কী—সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

বিশ্ব থেকে সরে যাচ্ছে আমেরিকা? ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের| US Withdraws from 66 UN and International Bodies: A Turning Point in Global Politics
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটি একযোগে ৬৬টি UN ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক ধাক্কা।

শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানী তার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছেন “সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি” কর্মসূচি। শপথগ্রহণ করেছেন কুরআন হাতে, এবং নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে এবং শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।







