মার্কিন হামলার পরও বিটকয়েন ধসে পড়ছে না কেন? ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে বিশ্লেষকদের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা | Why Bitcoin Is Unlikely to See a Major Correction After the US Strike on Venezuela
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার পর বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও বিটকয়েনের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বিটকয়েনে বড় ধরনের ধস বা ‘ব্যাপক সংশোধন’ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কেন এমনটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা—এই প্রতিবেদনে থা

মার্কিন হামলার পরও বিটকয়েন ধসে পড়ছে না কেন? ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে বিশ্লেষকদের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা | Why Bitcoin Is Unlikely to See a Major Correction After the US Strike on Venezuela - Ajker Bishshow
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত, সাধারণভাবে সরাসরি আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলে থাকে। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার এবং বিশেষ করে বিটকয়েনের প্রতিক্রিয়া সব সময় একই ধরণের থাকে না। সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বাজারে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেও বিশ্লেষকরা বলছেন যে বিটকয়েনের “ব্যাপক সংশোধন” (widespread correction) হওয়া সম্ভবত কঠিন এবং নিকট-ভবিষ্যতে তীব্র পতন আশা করা যায় না। এই প্রতিবেদনে আমরা পরিস্থিতি, বাজারের বর্তমান অবস্থা, একাধিক বিশ্লেষকের মতামত এবং এর অর্থ কী তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করব।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলার প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। এই হামলা স্থানীয় সময় প্রায় সকাল ৬:০০ টায় শুরু হয় এবং আনুমানিক ৩০ মিনিট ধরে চলে। যদিও এর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন দিক তুলে ধরছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে।
এই পরিস্থিতি একদিকে geopolitical risk অর্থাৎ ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে, আবার অন্য দিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমালোচনামূলক আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে যে বাস্তবে এটি আর্থিক বাজারগুলোতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে।
বিটকয়েনের বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
হামলার খবরের পর বিটকয়েনের দাম কিছুটা ওঠানামা করেছে। ডেটা অনুযায়ী বিটকয়েন মূল্যের পজিটিভ সাইডে রয়েছে এবং তা $৯০,০০০ এর উপরে টিকে আছে। সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েন প্রায় ১.৬৬% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুনরায় $৯০,০০০ স্তরটি ছুঁইছে।
অন্যদিকে একই সময়ে প্রায় $৬০ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন লেভারেজড পজিশন লিকুইডেটেড হয়েছে, যা বাজারের স্বল্পমেয়াদী ভলাটিলিটি ইঙ্গিত করতে পারে। তবে এই ধরনের লিকুইডেশন সবসময় দীর্ঘমেয়াদি বাজারের প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন নয় বরং স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিং চাপ।
এটি স্পষ্ট করে যে বিটকয়েন বাজারে অনানুষ্ঠানিকভাবে চাপ এসেছে, কিন্তু তা মারাত্মক পতনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতামত: সংশোধনের সম্ভাবনা কম
বিগত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক এই ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মাইকেল ভ্যান ডে পোপে (Michael van de Poppe) — যিনি MN Trading Capital এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি X (পুরনো Twitter) প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করেছেন যে, বিটকয়েনের বাজার ইতোমধ্যেই এই ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মূল্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং হামলাটি “একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত ঘটনা” হিসেবে মার্কেটে আগেই প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে বিটকয়েনের দামে ব্যপকভাবে পতন হওয়ার সম্ভাবনা “অনেক কম” বলে তিনি মনে করেন।
ভ্যান ডে পোপে বলেন:
“I don’t think we’ll see a widespread correction based on the attack in Venezuela on Bitcoin ... The likelihood of more negativity on the markets from that single event are relatively slim.”
