ট্রাম্প উইটকফকে রক্ষা করলেন: অডিও লিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি রাশিয়ার পক্ষে? | Trump Defends Witkoff Amid Leak Showing Him Coaching Russia
গত ১৪ অক্টোবরের একটি ফোন কলের গোপন ট্রান্সক্রিপ্ট ফাঁস হওয়ার পর ঘোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে — ফোনটিতে বলা হচ্ছিল, রুশ কর্মকর্তাদেরকে শেখানো হচ্ছিল কিভাবে Vladimir Putin — Donald J. Trump’কে “শান্তির পুরুষ” হিসেবে প্ররোচিত করাবে। সেই আলোচনা হয়েছিল Ukraine–Russia যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে। ফ

ট্রাম্প উইটকফকে রক্ষা করলেন: অডিও লিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি রাশিয়ার পক্ষে? | Trump Defends Witkoff Amid Leak Showing Him Coaching Russia - Ajker Bishshow
২০২২ সালের পর থেকে Donetsk ও Luhanskসহ পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, যুদ্ধ, এবং জমি দখলের জন্য বিশ্বমঞ্চে ব্যাপক নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে মস্কো। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সাবলম্বনায়, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে, জোরালো সমর্থন জোরালো করছে। এমন এক সময়ে, ২০২৫ সালের শুরুতে দিক বদল দেখে মনের ভেতর প্রশ্ন জাগে — যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী?
এমন এক প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচিত করেছে উইটকফকে — যিনি কূটনৈতিক পেশাদার নন, বরং ব্যবসায়িক পটভূমি থেকে আসা — রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধকে বন্ধ করার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে।
কেন উইটকফ?
উইটকফ দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের আত্মীয়‑মিত্র ব্যবহৃত। তাঁর বাণিজ্যিক পটভূমি, “ডিলমেকার” হিসেবে খ্যাতি, এবং যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া মধ্যে গোপনী বা অফিশিয়াল নয় এমন ব্যাক-চ্যানেল ব্যবহারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
কিন্তু কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়ম–নীতি, আনুষ্ঠানিকতা, স্বচ্ছতা, এবং মধ্যস্থতার মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে, এই ধরনের ব্যক্তিগত বা ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতি সর্বদা সন্দেহ এবং বিতর্কের জন্ম দেয়।
লিক হওয়া ফোন কল — কী ঘটেছে?
২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর, উইটকফ এবং রাশিয়ার এক সিনিয়র বিদেশনীতি উপদেষ্টা Yuri Ushakov–র মধ্যে একটি ফোন কল হয়েছিল। সেই কলের বিস্তারিত ট্রান্সক্রিপ্ট (যা পরে সাংবাদিক সংস্থা Bloomberg News প্রকাশ করে) দেখায় — উইটকফ রুশ পক্ষকে পরামর্শ দিচ্ছিল, কিভাবে তারা ট্রাম্পের মন জয় করবে।
কলের কিছু অংশ (ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী) ছিল:
“I would make the call and just reiterate that you congratulate the president on this achievement… that you respect that he is a man of peace and you’re just … really glad to have seen it happen.”
উইটকফ আরও বলে — “maybe we set out like a 20‑point peace proposal, just like we did in Gaza” — ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যে প্রস্তাবটি তারা রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৈরি করতে চাচ্ছেন, যার কাঠামো হয়তো গাজার শান্তি আলোচনা অনুযায়ী।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ছিল, উইটকফ যুক্তি দিচ্ছেন — “I know what it’s going to take to get a peace deal done: Donetsk and maybe a land swap somewhere.” অর্থাৎ, ডোনেটস্ক অঞ্চলের বিষয়ে রুশ শর্ত মেনে নেয়া, সম্ভবত ভূমি বিনিময়সহ।
এই কথোপকথন হয় গোপনভাবে, এবং সাংবাদিকতায় প্রকাশিত হওয়ার আগে অফিসিয়াল বা ইউক্রেনীয় দিককে জানানো হয়নি।
পরবর্তী সময়ে এই ট্রান্সক্রিপ্ট ফাঁস হলে — ছিল যোগ্য বিতর্ক ও চরম সমালোচনা: অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রি মধ্যস্থতার নামে রাশিয়ার পক্ষে কাজ করা হচ্ছে; ইউক্রেনের স্বার্থ বিপন্ন হচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও যুক্তি
ফোন কল ফাঁস হওয়ার পর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি অফিসিয়ালভাবে স্কুপ শুনেননি, কিন্তু এটি “স্ট্যান্ডার্ড নেগোসিয়েশন” — ডিলমেকারের কাজ।
উনি বলেন — “He’s got to sell this to Ukraine. He’s got to sell Ukraine to Russia.” অর্থাৎ, মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল, এবং উভয় পক্ষকে রাজি করানো ছিল কাজ।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, উইটকফ “ডিল করছিলেন” অন্যদিকে পক্ষকে বোঝানোর জন্য, এবং এটি দুর্নীতিপূর্ণ বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এছাড়া, তিনি জানিয়েছেন — রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়কেই প্রস্তাব উপস্থাপন করার চেষ্টা হচ্ছিল।
ফলে, মার্কিন প্রশাসন এবং ট্রাম্পই এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে — অন্তত তাদের মতে — গ্রহণযোগ্য এবং যুক্তিসংগত বলছেন।
সমালোচনা, ভয় ও বিতর্ক
তবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এবং বিশেষ করে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে — এই “কর্মপ্রক্রিয়া” নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
- নিরপেক্ষতার প্রশ্ন: যখন একজন মার্কিন “নিযুক্ত” বিশেষ দূত একপাশের (রাশিয়া) দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন — তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী? এর মধ্যে স্বপ্ন নেই কি রুশ প্রভাব বৃদ্ধি, ইউক্রেনের স্বার্থ নস্যাৎ?
