SNAP খাদ্য সহায়তা ২০২৫: আদালতের জটিলতায় লক্ষাধিক আমেরিকান এখনো সহায়তার অপেক্ষায় | SNAP Food Aid 2025: Millions Left Waiting as Court Battles Stall Payments Across U.S.
আদালতের নির্দেশ আর সরকারি বাজেটের সীমাবদ্ধতার সংঘাতে আমেরিকার SNAP সহায়তা বিতরণে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। কিছু রাজ্যে অর্থ পৌঁছেছে, অনেকেই এখনো অপেক্ষায়।

SNAP খাদ্য সহায়তা ২০২৫: আদালতের জটিলতায় লক্ষাধিক আমেরিকান এখনো সহায়তার অপেক্ষায় | SNAP Food Aid 2025: Millions Left Waiting as Court Battles Stall Payments Across U.S. - Ajker Bishshow
আমেরিকার Supplemental Nutrition Assistance Program (SNAP), অর্থাৎ খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম — যা প্রতি মাসে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিককে গ্রোসারি বা কৃষি বাজার থেকে খাদ্য কেনার জন্য অর্থ দিয়ে থাকে — এখন বিতরণের দিক থেকে একটি বড় সংকটে পড়েছে।
ইস্যুটা মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরের জন্য সহায়তা অর্থের বাজেট ও বিতরণের ইস্যু থেকে উঠেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতি আর নতুনভাবে শুরু হওয়া শাটডাউন পরিস্থিতিতে SNAP-বিতরণের অর্থ নিয়ন্ত্রণে বাধা পড়েছে।
এই প্রতিবেদনে আমরা দেখে নেবো কী ঘটছে, কেন এমন ইস্যু ঘটছে, ভুক্তভোগীরা এখন কী অবস্থায়, রাজ্যভিত্তিক পার্থক্য কী এবং আগামী দিনের কি সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন বিপর্যয় শুরু হলো?
- ফেডারেল শাটডাউন শুরু হলে, সরকারের বাজেট প্রয়োজনে বাধাগ্রস্ত হয়। এখন SNAP-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রোগ্রামে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
- প্রশাসন বলেছে, নভেম্বর মাসের SNAP-বিতরণে পুরো অর্থ নেই — এবং শুধুমাত্র জরুরি তহবিল থেকে বা সীমিত বরাদ্দ থেকে কাজ করা হবে।
- একাধিক ফেডারেল বিচারক SNAP-পুরো অর্থ দিয়ে বিতরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন, John J. McConnell Jr. রায় দিয়েছেন যে USDA-কে (United States Department of Agriculture) পুরো অর্থ দিয়ে নভেম্বরের সহায়তা চালাতে হবে।
- তাছাড়া, অর্থ কোথা থেকে আসবে – এক জরুরি তহবিল আছে কিন্তু সেটাই সব ভারতীয় বাজেট সমস্যার সামান্য অংশ মাত্র। উদ্বেগ রয়েছে যে এই তহবিল দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
- এরপরই প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করেছে এবং Ketanji Brown Jackson (যিনি ১ম সার্কিট আপিল বিভাগের জরুরি আবেদন বিষয় দেখেন) একটি অস্থায়ী বিরতির আদেশ দিয়েছেন।
এইভাবে SNAP-সহায়তা বিতরণের ওপর ব্যাহত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে — অর্থ ছাড়ানো সিরিজ ও রাজ্যভিত্তিক পার্থক্যসহ।
কী হওয়া শুরু হলো? রাজ্যভিত্তিক বিভাজন
সব রাজ্যে SNAP সহায়তা একসাথে পৌঁছায়নি — কিছু রাজ্যে দ্রুত কার্যক্রম চালু হয়েছে, আবার অনেক রাজ্যে এখনো অপেক্ষা রয়েছে।
- কিছু রাজ্যে পুরো নভেম্বরের SNAP অর্থ ইতিমধ্যে কার্ডে চলে গেছে। উদাহরণস্বরূপ: হাওয়াই, ওরেগন, উইসকনসিন, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন।
- অন্য রাজ্যে অংশবণ্টন হয়েছে বা “অর্ধেক” বা “অপূর্ণ” অর্থ দেওয়া হয়েছে — যেমন: নর্থ ক্যারোলিনা।
- আবার কিছু রাজ্যে — যেমন কলোরাডো, নিউ ইয়র্ক, অ্যারিজোনা, নিউ হ্যাম্পশায়ার — এখনো অপেক্ষায়।
- এখানে একটি ভোটব্যতিক্রম: রাজ্য কর্তৃপক্ষ ও কার্ড প্রসেসিং কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা, রপ্তানির সময়সূচি, পাশাপাশি ফেডারেল নির্দেশনার বিলম্ব — সব মিলিয়ে পার্থক্য বাড়িয়েছে।
