লঞ্চপ্যাড ক্ষতিগ্রস্ত: রুশ রকেট উৎক্ষেপণের পর স্পেস স্টেশনের পথে — কী বলেছে রসকসমস
রাশিয়ার Baikonur Cosmodrome-র লঞ্চপ্যাডে নতুন রকেট উৎক্ষেপণের পর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও অভিযানের ক্রু নিরাপদে International Space Station (ISS)-তে পৌঁছেছে, তবে এই দুর্ঘটনা ভবিষ্যৎ manned (মানুষসহ) মহাকাশ পাঠানিতে বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

লঞ্চপ্যাড ক্ষতিগ্রস্ত: রুশ রকেট উৎক্ষেপণের পর স্পেস স্টেশনের পথে — কী বলেছে রসকসমস - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র ক্রু নিয়ে Soyuz MS-28 মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং তা সফলভাবে NASA–র পরামর্শে (এবং রাশিয়ার Роскосмос / Roscosmos–র উদ্যোগে) Soyuz 2.1a রকেটে ISS-এ পৌঁছয়।
তবে উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে, Baikonur Cosmodrome-র একটি লঞ্চপ্যাড — বিশেষত Site 31/6 (বা Site 31) — এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রাশিয়ার মানুষের বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
এই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবে — কীভাবে ক্ষতি ঘটল, কেন এটি উদ্বেগের কারণ, Roscosmos–র প্রতিক্রিয়া, এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনায় এর প্রভাব।
পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ
🔹 What happened — কেমন ছিল উৎক্ষেপণ এবং কি ধরণের ক্ষতি হয়েছে
- ২৭ নভেম্বর ২০২৫-এর রকেট উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। Soyuz 2.1a রকেটে Soyuz MS-28 গঠন করে, এবং তিন জন নভোচারী — দুই রাশিয়ান এবং একজন NASA অ্যাস্ট্রোনট — ISS-এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উড্ডয়ন কালীন সমস্ত সময়সূচি এবং প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল।
- কিন্তু liftoff-এর পর পোস্ট-লঞ্চ পরিদর্শনায় দেখা যায় যে, লঞ্চপ্যাডের “maintenance cabin” বা “service platform” নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি ছিল মূলত প্যাডের নিচে, flame-trench (ইগনিশন / ঝাঁকুনি ও তাপ মোকাবেলায় ব্যবহৃত গ্যাস নিকাশনের অংশ) এর জন্য। সন্দেহ করা হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় সেই পাথ-প্ল্যাটফর্ম সঠিকভাবে সুরক্ষিত (locked/retracted) ছিল না; ফলে রকেটের thrust এবং গ্যাস-নির্গমনের চাপ প্ল্যাটফর্মকে flame-trench-এ ঠেলে ফেলেছে।
- এর ফলে লঞ্চপ্যাডের “several elements” বা একাধিক উপাদানেই structural damage হয়েছে।
- যদিও Roscosmos প্রথমে বলেছে যে, “সব প্রয়োজনীয় spare parts” আছে এবং যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা হবে।
🔹 Why it matters — কেন এটি একটা বড় সমস্যা
- এই লঞ্চপ্যাড (Site 31/6) এখন রাশিয়ার একমাত্র সক্রিয় প্যাড যা crewed (মানুষসহ) রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত হয়। পূর্বে ঐতিহাসিক প্যাড Site 1 (Gagarin's Start) বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এবং এখন সেটি মিউজিয়ামে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- যদি মেরামত দীর্ঘমেয়াদী হয়, তাহলে রাশিয়ার মানব বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণ সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এটি আগামী planned crewed missions এবং cargo missions (যেমন Progress MS-33) — দুটোই প্রভাবিত করতে পারে।
- এই ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয় — এটি রাশিয়ার পুরনো, কিছুটা অবহেলিত মহাকাশ অবকাঠামোর ঝুঁকি তুলে ধরে। দীর্ঘমেয়াদে, রাশিয়া যদি নতুন প্যাড বা বিকল্প স্থানে ভরসা না করে, তাহলে মনুষ্যবাহী মহাকাশ মিশনে তার ক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
🔹 প্রতিক্রিয়া ও মেরামতের পরিকল্পনা