- ভরসা ও স্বচ্ছতার অভাব: কল গোপনে, এবং পরে ফাঁস — এই ধরণের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতা দূর করে দিতে পারে।
- ইউক্রেনের স্বার্থ ও লালরেখা: ডোনেটস্ক বা যেকোনো অংশের ভূ-দান একটি চরম লালরেখা ইউক্রেনের জন্য। এমন অনুমানের ভিত্তিতে পরিকল্পনা তৈরি হলে — ইউক্রেনের জনগণের প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধবিরতিশংস্য সবই ঝুঁকির মুখে।
- অ্যালায়েন্স এবং পক্ষে-পক্ষে দ্বিধা: পশ্চিমা দেশগুলো (ইউরোপীয় দেশ, NATO মিত্ররা) ইতিমধ্যেই সাবধান; এমন পরিকল্পনা ইউক্রেনের স্বার্থ এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নীতি উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্র — এর মত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সামনে এনে — তার “মিডিয়ার ও মিডল-ম্যান” কৌশলকে সক্রিয় করছে, যা অনেকের মতে ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক বিধি-নিয়মকে উপেক্ষা।
কি হলো — এবং পরবর্তী গতিপথ
ফোন কল ফাঁসের পরেই, মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য, বিশেষ করে কিছু রিপাবলিকান, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন — উইটকফ বিশ্বাসযোগ্য নয়, এমন একজন যিনি রাশিয়ার বন্ধু, তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব দেয়া উচিত নয়।
রাশিয়া, মস্কোর উপদেষ্টা উশাকভ বলেছে — কল ফাঁস “অগ্রহণযোগ্য” এবং তিনি বলেছেন তারা বিষয়টি নিয়ে উইটকফের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।
উইটকফকে আগামী সপ্তাহে মস্কোতে পাঠানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, সম্ভবত Jared Kushner — ট্রাম্পের জামাত — সঙ্গী হিসেবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন ও তার মিত্ররা — বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো — আরও বেশি সাবধান; তারা বলছে, যদি প্রস্তাব রাশিয়ার — এবং ইউক্রেনের স্বার্থহীন — হয়, তাহলে সেটি শান্তি নয়, রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ হবে।
ফলে, পথ এখন স্পষ্ট নয়: হয় মধ্যস্থতা, হয় নতুন উত্তেজনা।
বিশ্লেষণ — এর অর্থ কী বাংলাদেশ এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে?
যেখানে যুদ্ধ ও শান্তি নির্ণয় হয় কূটনৈতিক কৌশল, ধাপে ধাপে, — সেখানে মিডল-ম্যান বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার নির্বাচন করা হচ্ছে, কার ওপর বিশ্বাস রাখা হচ্ছে — সেটি অনেক বড় প্রশ্ন।
- প্রথমত, এটি দেখায় কিভাবে দেশগুলো “ব্যাক-চ্যানেল ডিল” পছন্দ করছে, যেখানে গোপন আলোচনা, চাপ, এবং প্রভাব‑বল প্রয়োগ হয়; ক্লাসিক কূটনীতি থেকে অনেক দূরে।
- দ্বিতীয়ত, এটি নতুন ধরণের কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করে: স্বচ্ছতার অভাব, বিশ্বাসহীনতা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ছোট দেশগুলি, বা যাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ অনেক বেশি প্রভাবিত হয় — তার জন্য এটি বিপজ্জনক।
- তৃতীয়ত, একটি বড় পরিমাপ — যদি এমন মিডল-ম্যান দলে ব্যবসায়ী, অপরিচিত এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হয় — তাহলে ন্যস্তিক ও ন্যায়িক ভিত্তিতে শান্তি প্রক্রিয়া কতদূর স্থির হতে পারে?
বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে যুদ্ধ, বিদেশি আগ্রাসন, অথবা রাজনৈতিক চাপে শান্তি বা কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন হতে পারে — এই ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরী। অর্থাৎ একবার “ডিল” হয়ে যাওয়ার পর, প্রকৃত স্বার্থ, মান‑দণ্ড, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উৎপত্তি থাকা জরুরি।
বিশ্বমঞ্চে শান্তি বা যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কখনো সরল নয়। কিন্তু যদি মধ্যস্থতাকারী নিজেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়, কিংবা শক্তিশালী প্রভাব‑শক্তির অংশ হয় — তাহলে সেটি শান্তি নয়, ক্ষমতার বিনিময় বা রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ হয়ে যেতে পারে।
গোপন কল ফাঁস এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, কিভাবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এবং “ডিলমেকার” শব্দ দুটো মেশানো হতে পারে — এবং তার মাধ্যমে শান্তির নামে এমন পরিকল্পনা গঠন হতে পারে যা প্রকৃতপক্ষে একজন পক্ষের জন্য হলেও।
ট্রাম্পের পক্ষে, উইটকফ হয়তো আরও এক “ডিলমেকার” — কিন্তু বিশ্বমঞ্চে, কূটনীতি কেবল ব্যবসা নয়। শান্তি আর অধিকার, নিরাপত্তা আর ন্যায়, এই মূল্যগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে, পন্থা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রগুলোর।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে — Ukraine ও তার মিত্ররা, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, এই ডিলকে শান্তির পথে নিতে পারবে কিনা; নাকি এটি পরিষ্কার‑স্বচ্ছ—not, এবং ভবিষ্যতে আরও বড় শঙ্কার পথ খুলে দেবে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