যারা SNAP-ভুক্ত, তারা এখন নানা শঙ্কার মুখোমুখি: কখন কার্ড রিফ্রেশ হবে, কোন পরিমাণ পাব, খাওয়ার জন্য কি পরিস্থিতি হবে ইত্যাদি।
নাগরিকদের জন্য বাস্তব প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা
- একজন SNAP গ্রাহক, নিউ জার্সির একটি একক মা যিনি কলেজে পড়ছেন এবং দুই সন্তান লালন করছেন, বলছেন: “আমার অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স শূন্য ছিল — কার্ডে কিছু দেখাইনি একসময়।”
- খাদ্য ব্যანკগুলো ইতিমধ্যে বড় চাহিদার মুখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বে এরিয়া (ক্যালিফোর্নিয়া)-র খাদ্য ব্যাঙ্ক বলছে লম্বা লাইন, কর্মরত পরিবারও এখন খাদ্য সহায়তার জন্য ভিড় করছে।
- মাসের শুরুতেই সাহায্য না হওয়ায়, অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, ও অন্যান্য জরুরি খরচের মধ্যে বেছে নিতে হচ্ছে। ভয় রয়েছে এ সমস্যা দীর্ঘ দিন চললে গরিব-নির্ভর পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে।
রাজনৈতিক ও আইনগত দ্বন্দ্ব
এই বিষয়টি শুধু বিতরণের সমস্যা নয় — এক ধরনের রাজনৈতিক ও আইনগত লড়াইও চলছে।
- প্রশাসন দাবি করেছে, বিচারকরা SNAP-এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়ে ‘বিচারিক ক্ষমতা’ অতিরিক্ত ব্যবহার করছেন — অর্থাৎ, আইনসভাকে বাদ দিয়ে নির্বাহী বা বিচার বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- বিচারকরা বলছেন, “সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া বাধ্যতামূলক” এবং শাটডাউনের নাম দিচ্ছেন গরিব-নির্ভর মানুষের ক্ষতির কারণ।
- একদিকে বিচার বিভাগীয় আদেশ, অন্য দিকে প্রশাসনের আপিল ও অর্থ সংকট — এই তিনটি একসাথে মিলিয়ে অবস্থার জটিলতা বৃদ্ধি করেছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও কি সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা?
- আদালতের অস্থায়ী বিরতির (stay) মাথায় রেখেই বলা হচ্ছে, আগামী দুই-চার দিনে ১ম সার্কিট আপিল আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।
- যদি আপিল আদালত প্রশাসনের দাবিতে সায় দেয়, তাহলে SNAP-পূর্ণ সহায়তা আবার স্থগিত হতে পারে এবং আরও বেশি রাজ্য অপেক্ষার মধ্যে পড়তে পারে।
- কিন্তু যদি রাজ্য-বিচারক আদেশ বজায় রাখেন, তাহলে দ্রুত সব রাজ্যের বিতরণ চালু হবে — যদিও এটি নির্ভর করবে রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি ও কার্ড প্রসেসিং-র সক্ষমতার ওপর।
- দীর্ঘমেয়াদে, শাটডাউন শেষ না হলে সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-সহায়তাগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। খাদ্য ব্যাঙ্ক, চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি অভাবগ্রস্তদের দিক দিয়ে ঘুরে দেখা শুরু করেছে।
- এমন সময় এক আলোচনা হলো, ভবিষ্যতে এসব প্রোগ্রামগুলোর তহবিল প্যারামিটার, জরুরি তহবিল সত্ত্বা ও রাজ্য-ফেডারেল সহযোগিতার উপায় নতুনভাবে দেখা দরকার হবে।
উপসংহার
এই মুহূর্তে SNAP-ভাগগ্রহীতাদের জন্য “ভাঙা দেওয়া প্রতীক্ষা” চলছে — কিছু রাজ্যে সহায়তা কার্ডে পড়েছে, অন্য কিছু রাজ্যে এখনও অপেক্ষায়। আইন-বিতর্ক এবং সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে এই সংকট প্রকট হয়েছে। যেসব পরিবার খাদ্য ও নিরাপত্তার জন্য SNAP-র ওপর নির্ভর করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য নয় — একটি বড় সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতার জন্যও সংকেত হতে পারে। দেখা যাক আগামী দিনগুলোতে আদালতের সিদ্ধান্ত ও রাজ্য প্রশাসনের কার্যক্রম কীভাবে এগোবে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