- Roscosmos সাংবাদিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “launch complex-এর condition মূল্যায়ন করা হচ্ছে” এবং “সব প্রয়োজনীয় রিজার্ভ উপাদান রয়েছে; damage দ্রুত মেরামত করা হবে”।
- তবে বিশেষজ্ঞরা এবং রুশ স্পেস ব্লগাররা বলছেন, ক্ষতি যে “কয়েকটি উপাদান”-এর সীমিত নয় — বরং “service cabin”-এর ধসে পড়ে যাওয়ার মতো বড় ধরণের structural damage। এক ব্লগার যেমন বলেছেন, যদি প্যাড পুরোপুরি অকেজো হয়, তাহলে রাশিয়া “মনো… প্রথমবারের মতো মানুষের মহাকাশ যাত্রা বন্ধ করতে পারে”।
- এখনো পরিষ্কার নয়, মেরামত কত দ্রুত হবে বা আদৌ পুরোপুরি মেরামত সম্ভব হবে কিনা। কারন, পুরনো অবকাঠামো, অর্থনৈতিক তহবিল সংকট, এবং সাম্প্রতিক বছরের অভাবনীয় under-investment রাশিয়ার মহাকাশ প্রোগ্রামে।
🔹 ভবিষ্যৎ 전망 ও প্রভাব
- আগামী কয়েক মাস বা বছরের জন্য, যদি মেরামত দীর্ঘক্ষণ নেয় — তাহলে রাশিয়া মানুষের জন্য রকেট উৎক্ষেপণ বন্ধ করতে পারে। এর ফলে ISS-এ ক্রু রোটেশন (crew rotation) এবং cargo missions দুটোই ব্যাহত হবে।
- বিকল্প হিসেবে, রাশিয়া হয়তো অন্য স্পেসপোর্ট (যেমন Vostochny Cosmodrome) বা নতুন প্যাড তৈরি করার দিকে যেতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্যাডগুলো crewed missions চালানোর উপযোগী নয়।
- এই ক্ষতি রাশিয়ার স্পেস প্রোগ্রামের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত প্রশ্নও তোলে — বিশেষ করে এমন সময় যখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সমস্যা, ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে রয়েছে।
বিশ্লেষণ: এই ঘটনা কি রাশিয়ার স্পেস এজেন্সির জন্য এক বড় ঢালা?
এই ক্ষতি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় — এটি রাশিয়ার পুরনো কিন্তু এখনো গুরুত্বপূর্ণ স্পেস অবকাঠামোর দুর্বল দিক উন্মুক্ত করছে।
- প্রথমত, এটি দেখিয়েছে যে, প্রায় ৬০ বছরের পুরনো Baikonur Cosmodrome-র প্যাডগুলো — বিশেষ করে crewed missions-এর জন্য ব্যবহৃত প্যাড — দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায় না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেডে দীর্ঘ neglect রূপকথায় পরিণত হচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, Roscosmos–র ওপর কোনো বিকল্প প্যাড না থাকলে, রাশিয়া insulated (অভ্যন্তরীণ) নয় — আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ের (যেমন NASA, ESA, ইত্যাদি) সঙ্গে তার অংশীদারি খাতে বড় ঝুঁকি।
- তৃতীয়ত, geopolitics-র প্রেক্ষাপটে — যখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ, এবং ভ্যালোডশুগুলোর মধ্যে রাশিয়া খুঁজে পাচ্ছে নতুন পথ — এমন দুর্বলতা রুশ মহাকাশ অভিযানে ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২৭ নভেম্বর ২০২৫-এর সফল রকেট উৎক্ষেপণ এবং মিশন সত্ত্বেও, Baikonur Cosmodrome-র লঞ্চপ্যাডের ক্ষতি — বিশেষত service platform collapse — শুধু একটা দুর্ঘটনা নয়। এটি রাশিয়ার মানব বহনকারী মহাকাশ প্রোগ্রামের একটি গুরুভারী সংকেত।
যেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা, স্পেস স্টেশন পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ছিল একটি প্রধান ক্ষমতা, এখন দেখা যাচ্ছে — পুরনো অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সংকট এবং neglect মিলিয়ে সেটি হুড়োহুড়ি ঝুঁকিতে।
Roscosmos–র হাতে এখন সময় এসেছে: দ্রুত নিরাপদ, টেকসই এবং আধুনিক লঞ্চ সুবিধা নিশ্চিতে, অন্য প্যাড তৈরি বা পুরনো প্যাড দিয়ে পূনরায় শুরু করতে হবে — নইলে রাশিয়া হয়তো আদৌ মানুষসহ রকেট উৎক্ষেপণ চালিয়ে যেতে পারবে না।
এই ঘটনা শুধু রাশিয়ার নয় — সাম্রাজ্যোত্তর মহাকাশ সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, “স্পেস ট্রাভেল” শুধু রকেট নয় — একটি সামগ্রিক, টেকসই, এবং পরিকল্পিত পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






