ইরানে মার্কিন‑ইসরায়েলি সংযুক্ত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ধ্বংস ঘোষণা করেছে IRGC‑র গোয়েন্দা বিভাগ
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) চালানো গোয়েন্দা সংস্থা এক মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক সনাক্ত ও ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি রূপ ধরণ করছিল।

ইরানে মার্কিন‑ইসরায়েলি সংযুক্ত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ধ্বংস ঘোষণা করেছে IRGC‑র গোয়েন্দা বিভাগ - Ajker Bishshow
Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)‑র গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তারা এক মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত গুপ্তচর নিয়ন্ত্রিত একটি নেটওয়ার্ক সনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
পটভূমি ও মূল বিষয়গুলো
আইআরজিসি বলেছে, “কয়েক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে” এই নেটওয়ার্ক সনাক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সেদেশের (ইসরায়েল) পরাজয়ের পর এটি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনায় ছিল যা শরৎবলেও কার্যকর হওয়ার উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নেটওয়ার্ক মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেশভিত্তিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।
সময়ের তাৎপর্য
এই ঘোষণা এমন একটি সময়ে এসেছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন‑টেলআভিভের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তার ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করে আসছে।
“১২‑দিন যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করা অংশটি ইরানের বর্ণনায় ইসরায়েলের সামরিক বা গোয়েন্দা ব্যর্থতার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছে, এবং ঠিক সেই রূপেই দেশীয় নিরাপত্তা ব্যাহত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় প্রভাব
এই অপারেশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়:
- ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গভীর কভারড নেটওয়ার্ক সনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে।
- বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করার একটি সংকেত।
- অভ্যন্তরীণভাবে সরকারের দিকে “শক্তিশালী” ও “সতর্ক” ইমেজ তৈরি করার কার্যকর প্রক্রিয়া।
- গুপ্তচরবৃত্তি রোধ ও প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্রিফেরেন্স দেওয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এটি একটি গোয়েন্দা যুদ্ধের সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট ভাবে নোসতা নয় এমন দাবিতে ধরা দেওয়া হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এটি তাদের প্রান্তীয় নিরাপত্তা অবস্থানকে শক্ত করার একটি কৌশল।
যা এখনও অজানা
যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এখনো অজানা রয়েছে:
- কয়জনকে গ্রেপ্তার বা অভিযুক্ত করা হয়েছে, অথবা তারা কারা তা স্পষ্ট করা হয়নি।
- সেই নেটওয়ার্ক কোথায় এবং কীভাবে কাজ করছিল তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
- যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল থেকে স্বতন্ত্রভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি; ইরানের একপক্ষীয় দাবি।
সামনে কি হতে পারে
এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি দিক থেকে প্রভাব ফেলতে পারে:
- ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি ও নিরাপত্তা অভিযান আরও তীব্র হতে পারে।
- তেহরানের জন্য এটি একটি মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলীয় জোটের জন্য এটি সতর্কতা সংকেত হতে পারে, যে তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া মূলক বা প্রতিরোধক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
- মধ্যপ্রাচ্যে গোয়েন্দা, সাইবার ও পরোক্ষ যুদ্ধের পরিভাষা আরও তৎপর হতে পারে।
Watch Video
Related Posts
View All
১৯৭৯ থেকে আজ পর্যন্ত ইরান: বিপ্লব, যুদ্ধ ও একের পর এক সংকটের ভয়ংকর টাইমলাইন | Iran Since 1979: A Timeline of Revolutions, Wars, Sanctions and Protests
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরান একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে—ইরাক যুদ্ধ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক উত্তেজনা, গণবিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটগুলোর পূর্ণ টাইমলাইন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভেতরের গল্প: সত্যিই কি পরমাণু বোমার পথে তেহরান? | Inside Iran’s Nuclear Program: Is Tehran Moving Toward a Nuclear Weapon?
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এটি কি শুধুই বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে গোপন সামরিক লক্ষ্য? Mehr News Agency-র রিপোর্ট অবলম্বনে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভেতরের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ইরান কেন কানাডার নৌবাহিনীকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করল? | Why Iran Declared Canada’s Navy a Terrorist Organization: Key Reasons Explained
ইরান কেন হঠাৎ করে কানাডার নৌবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল—এই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। IRGC ইস্যু, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বৈরিতা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার রাজনীতিই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।








