ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ | Trump Administration Unveils 28-Point Peace Plan for Ukraine–Russia Conflict
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যেসব নতুন ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। নিরাপত্তা গ্যারান্টি থেকে শুরু করে ভূখণ্ড ইস্যু, ন্যাটো সদস্যপদ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন—সবকিছু নিয়েই বিতর্ক ও সম্ভাবনার জট খুলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ | Trump Administration Unveils 28-Point Peace Plan for Ukraine–Russia Conflict - Ajker Bishshow
নতুন করে আলোচনায় ফিরে এসেছে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রশ্ন: কীভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা যায়? গতকাল (২০২৫ সালের নভেম্বর) রিপোর্ট করা হয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একটি ২৮-পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং সেটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার কিছু দৃষ্টিকোণ ইউক্রেন ও পশ্চিম পক্ষকে উদ্বিগ্ন করেছে, আবার অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে “ইনিশিয়েটিভ” হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো পরিকল্পনাটির মুখ্য ধারা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব।
পরিকল্পনার মূল ধারাগুলি
২৮-পয়েন্ট পরিকল্পনাটি একটি ব্যাপক ও গঠনমূলক ফ্রেমওয়ার্ক দেয় যা শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নীতিই নয়, পুরনো এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দৃষ্টিকোণও অন্তর্ভুক্ত করে।
১. নিরাপত্তা গ্যারান্টি:
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ইউক্রেন “ভরসাযোগ্য নিরাপত্তার গ্যারান্টি” পাবে।
বিশেষত, এটি নেটো-এর আর্টিকেল ৫-এর মতো গ্যারান্টি মডেল করেছে: যদি ভবিষ্যতে রাশিয়া ইউক্রেনে একটি “গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয় এবং ধারাবাহিক সশস্ত্র আক্রমণ” চালায়, তাহলে তা “ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক কমিউনিটির” শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ধরা হবে এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া (সম্ভবত সামরিক) গঠন করা হবে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে: গ্যারান্টি বাতিল হতে পারে যদি ইউক্রেন রাশিয়ার প্রতি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, যেমন মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে ক্ষেপণাস্ত্র চালানো।
২. সশস্ত্র বাহিনী সীমাবদ্ধতা ও ন্যাটো-সংশ্লেষ ব্যতিরেক:
পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে তার সেনাবাহিনীর আকার প্রায় ৬০০,০০০ ব্যক্তিতে সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এবং সবচেয়ে প্রতীদ্বন্দ্বিত হলো: ইউক্রেনকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যে তারা ভবিষ্যতে ন্যাটোতে যোগ দেবে না।
ন্যাটো পক্ষেও বলা হয়েছে যে তারা ভবিষ্যতে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
এছাড়াও, ন্যাটো সৈন্যদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা হবে না।
৩. আঞ্চলিক এবং প্রান্তবর্তী অঞ্চলের সিদ্ধান্ত:
পরিকল্পনা কিছু এলাকা সম্পর্কে মস্কোর প্রস্তাবসমূহকে আইনগত স্বীকৃতি দেয় — যেমন, ক্রিমিয়া, দোনেটসক ও লুহানস্ককে “de facto রাশিয়ান” হিসেবে স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, খেরসন ও জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলের বিষয় “ফ্রোজেন” রেখা অনুসারে তাদের লাইন বজায় রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কিছু অংশকে নিরস্ত্র এলাকা বা বাফার জোন হিসেবে নির্ধারণ করার ধারণাও আছে, যেখানে মস্কোর নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে কিন্তু সরাসরি উত্তেজনা ও সংঘর্ষ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হবে।
এবং দুই পক্ষই প্রতিশ্রুতি দেবে যে ভবিষ্যতে সীমান্ত বলপ্রয়োগ করে পরিবর্তন করা হবে না।
৪. অর্থনীতি ও পুনর্গঠন:
পরিকল্পনায় ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে কেন্দ্রমূলক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‒ একটি উন্নয়ন ফান্ড গঠন করা হবে, যেখানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মিলিতভাবে ইউক্রেনে বিনিয়োগ করবে, বিশেষত অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং দুঃস্থ অঞ্চলের পুনর্নির্মাণে।
‒ বিভিন্ন স্থগিত রাশিয়ান সম্পদের ব্যবহারও প্রস্তাবিত: প্রায় ১০০ বিলিয়ন USD জব্দ করা রুশ সম্পদ ইউক্রেন পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।
‒ ইউরোপও অতিরিক্ত অর্থ দেবে: ইউরোপ থেকে আরও ১০০ বিলিয়ন যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।
‒ কিছু অংশ এমন বিনিয়োগ প্রকল্পে যাবে যা আমেরিকা ও রাশিয়া উভয়ের মধ্যে যৌথ হবে, মাইনারাল রিসোর্স, এআই, অবকাঠামো ইত্যাদিতে।
