গাজা তদারকিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এ বিশ্বনেতারা যোগ দেবে: ট্রাম্প | Trump claims most major world leaders will join US-led ‘Board of Peace’ for Gaza oversight
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য গঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন “বোর্ড অব পিস”-এ বিশ্বের প্রায় সব বড় দেশের নেতারা যোগ দিতে আগ্রহী। জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়া এই পরিকল্পনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গাজা তদারকিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এ বিশ্বনেতারা যোগ দেবে: ট্রাম্প | Trump claims most major world leaders will join US-led ‘Board of Peace’ for Gaza oversight - Ajker Bishshow
Times of Israel (ToI)–এর সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলোর আলোকে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে গাজার জন্য “বোর্ড অব পিস” গঠন করার পরিকল্পনা করছেন, তা শুধু একটি মার্কিন দৃষ্টান্তই নয়, তা ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনগত ভিত্তি পেতে শুরু করেছে। তবে এই পরিকল্পনায় বিশ্ব নেতাদের অংশগ্রহণের বক্তব্য এবং বাস্তবায়ন খাতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মূল দৃষ্টিকোণ এবং আপডেট
- বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণের দাবি
- ট্রাম্প বলেছে, তার “বোর্ড অব পিস”-এ "প্রায় প্রতিটি বড় দেশের প্রধান থাকবে" (“the heads of every major country”)।
- তিনি সাওদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানকে সরাসরি Board-এ থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
- ToI রিপোর্টে বলা হয়েছে ট্রাম্প Dinner এ বলেছে, “Everybody wants to be on the board … it'll end up being quite a large board.”
- জাতিসংঘ সম্মতি এবং আইনগত মান্যতা
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি রেজোলিউশন (UNSC) পাস করা হয়েছে যা ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।
- এই রেজোলিউশন “বোর্ড অব পিস” গঠনকে স্বীকৃতি দেয় ও তা গাজার পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পাবে।
- রেজোলিউশনটি একটি “International Stabilization Force (ISF)” মোতায়েন করার অনুমোদনও দেয়, যা গাজার নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
- বোর্ড অব পিসের কাঠামো ও দায়িত্ব
- ট্রাম্প বলেছে বোর্ডে টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে।
- এই বোর্ড বিশ্বব্যাংক-এর সঙ্গে কাজ করবে এবং গাজার জন্য নতুন প্রশাসনিক সরকার গঠন করবে – যা প্যালেস্টিনিয়ান প্রযুক্তওক্র্যাট (technocrat) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মিশ্রন হবে।
- বোর্ডের মেয়াদ এবং ক্ষমতার পরিধি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু সে পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও গাজার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা বলেছে।
- নিরাপত্তা ও শর্ত
- গাজার পুনর্গঠন শুরুর শর্ত হিসেবে অনেক নেতা বলছেন, গাজা ডেমিলিটারাইজড হতে হবে এবং নতুন প্যাকেট গঠন করার সময় একটি নতুন “নাগরিক পুলিশ বাহিনী” গঠন করার কথা আছে।
- ট্রাম্প দাবি করেছেন যে অনেক “রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও মর্যাদাশালী নেতারা” ইতিমধ্যেই বোর্ডে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
- তবে ToI রিপোর্টে বলা হচ্ছে কিছু দেশ এবং কূটনীতিক বোর্ড এবং ISF-এর ম্যান্ডেট, দায়িত্ব ও গেজার আস্থাভাজন প্রশাসন গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
- বিরোধ ও প্রতিক্রিয়া
- কিছু দেশের মধ্যে সংলাপ চলছে যে ট্রাম্পের বোর্ড প্ল্যানকে সমর্থন করা উচিত কি না।
- কিছু কূটনীতিক ও রাষ্ট্র বলছেন যে যদিও গাজার অবস্থা পরিবর্তন প্রয়োজন, কিন্তু আন্তর্জাতিক বোর্ড যদি স্বচ্ছ না হয় বা স্থানীয় অংশগ্রহণ না থাকে, তাহলে তা নতুন সমস্যার কারণ হতে পারে।
- গাজার বর্তমান অবস্থা – সংশোধনের চাহিদা, ধ্বংসস্তূপ, দারিদ্র্য – এমনভাবে গভীর যে, বোর্ড গঠন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল পরিকল্পনা না হলে বাস্তব চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাবে।
- তথ্যগত প্রশ্নাবলী ও পরবর্তী ধাপ
- কে বোর্ডে থাকবে, এবং “প্রতিটি বড় দেশের প্রধান” মানে ঠিক কারা বোর্ডে যাচ্ছেন — এখনও বেশ অনিশ্চয়তা আছে।
- বোর্ডের মেয়াদ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া, আর্থিক উৎস ও দায়বদ্ধতা কী হবে – এগুলোর স্পষ্টকরণ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
- গাজার সাধারণ জনগণ, বিশেষত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে থাকা জনগণ, বোর্ড এবং ISF-এর প্রতি আস্থা রাখবে কি না, সেটা বড়ো প্রশ্ন।
- রূপায়ণ শুরু করতে গেলে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, এবং গৃহায়ন সমস্যা সুলভভাবে সমাধান করতে হবে এবং এটি সময়সাপেক্ষ ও সুক্ষ্ম কাজ।
বিশ্লেষণ ও ফলাফল
- রাজনৈতিক গুরুত্ব: Times of Israel-এর রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট যে ট্রাম্প এই বোর্ডকে শুধু ফর্মালিটি হিসেবে ভাবছেন না — তিনি এটিকে গাজার ভবিষ্যতের প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রশাসন হিসেবে গড়তে চান।
- ম্যান্ডেট ও আইনগত গঠন: UNSC-এর অনুমোদন বোর্ড অব পিসকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেয়, যা পরিকল্পনাটিকে কেবল এক মার্কিন দৃষ্টান্ত না রেখে একটি বহুপক্ষীয় স্থিতি দিতে পারে।
- ঝুঁকি ও অস্থিরতা: তবে অনেক পড়ে আছে — যদি বোর্ডে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্টভাবে নাম না দেন বা বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাঠামো অপরিষ্কার থাকে, তাহলে পরিকল্পনা কার্যকারিতাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার দিকে ঝুঁকতে পারে।
- গাজার জনগণের দৃষ্টিকোণ: গাজার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বোর্ড কীভাবে সংযুক্ত হবে, এবং তাদের অংশগ্রহণ থাকবে কি না — এই বিষয়গুলো শান্তি এবং পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






