২০ মিনিটে ধ্বংস! ডার্ক ঈগলে শক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, আতঙ্কে চীন–রাশিয়া | 20-Minute Strike Capability: America’s Dark Eagle Sends Shockwaves to China & Russia
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’-এর পরিসর বেড়ে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। মাত্র ২০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্র চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ।

২০ মিনিটে ধ্বংস! ডার্ক ঈগলে শক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, আতঙ্কে চীন–রাশিয়া | 20-Minute Strike Capability: America’s Dark Eagle Sends Shockwaves to China & Russia - Ajker Bishshow
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’-এর পরিসর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার। মাত্র ২০ মিনিটে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্রকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে চীন ও রাশিয়া। বিশ্ব কি আরও বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে?
🌍 কী এই ডার্ক ঈগল?
ডার্ক ঈগল (Dark Eagle) হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
হাইপারসনিক মানে—যে অস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে।
সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় নেয়, সেখানে ডার্ক ঈগল মাত্র ২০ মিনিটেই আঘাত হানতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী—
- এর পরিসর বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার
- গতি হতে পারে মাক ১৭ বা তারও বেশি
- মোবাইল লঞ্চার থেকে ছোড়া যায়, অর্থাৎ সহজে স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব
এই অস্ত্র তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি লকহিড মার্টিন।
🚀 কেন ডার্ক ঈগল এত ভয়ংকর?
ডার্ক ঈগলের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—
👉 এটি আকাশে নিচু দিয়ে উড়ে যায় এবং দিক পরিবর্তন করতে পারে
এর ফলে—
- আধুনিক রাডারেও এটি ধরা কঠিন
- প্রচলিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একে ঠেকাতে ব্যর্থ হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র ভবিষ্যতের যুদ্ধে হঠাৎ আঘাত (Surprise Strike) চালানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
💥 ছোট পেলোড, কিন্তু ভয়াবহ আঘাত
ডার্ক ঈগলে ব্যবহৃত পেলোড এর ওজন খুব বেশি নয়—
প্রায় ৩০ পাউন্ডেরও কম।
তাহলে এত ক্ষতি করে কীভাবে?
উত্তর হলো— গতি।
এটি এত দ্রুত গতিতে আঘাত করে যে বিস্ফোরণ ছাড়াও এর গতিশক্তি (kinetic energy) দিয়েই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়ে যায়।
সহজ ভাষায় বললে—
একটি ছোট বস্তু যদি ভয়ংকর গতিতে এসে আঘাত করে, তাহলে সেটাই হয়ে ওঠে মারাত্মক অস্ত্র।
⏱️ ২০ মিনিটে ৩৫০০ কিলোমিটার!
ডার্ক ঈগলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—
👉 মাত্র ২০ মিনিটে ৩৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত
এর মানে—
- ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য
- বা প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হামলা চালানো সম্ভব।
এতে প্রতিপক্ষের হাতে প্রতিরোধের সময়ই থাকবে না।
কেন এখন এই অস্ত্র আনছে যুক্তরাষ্ট্র?
গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হচ্ছিল—
👉 হাইপারসনিক অস্ত্রে চীন ও রাশিয়ার থেকে পিছিয়ে আছে আমেরিকা
কারণ—
- চীন ও রাশিয়া আগেই হাইপারসনিক অস্ত্র মাঠে নামিয়েছে
- কিছু অস্ত্র বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহারও করেছে
এই অবস্থায় ডার্ক ঈগলকে দেখা হচ্ছে
👉 আমেরিকার ‘ঘুরে দাঁড়ানোর অস্ত্র’ হিসেবে
চীনের হাইপারসনিক শক্তি
চীন ইতোমধ্যেই কয়েকটি শক্তিশালী হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরি করেছে।
সবচেয়ে পরিচিত হলো—
- DF-17:
- পরিসর প্রায় ১৬০০ কিমি
- দ্রুত দিক পরিবর্তনে সক্ষম
- YJ-21:
- মূলত যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের জন্য
- চীনের নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত
চীন এসব অস্ত্রকে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ঠেকানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
রাশিয়ার হাইপারসনিক অস্ত্র
রাশিয়া হাইপারসনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অনেক আগে থেকেই সক্রিয়।
তাদের উল্লেখযোগ্য অস্ত্রগুলো—
- Kinzhal
- ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের দাবি করেছে রাশিয়া
- গতি মাচ ১০-এর বেশি
- Zircon
- যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া যায়
- সমুদ্রভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে ভয়ংকর
- Avangard
- রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী মাচ ২০-এর বেশি গতি
- পারমাণবিক বহনে সক্ষম
এই অস্ত্রগুলো রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে বড় সুবিধা দিয়েছে।
⚖️ শক্তির ভারসাম্য কি বদলাবে?
ডার্ক ঈগলের সফল মোতায়েন হলে—
- যুক্তরাষ্ট্র আবার প্রতিযোগিতায় ফিরবে
- চীন ও রাশিয়ার একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে
তবে অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন—
👉 এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে
👉 ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্ত ভয়াবহ সংঘাত ডেকে আনতে পারে
🌐 বিশ্ব কি আরও বিপজ্জনক পথে?
হাইপারসনিক অস্ত্র এমন এক প্রযুক্তি—
- যেটি খুব দ্রুত যুদ্ধ শুরু করতে পারে
- কিন্তু থামানো খুব কঠিন
ডার্ক ঈগলের মতো অস্ত্র তাই শুধু সামরিক নয়,
👉 রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব এখন দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে।
প্রশ্ন একটাই—
এই দৌড় বিশ্বকে নিরাপদ করবে, নাকি আরও অস্থির?
Related Posts
View All
শপথ কুরআন হাতে! মামদানির সাশ্রয়যোগ্যতা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা | Mamdani Swears In with Quran in Hand, Sets Bold Agenda for NYC
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহারান মামদানী তার প্রথম দিনেই ঘোষণা করেছেন “সাশ্রয় ও সমৃদ্ধি” কর্মসূচি। শপথগ্রহণ করেছেন কুরআন হাতে, এবং নিরাপত্তা, সাশ্রয়যোগ্য জীবন ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করতে এবং শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার তেল ঘিরে যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের অবরোধে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল| Trump Orders Naval Blockade on Venezuelan Oil Tankers, Global Tensions Rise
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকার প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।