‒ এছাড়া, রাশিয়াকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে আনার দৃষ্টিকোণও আছে: পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে রাশিয়া ধাপে ধাপে নিষিদ্ধাজ্ঞা (sanctions) তুলে নেওয়া হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ খুলে দেওয়া হবে।
‒ রাশিয়া আবার G8 (গ্রুপ অফ ইট)-এ ফিরে আসতে পারে—এই ধারাটিও প্রবেশ করেছে।
৫. পারমাণবিক ও নিরাপত্তা চুক্তি:
- ইউক্রেনকে একটি নিউক্লিয়ার অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখা হবে (Non-proliferation treaty অনুযায়ী)।
- জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র (Zaporizhzhia NPP)-এর ব্যবস্থাপনা IAEA (আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা)-এর তত্ত্বাবধানে হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করা হবে — ৫০–৫০ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে।
- পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হবে এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি পুনর্বিচার করার প্রস্তাব রয়েছে।
৬. মানবতাবাদী ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ:
একটি হিউম্যানিটেরিয়ান কমিটি গঠন করা হবে, যা যুদ্ধকালীন বন্দি ও মরদেহ বিনিময়, পরিবার পুনর্মিলন, শিশুদের উদ্ধার, ও আহতদের পুনর্বাসন পরিচালনা করবে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মভেদী সহনশীলতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব আছে।
উভয় দেশকে ইহিংকার আধিকারিক আলোচনা করতে হবে এবং “নাজি আদর্শ, বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ” বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
৭. রাজনৈতিক গ্যারান্টি ও মেকানিজম:
- এক আইনগত পারস্পরিক চুক্তি গঠন হবে, যা পুরো ২৮-পয়েন্ট প্রস্তাবকে বাধ্যবাধক করবে।
- একটি পিস কাউন্সিল (Peace Council) গঠন করা হবে, যার চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি চুক্তির বাস্তবায়ন নজরদারি করার দায়িত্ব পাবে এবং লঙ্ঘন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করবে।
- একবার সব পক্ষ চুক্তির উপর সম্মত হলে, তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
৮. নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন:
পরিকল্পনা অনুসারে, চুক্তি স্বাক্ষরের ১০০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, যুদ্ধের সময় মধ্যে হওয়া কার্যক্রম এবং অপরাধের জন্য পূর্ণ ক্ষমা (amnesty) দেওয়ার ধারা রয়েছে; উভয় পক্ষ পুরানো দাবিদাওয়া ও মামলা আর তুলবে না।
প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
এই বিশাল পরিকল্পনা অবশ্যই রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে:
- ইউক্রেইন কর্তৃপক্ষের সঙ্কোচ ও সমঝোতার মানসিকতা
- প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছে যে তিনি পরিকল্পনাটি “ভিজন” (দৃষ্টিকোণ) হিসেবে দেখছেন, এবং তার প্রশাসন এই পয়েন্টগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “স্বচ্ছ ও সততার সঙ্গে কাজ করতে” রাজি হয়েছে।
- তাঁর দফতর জানিয়েছে, তারা আরও “গভীর আলোচনা” এবং সংশোধনী করার জন্য প্রস্তুত।
- তবে কিছু ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক এটিকে “অপ্রীতিকর” এবং “আবসার্ড” বলছেন, বিশেষ করে সেই পয়েন্টগুলো — যেগুলি রাশিয়ার দাবি খুব কাছাকাছি।
- পশ্চিম ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
- ইউরোপীয় নেতারা উদ্বিগ্ন যে স্বীকৃতি ও রূপান্তর খুব দ্রুত এবং একপক্ষভুক্ত উপায়ে করা হচ্ছে। কিছু কূটনীতিক বলছেন, পরিকল্পনাটি ইউক্রেনকে এক ধরণের “দাবার স্বীকার” করতে বাধ্য করছে এবং মনিটরিং ও গ্যারান্টি কাঠামোতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
- অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে — বিশেষত Peace Council-এর মাধ্যমে — কিন্তু কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন করছে, এক জন সাবেক প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) কেন্দ্রভুক্ত গঠনতন্ত্রে কীভাবে কার্যকরভাবে পরিচালনায় অংশ নিতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক গোপনমিত্র হিসেবে কী ভূমিকা নেবেন।
- ন্যাটো ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
- পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে ন্যাটো ঘাঁটি ইউক্রেনে থাকবে না এবং ইউক্রেন ভবিষ্যতে ন্যাটোতে যোগ দেবে না।
- অনেকেই বলছেন, এই ধরণের গ্যারান্টি তখনই কার্যকর হবে যদি তা সত্যিকার অর্থে আইনগতভাবে বাধ্যবাধক হয় এবং গ্যারান্টি প্রদানকারীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) সৎ প্রতিশ্রুতি দেখায়।
- আবার, পরিকল্পনার “সামরিক প্রতিক্রিয়া” প্রস্তাব স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যাত হয়নি — এতে প্রশ্ন রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ কীভাবে, কখন, এবং কোন সীমায় প্রতিক্রিয়া দেবে?