এই মতামত মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে:
- এই ধরনের ভূরাজনৈতিক ইস্যু ইতোমধ্যেই বড় বাজার অংশের সামনে ছিল এবং অনেক বিনিয়োগকারী এটি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে ছিল।
- বাজারের আত্মবিশ্বাস ও ম্যান্টাল মডেল অনুযায়ী, কঠোর নেগেটিভ পরিস্থিতি না হলে বড় ধরনের সংশোধন হওয়া কমই দেখা যায়।
অনেক সময় বিটকয়েনের মতো ডিজিটাল সম্পদ বাজার শুধু এক ঘটনা বা খবর থেকে সরাসরি পতিত হয় না; বরং এটি পণ্য বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের সমষ্টিগত ইমপ্রেশন থেকে প্রভাবিত হয়।
অতীত উদাহরণ: ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিটকয়েন
ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক দাঙ্গা বা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিটকয়েন ভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেলে বিটকয়েনের দাম ২.৮% কমে গিয়েছিল মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে। এটি বলেছিল যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাজার ভোলাটাইল হতে পারে।
তবে তা বাজারের দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নির্ধারণ করেনি। বাজার পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং একই ধরনের ভূরাজনৈতিক ঘটনাই বারংবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এই প্যাটার্নই দেখিয়েছে যে বিটকয়েন কখনও কখনও ঝুঁকি অ্যাসেট (risk asset) হিসেবে প্রতিক্রিয়া দেয়, আবার কখনও “ডিজিটাল গোল্ড” বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও আচরণ করে।
বাজার মনোভাব ও ভলাটিলিটি ড্রাইভারগুলি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে মহাজাগতিক প্রবণতা যেমন মুদ্রাস্ফীতি (inflation), বৈশ্বিক শুল্ক রাজনীতি (monetary policy), বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির আশা, এসবই ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে প্রভাব ফেলে। ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো মূলত এই বৃহত্তর ইকোনমিক মেঘের উপর ভিত্তি করে 시장কে নির্ধারণ করে।
যদিও মার্কিন হামলা একটি বড় খবর, তা বিটকয়েনকে সরাসরি পতনের দিকে ঠেলে দিতে পারে না যদি সে খবর ইতোমধ্যেই বাজারে প্রাইসড ইন হয়ে থাকে বা বিনিয়োগকারীরা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি দেখেও দীর্ঘমেয়াদে শক্ত অবস্থান বজায় রাখে।
এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীরা শঙ্কা কিংবা উৎকণ্ঠা অনুভব করলে তারা “ভুলভাবে” বাজার থেকে বের হয়ে যায়, কিন্তু বাজার যখন স্থিতিশীল থাকে, তখন সেটি “বাজার আত্মবিশ্বাস” বা confidence signal হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মার্কিন হামলা এবং ভেনেজুয়েলার রাজনীতির অস্থিরতা কেবল ক্রিপ্টো বাজারকে নয়, গোটা অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। যেমন, তেলের দামের ওঠানামা, রপ্তানি-আমদানি শুল্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রণোদনা — সবকিছুর উপর এই ধরনের বড় ঘটনা সাধারণত প্রভাব ফেলে।
বিশেষত ভেনেজুয়েলা বিশ্বের একটি বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ হবার কারণে তেলের বাজারের ওঠানামাও অর্থনৈতিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে দিতে পারে। এই ইস্যুর পেছনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তি যেমন প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া, নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এই কারণে শুধুমাত্র ক্রিপ্টোসংক্রান্ত নিউজ নিয়েই বাজারের বিশ্লেষণ যথেষ্ট নয়; বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটও বিবেচনা করা জরুরি।
সংক্ষেপে বলা যায়:
- সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও বিটকয়েনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা $৯০,০০০ এর উপরে টিকে আছে, কিছু সময়ের জন্য মূল্য বৃদ্ধি পর্যন্ত দেখা দিয়েছে।
- বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এই ঘটনা ইতোমধ্যেই বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং অতিরিক্ত বড় পতনের পরিকল্পিত “ব্যাপক সংশোধন” হওয়ার সম্ভাবনা কম।
- অতীতের মতো ভূরাজনৈতিক ঘটনা সবসময় একই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না; বিটকয়েন কখনও ঝুঁকি-আসেট হিসেবে ওঠে আবার কখনও স্থিতিশীলতার পরিচায়ক হিসেবে কাজ করে।
- ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি একটি সম্মিলিত ইকোসিস্টেম তৈরি করে এবং এর প্রভাব ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ অন্যান্য ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটেও প্রকট হয়।
এ কারণেই বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদী, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র একটি ঘটনা বা সংবাদ দেখে বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
Related Posts
View All
২০২৫ সালের ৫টি সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এয়ারড্রপ: ফ্রি টোকেনেই কোটিপতি হওয়ার সুযোগ! | Top 5 Biggest Crypto Airdrops of 2025 That Created New Millionaires
২০২৫ সাল ক্রিপ্টোকারেন্সি ইতিহাসে এয়ারড্রপের জন্য একটি যুগান্তকারী বছর। Berachain, Pudgy Penguins, LayerZero সহ একাধিক প্রকল্প বিনামূল্যে কোটি কোটি ডলারের টোকেন বিতরণ করেছে। এই প্রতিবেদনে জানুন ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় ৫টি ক্রিপ্টো এয়ারড্রপ, তাদের প্রভাব, সুযোগ এবং ঝুঁকি।

🌍 ৮০০ বিলিয়ন মূল্য! SpaceX নিয়ে বিনিয়োগ জগতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আলোড়ন! | Elon Musk’s SpaceX Set to Become the World’s Most Valuable Private Company
SpaceX তাদের নতুন insider share sale-এর মাধ্যমে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের অভাবনীয় ভ্যালুয়েশনের দিকে এগোচ্ছে। সম্ভাব্য এই মূল্যায়ন বিশ্বের শীর্ষ প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকেও পেছনে ফেলবে। বিস্তারিত পড়ুন ajkerbishshow.press-এ।







