রাশিয়ার তেল বাণিজ্যে চীনের প্রভাব – যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা! | Why America’s Sanctions on Russian Oil Are Failing?
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, চীনের ক্রয় মস্কোর আয়ের ধারা অব্যাহত রাখছে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখায় কিভাবে রাশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব।

রাশিয়ার তেল বাণিজ্যে চীনের প্রভাব – যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা! | Why America’s Sanctions on Russian Oil Are Failing? - Ajker Bishshow
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়িয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক লাইন-কাটার চেষ্টা করলেও, Foreign Affairs-এর প্রতিবেদনে মূল যুক্তি হলো: যতক্ষণ চীন (Beijing) রাশিয়ার তেল কিনে যাচ্ছে, মস্কোর ওপর ঐ নিষিদ্ধতার প্রভাব সীমিত থেকেই যাবে। অন্য কথায়, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা এতটা শক্তিশালী নয় — কারণ চীনের ক্রয়ই মস্কোর আয়ের বড় অংশকে অব্যাহত রাখছে।
নিষিদ্ধতার সীমাবদ্ধতা: যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বনাম বাস্তবতা
১. চীনের নির্ভরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাশিয়ার রপ্তানির বিশাল অংশ এখনও চীনে যাচ্ছে। মস্কো তাদের তেল বিক্রির এক বড় অংশ চীনের কাছে বিক্রি করতে পারছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধতাকে মূলত “অর্ধ‑প্রভাবশালী” করে তোলে।
- পরিহারযোগ্য পথ – শ্যাডো ফ্লিট এবং মধ্যস্বত্বভোগী
- রাশিয়া শ্যাডো ফ্লিট (shadow fleet) নামে গোপন পাবলিক/প্রাইভেট নোড ব্যবহার করছে — যার মাধ্যমে তারা নিষিদ্ধতা এড়িয়ে বড়মাপের তেল রপ্তানি চালিয়ে দেয়।
- এছাড়া, রসনেফট ও লুকওইলের মতো বড় তেল কোম্পানি সরাসরি চীনের কোম্পানির সঙ্গে লেনদেন না করেও, মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই তেল বিক্রি করে — যা নিষিদ্ধকরণের জটিলতা বাড়ায়।
- শুল্ক‑হুমকি ও পাল্টা চাপ
- যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই আইনগত প্রস্তাব আলোচনা করছে, যেখানে চীনসহ তেল কিনে যারা সাপ্লাই করছে, তাদের ওপর দ্বিতীয়-স্তরের শাস্তি (secondary tariffs) আরোপ করা হবে। বিশেষ করে, এমন একটি বিল রয়েছে যা চীনের ওপর ৫০০% শুল্ক আরোপ করার সুযোগ দেয়।
- তবে, চীন এসব হুমকিকে “এনার্জি সার্বভৌমত্বের অধিকার” বলে অস্বীকার করেছে, এবং জানিয়েছে তারা নিজের জ্বালানির সুরক্ষা হবে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া
- চীনের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর আচরণ পরিবর্তন
- সম্প্রতি একাধিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে, চীনের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি (যেমন PetroChina, Sinopec, CNOOC, Zhenhua Oil) রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল কেনা স্থগিত করেছে।
- রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া
- চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধতাকে “একতৈতপন্থী” (unilateral) বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশিই, মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট চীনা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন যে, যদি তারা নিষিদ্ধ রাশিয়ার তেল কিনতে থাকে, তাহলে ১০০%-এরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
- চীনের অস্থায়ী সমন্বয়?
- যদিও কিছু প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার তেল কেনা স্থগিত করেছে, কিন্তু আলোচনায় থাকছে যে তারা পুরোপুরি বন্ধ করবে কি না — অর্থনৈতিক দিক থেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
বিশ্লেষণ: কেন নিষিদ্ধতা “দাঁতবিহীন”?
- লাভ‑ক্ষতি বিশ্লেষণ
- – যদিও যুক্তরাষ্ট্র কিছু শীর্ষ রুশ তেল কোম্পানিকে লক্ষ্য করে কঠোর কর অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু চীনের ক্রয়ের অব্যাহত প্রবাহ মস্কোর রাজস্বকে একটুও পুরোপুরি স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারছে না।
- – রাশিয়া উপযুক্ত দাম, মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থাপনা এবং শ্যাডো ফ্লিট ব্যবহারের মাধ্যমে নিষিদ্ধতার চাপে থেকে নিজের আয়ের ধারা ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
- কৌশলগত সীমাবদ্ধতা
- – যুক্তরাষ্ট্র একাই চীনের ওপর সরাসরি শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করলেও, এটি চীনের “জ্বালানি সার্বভৌমত্ব” ও শক্তিশালী আভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে দ্বন্দ্বে পড়তে পারে।
- – পাশাপাশি, শুল্ক আরোপ করার ঝুঁকি রয়েছে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিহিংসার তরুণায়: চীন বৈকল্পিক জ্বালানি উৎস বা রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে পারে।
- ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
- – মার্কিন নিষিদ্ধতাকে আরও কার্যকর করতে হলে এবং মস্কোর আয়ের ধারাকে প্রতিহত করতে হলে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রয়োজনে কঠোর দ্বিতীয়-স্তরের শাস্তি আরোপ কৌশল গঠন জরুরি হবে।
- – তবে, শুধু শাস্তি আরোপ কর দিয়েই পুরো সমস্যার সমাধান আসতে পারে না: বিকল্প সিল্ক রুট, স্বল্পমূল্য তেল উৎস এবং চীনা সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া – এসব কৌশলগত দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় আনতে হবে।
Foreign Affairs-এর প্রতিবেদনের আলোকে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ান তেলে নতুন পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপুর্ন হলেও তারা “দাঁতবিহীন” হতে পারে, যদি চীনের ক্রয় অব্যাহত থাকে। মস্কো বেশ কিছু গোপন রপ্তানির পথ তৈরি করেছে, যা নিষিদ্ধতার চাপকে কিছুটা হালকা করে দেয়।
যদিও সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে — যেমন চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর অংশকালের স্থগিতাদেশ — কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনও পুরোপুরি পরিস্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি রাশিয়ার তেল রাজস্ব কমাতে চায়, তাহলে শুধু শাস্তিমূলক নিষিদ্ধতা নয়, একটি স্ট্র্যাটেজিক‑কৌশলগত এবং বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করতে হবে।
সমগ্র বিশ্ব জ্যোতিষ্কভাবে নজর দিচ্ছে: চীনের সিদ্ধান্ত কি একদফা বাধা হবে নাকি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও মস্কোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তন ঘটাবে?
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