- আইনগত ও মানবাধিকার প্রভাব
- সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি ও সীমান্ত “স্থায়ীতা” প্রায় নিশ্চিত করতে চাওয়ায়, অনেক ইউক্রেনীয় নাগরিক উদ্বিগ্ন যে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড ও সংখ্যাগরিষ্ঠ বক্তৃতার অধিকার কীভাবে প্রভাবিত হবে।
- “ক্ষমা” (amnesty) ধারা উদ্বেগের কারণ: যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন বা যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এটি কিছু আন্তর্জাতিক আইনি বিশ্লেষকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছে।
- নির্বাচনের সময়সীমা (১০০ দিন) এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রস্তাব দ্রুত ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল
এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হলে এবং যদি উভয় পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারে, তাহলে এর সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবগুলির মধ্যে রয়েছে:
- যুদ্ধবিরতি: অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ, যা হাজারও সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশ ও ধ্বংসের ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে পারে।
- অর্থনৈতিক পুনর্গঠন: ইউক্রেনের ভাঙ্গাচোরা অবকাঠামোতে পুনর্নির্মাণ শুরু হতে পারে এবং রাশিয়ার凍結 সম্পদ একটি বৃহত্তর কাজে ব্যবহার হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা: নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, যদি তা কার্যকরভাবে এবং গণতান্ত্রিকভাবে বাস্তবায়িত হয়।
- রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পুনঃআত্মপ্রতিষ্ঠান: রাশিয়া ধাপে ধাপে পুনরায় বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারে, যা কিছু অংশে শান্তির একটি অনুষঙ্গ হতে পারে যদি তারা প্রযোজ্য প্রতিশ্রুতি রাখে।
অন্য দিকে, পরিকল্পনা যদি ব্যর্থ হয় বা অসম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ঝুঁকি সমূহও গুরুতর:
- ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আত্মপরিচয় সংকটে পড়তে পারে।
- স্বীকৃতি ও গ্যারান্টি অপব্যবহার বা লঙ্ঘন হতে পারে এবং শান্তি অধিক ঝগড়াহীন ও ন্যায়সঙ্গত না হলে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক আইনগত ও মানবাধিকার ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, বিশেষত যদি যুদ্ধাপরাধ বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষতিগ্রস্ত অধিকারের প্রশ্ন উঠতে থাকে।
- ইউক্রেনীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন হতে পারে, বিশেষত যারা ভূমিহীন, গৃহহীন বা যাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ২৮-পয়েন্ট শান্তি পরিকল্পনা যতই উদ্বেগজনক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হোক, একে অবহেলা করা যাবে না। এটি একটি জটিল, বহুস্তরীয় এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণিক প্রস্তাব, যা শুধু যুদ্ধবিরতির জন্য নয়, ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোতে গভীর পরিবর্তনের পথ দেখায়। ইউক্রেনের পক্ষে এটি খুবই কঠিন শর্ত থাকতে পারে — বিশেষ করে ভূখণ্ড হস্তান্তর, নিজ সেনাবাহিনী সীমিতকরণ এবং রাজনৈতিক গ্যারান্টি যেমন ন্যাটো-অর্ন্তগত অনুশাসন।
যানবাহন সিদ্ধান্ত হবে: জেলেনস্কি এবং তার প্রশাসন কীভাবে এই পরিকল্পনাকে গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী আলোচনায় তাদের দল কীভাবে “রেডলাইন” নির্ধারণ করবে, সেটা আগামী দিনগুলোর বড় প্রশ্ন। পশ্চিম এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং প্রতিশ্রুতি সত্যিই নির্ধারণ করবে, এই প্রস্তাবটি কেবল একটি কাগজে থাকা “দৃষ্টিকোণ” হবে নাকি শান্তির বাস্তব ভিত্তি গড়ে তুলবে।
⚠️ সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন প্রকাশিত সংবাদ এবং বিশ্লেষণ সুত্র (যেমন Axios, CBS News, EADaily) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত চুক্তি নয়, এবং “ড্রাফ্ট” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; সুতরাং ভবিষ্যতে এটি পরিবর্তন হতে পারে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






