ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: সিরিয়ায় আবারও মার্কিন সৈন্য মোতায়েন!
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আবারও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দামেস্কের কাছে নতুন ঘাঁটি নির্মাণ, ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং “Boots on the Ground” কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হয়তো যুদ্ধ নয়—বরং প্রভাব ব

ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: সিরিয়ায় আবারও মার্কিন সৈন্য মোতায়েন! - Ajker Bishshow
এই প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করব Donald Trump-এর সিরিয়া নীতি, বিশেষ করে “মাঠে পদক্ষেপ” বা boots-on-the-ground কৌশলের দিকে যেসব পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে পুনঃসংযোজন করছে, এবং এটির সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে।
সিরিয়া দীর্ঘ বছর ধরে গৃহযুদ্ধের শিকার — Bashar al‑Assad শাসিত সরকার, বিদ্রোহী গোষ্ঠী, বিদেশি শক্তি (রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক) ও জঙ্গিগোষ্ঠীর জটিল মিশ্রণ তৈরি করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্বেও সিরিয়ায় সক্রিয় ছিল, বিশেষ করে Islamic State (আইএস) বিরোধী অভিযানে এবং কুর্দি নেতা the Syrian Democratic Forces (SDF) সহায়তায়।
২০২৫ সাল নাগাদ ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিরুদ্ধে বেশিরভাগ সঙ্ক্রানি (sanctions) তুলে নিয়েছে।
২. “মাঠে পদক্ষেপ” – নতুন ধাপ
২.১ মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা
সম্প্রতি তথ্য পাওয়া গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার রাজধানী Damascus-র কাছে একটি বিমান ঘাঁটি প্রস্তুত করছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী একটি মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ভূমিকায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে পরিমাণ বা সময়সূচি পরিষ্কার নয়।
২.২ উদ্দেশ্য ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
এই ধরনের পদক্ষেপের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে:
- প্রথমত, সিরিয়া ও Golan Heights/ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
- দ্বিতীয়ত, সিরিয়া-ইসরায়েল শান্তি আলোচনা বা নিরাপত্তা চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
৩. নীতি পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি
ট্রাম্প প্রশাসনের আগের নির্দেশ ছিল “মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সেনা মোতায়েন নয়” — তবে বর্তমানে এটি প্রতিফলিত হয় নি। উদাহরণস্বরূপ, সংস্থা যেমন Responsible Statecraft বলেছে, “সিরিয়ানরা তাদের দেশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কূটনীতি ও সঙ্ক্রানি তুলে দেওয়া, হুটহাট সেনা মোতায়েন নয়।”
আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সিরিয়া নীতিতে বেশ কয়েকবার ঘোরাফেরা করেছেন — একদিকে সেনা প্রত্যাহার ঘোষণা, অন্যদিকে পুনরায় অবস্থান বৃদ্ধি।
৪. সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকিসমূহ
৪.১ ভূরাজনৈতিক প্রভাব
- যুক্তরাষ্ট্র যদি সিরিয়ায় আবার দৃশ্যমান ভূয়সী উপস্থিতি বাড়ায়, তাহলে রাশিয়া ও ইরানের ভূমিকা প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
- সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের মনিটরিং বৃদ্ধি হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কনফিগারেশনে পরিবর্তন আসতে পারে।
- সিরিয়া কর্তৃক নতুন সরকারের উত্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্ক্রানি শিথিলকরণ একাধিক সংযুক্ত ধাপ।
৪.২ ঝুঁকি ও চুরান্ত বিষয়
- মার্কিন সেনা পুনরায় মোতায়েন হলে “মার্কিন ট্যাংগো একা নয়” বিধায় রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী রূপ হবে — যুদ্ধবিরতি রক্ষা, হিউমেনিটারি ভূমিকা, পুরোপুরি যুদ্ধস্থল নিয়ন্ত্রণ — তা অস্বপষ্ট।
- স্থানীয় অংশীদার ও সিরিয়া-আভ্যন্তরীণ বাস্তবতা (ইতিহাস, সামরিক গোষ্ঠী, জনবহর) এই নীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
৫. সারাংশ ও চিত্র
ট্রাম্প প্রশাসনের সিরিয়া পরিকল্পনায় মূল পরিবর্তন হলো — “মাঠে পদক্ষেপ” অর্থাৎ পুরনো ধারার সেনা প্রত্যাহার ধাপ থেকে আবার সক্রিয় ভূমিকার দিকে ফিরে যাওয়া। তবে এটি কোনো আগ্রাসী সেনা অভিযান নয়, বরং পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে পুনরনির্ধারিত অবস্থান।
এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন চিত্র আঁকতে পারে — সিরিয়া, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক পুনরসংগঠিত হতে পারে। তবে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






