পেজেশকিয়ান বলছেন : ইরানি “সাইরাস চার্টার”-এর জন্য ইউএন স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | Pezeshkian lauds UN recognition of Iranian Cyrus Charter
UNESCO আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের প্রাচীন Cyrus Charter-কে—যা Cyrus Cylinder নামেও পরিচিত—বিশ্বের প্রথম লিখিত মানবাধিকার দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মছউদ পেজেশকিয়ান এই সিদ্ধান্তকে ইরানের সভ্যতার স্থায়ী উত্তরাধিকার ও ন্যায়-সহনশীলতার প্রাচীন বার্তার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পেজেশকিয়ান বলছেন : ইরানি “সাইরাস চার্টার”-এর জন্য ইউএন স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | Pezeshkian lauds UN recognition of Iranian Cyrus Charter - Ajker Bishshow
এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে UNESCO এক সর্বজনীন সম্মতিতে এই ঘোষণা করেছে যে প্রাচীন Cyrus Charter — যা সাধারণভাবে Cyrus Cylinder নামে পরিচিত — মানবাধিকারের প্রথম লিখিত দলিল। এই রেজোলিউশনটি গ্রহণ করা হয় সর্মাকান্দে আয়োজিত ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনে (৩০ অক্টোবর – ১৩ নভেম্বর ২০২৫)।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মছউদ পেজেশকিয়ান এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ সম্মান জানিয়ে বর্ণনা করেছেন: “ইরান মানব সভ্যতার বিবেচনায় আজও সক্রিয় একটি সভ্যতা হিসেবে রয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, “ইরান হলো সংলাপ, সহনশীলতা, ন্যায় ও সহাবস্থানের সংস্কৃতির উৎস।”
কেন স্বীকৃতি দেওয়া হলো?
Cyrus Cylinder হচ্ছে একটি মাটি (ক্লে) ট্যাবলেট যা প্রায় ৫৩৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সাইরাস মহান পর Babylonia জয় করার সময় তৈরি করা হয়। এতে লেখা আছে কিভাবে তিনি উপাসনালয় বন্ধ ছিল তা খুলে দিয়েছেন, বিতাড়িত জনদের তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন, ও দেবতাদের মন্দির পুনরায় চালু করেছেন।
UNESCO রেজোলিউশনের ভিত্তিতে এই দলিলকে মানবাধিকারের একটি প্রাসঙ্গিক ও প্রাচীন উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বসদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে এই নীতিগুলোকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শান্তি-নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
ইরানের জন্য গুরুত্ব
ইরানের জন্য এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, বরং একটি কূটনৈতিক ও প্রতীকী সাফল্য। বিশ্লেষকরা বলছেন এটি ইরানের সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে একটি মাত্রিক উত্তরণ এনে দিয়েছে, যেখানে এখন ইরানের প্রাচীন ঐতিহ্য বিশ্বের মানবাধিকারের আলোচনায় উঠে এসেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, এই অনুমোদন “ইরানের মানব সভ্যতার বিবেচনায় সক্রিয় উপস্থিতির একটি নিদর্শন”। তিনি যোগ করেছেন, আজ ইসলামী ইরান “অঞ্চলে ও বিশ্বে শান্তি ও একতার অনুপ্রেরণা” হিসেবে কাজ করতে পারে।
এই মুহূর্তে এটি হলো প্রথমবার কোনো প্রাচীন ইরানি দলিলকে মানবাধিকারের চুক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিস্তৃত প্রভাব
- ঐতিহ্য ও মানবাধিকার একত্রিত: Cyrus Charter-এর স্বীকৃতি দাবি করে যে প্রাচীন ঐতিহ্য আজও মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থান-এ প্রাসঙ্গিক।
- সংলাপ ও সহাবস্থা: এই রেজোলিউশন ইউএনেসকোর মূল উদ্দেশ্য-সংলাপ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে এনে দিয়েছে, যা ইরান দীর্ঘ সময় ধরেই প্রচার করে আসছে।
- অঞ্চলীয় সফট পাওয়ার: এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইরান সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘ইরান’ নামের সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন গড়তে পারে।
- গৃহীত বাণী: ইরান এই খবরে দেশের পুরনো ইতিহাসে গর্ব অনুভব করতে পারে, এবং নিজেকে সংলাপ ও সভ্যতার সেতুবন্ধু হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও ভাবনা
যদিও স্বীকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ, কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো নজর দেওয়া প্রয়োজন:
- Cyrus Cylinder বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রয়েছে, ফলে সাংস্কৃতিক মালিকানা ও রেফ্লিনিয়েশন-সংক্রান্ত বিতর্ক এখনও রয়েছে।
- কিছু সমালোচক এটি কেবল প্রতীকী সম্মান হিসেবে দেখছেন, বাস্তব মানবাধিকার বাস্তবায়নের উপরে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন।
- ইরানের জন্য এখন প্রতীকী সাফল্যকে নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক ও নীতি-অঙ্গীকারে রূপান্তর করা चुनौती হতে পারে, শুধুই বাণী দিয়ে নয় প্রয়োগে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
UNESCO-র মাধ্যমে Cyrus Charter-এর স্বীকৃতি ইতিহাস ও মানবাধিকার-ভিত্তিক এক অনন্য মাইলফলক। ইরানের জন্য এটি একটি সভ্যতা-উত্তরণ, এবং সহনশীলতা, ন্যায় ও সহাবস্থানের বার্তা প্রদান করার একটি সুযোগ। যেমন পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই মুহূর্তটি দেখায় “ইরান হলো সংলাপ, সহনশীলতা, ন্যায় ও সহাবস্থানের সংস্কৃতির উৎস।”
বিশ্বনেতাদের জন্য এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রাচীন দলিল শুধু পুরনো সৃষ্টি নয় — আজও মানবাধিকার ও সংস্কৃতিক সমবায়ের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, এবং আজ তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
Related Posts
View All
১৯৭৯ থেকে আজ পর্যন্ত ইরান: বিপ্লব, যুদ্ধ ও একের পর এক সংকটের ভয়ংকর টাইমলাইন | Iran Since 1979: A Timeline of Revolutions, Wars, Sanctions and Protests
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরান একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে—ইরাক যুদ্ধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক উত্তেজনা, গণবিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটগুলোর পূর্ণ টাইমলাইন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভেতরের গল্প: সত্যিই কি পরমাণু বোমার পথে তেহরান? | Inside Iran’s Nuclear Program: Is Tehran Moving Toward a Nuclear Weapon?
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এটি কি শুধুই বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে গোপন সামরিক লক্ষ্য? Mehr News Agency-র রিপোর্ট অবলম্বনে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভেতরের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ইরান কেন কানাডার নৌবাহিনীকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করল? | Why Iran Declared Canada’s Navy a Terrorist Organization: Key Reasons Explained
ইরান কেন হঠাৎ করে কানাডার নৌবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। IRGC ইস্যু, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার রাজনীতিই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।








