পুতিনের যুদ্ধঘোষণা: ডনবাস পুরো দখল বা ইউক্রেন সেনা সরে দাঁড়াও! | Putin Issues Harsh Ultimatum: Russia Will Take Donbas by Force!
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের সেনা যদি ডনবাস অঞ্চল থেকে না সরে, তাহলে রাশিয়া “বলপ্রয়োগে” পুরো অঞ্চল দখল করবে। এই হুঁশিয়ারির পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ছে, আর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

পুতিনের যুদ্ধঘোষণা: ডনবাস পুরো দখল বা ইউক্রেন সেনা সরে দাঁড়াও! | Putin Issues Harsh Ultimatum: Russia Will Take Donbas by Force! - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর, India Today-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের Donbas অঞ্চল — অর্থাৎ Donetsk ও Luhansk — পুরোপুরি দখল করতে চায়। তার বক্তব্য ছিল: “Either we liberate these territories by force of arms, or Ukrainian troops leave these territories.” অর্থাৎ, অথবা রুশ বাহিনী অস্ত্রের জোরে এগুলো দখল করবে, অথবা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বাংলভূমি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে।
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে, রাশিয়া থেকে একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এসেছে: যদি Kyiv (meaning ইউক্রেন) নিজস্ব ভূখণ্ডে। অস্তিত্ব বজায় রাখতে চায়, তাহলে বেছে নেবে যুদ্ধে। নয়তো — সরে দাঁড়াতে হবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: যুদ্ধ, দখল ও সীমান্ত পরিবর্তন
আবারো স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণস্কেলের অগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইউক্রেইনীয় ভূ–রাজনীতিতে এক নতুন দফা শুরু হয়। তারপর থেকে রাশিয়া উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। বর্তমানে, রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সমস্ত Luhansk, প্রায় ৮০% এর বেশি Donetsk, এবং অন্যান্য অঞ্চল: Kherson, Zaporizhzhia, আরও কিছু অংশ পাওয়া যাচ্ছে
তবে Donetsk-র অদূরে এখনও ৫,০০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১,৯০০ বর্গমাইল) এলাকা ইউক্রেনে রয়েছে, যা যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
২০২২ সালের সেই প্রথম দিন থেকে, রাশিয়া — এবং বিশেষভাবে ক্রীমিয়া যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি সহ — Donbas ও দক্ষিণ/পূর্ব ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোকে দখলের লক্ষ্য হিসেবে দেখিয়ে এসেছে। রাশিয়া ২০২২-র রেফারেন্ডামের ভিত্তিতে চারটি অঞ্চল (Donetsk, Luhansk, Kherson ও Zaporizhzhia) নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। তবে পশ্চিমা দেশ এবং Kyiv এগুলোকে অবৈধ বলে অস্বীকার করে, এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই অঞ্চলগুলোকে এখনও ইউক্রেনে গণ্য করা হচ্ছে।
এই পটভূমিতে, Putin-এর সাম্প্রতিক দাবির মাধ্যমে রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সে তার যুদ্ধাভিযানকে কূটনৈতিক আলোচনার পরিপূরক নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ দখলে পরিণত করতে চায় — এবং সে দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া, এবং যুদ্ধের বাস্তবতা
বর্তমানে, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, একটি মধ্যমার্গীয় শান্তি পরিকল্পনা (peace plan) প্রস্তাব করেছে, যার লক্ষ্য ছিল ২০২২ সালের পর থেকে টানা চলা সংঘর্ষ বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিক রিপোর্ট এসেছে যে, রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে, Putin-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য — “যদি তোমরা সেনা সরাও, তাহলে আমরা থামবো না” — নির্দেশ দেয় যে, রাশিয়া শান্তি চায়নি, বরং সময় দেয় যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার। এটা কেবল একটি দখলের পদক্ষেপ নয়, বরং নির্দেশিকা যে কূটনৈতিক চেষ্টাকে রুশ শর্তে বাঁধা যাবে না।
যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি — এমনকি যদি হয় মধ্যস্থতায় — এখন বড় ধরণের সংকটে রয়েছে। পূর্বশর্ত হিসেবে, রাশিয়া চায় পুরো Donbas তার নিয়ন্ত্রণে হোক, এবং ইউক্রেনীয় সেনা সরে যাক। কিন্তু Kyiv ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে: তারা যুদ্ধ থেকে পিছু হটে না।
এর ফলে, শান্তি চুক্তি বা মধ্যস্থতায় যেকোনো ধরনের রূপায়ন এখন খুবই অনিশ্চিত — এবং যুদ্ধ could escalate again।
ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া: অস্বীকার ও সতর্কতা
ইউক্রেন সরকার এবং বিশেষ করে Volodymyr Zelensky — তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে: তারা কখনোই এমন কোনো চুক্তি স্বীকার করবে না, যেটা যুদ্ধ শুরু করার দায়ে থাকা রাশিয়াকে তার চাওয়া অনুযায়ী পুরস্কার দেবে। তারা বলেছে, মাটি বিক্রি বা ছেড়ে দেয়া কখনোই তাদের ভবিষ্যত নয়।
পশ্চিমা দেশগুলো ও পশ্চিমা মিডিয়া — বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা — আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে, রাশিয়ার অস্ত্রোপচার জোরালো এবং যেকোনো শান্তি প্রস্তাবকে “নামমাত্র কূটনৈতিক পর্দা” হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এখন, Putin-এর এই ঘোষণা সেই আশঙ্কাকে প্রমাণ করছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক কথোপকথন ও শান্তি প্রস্তাবনায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এমন চূড়ান্ত চুক্তি — যেখানে ইউক্রেন বড় ধরনের ভূমি হারাবে — সমর্থন পাবে না। বিশেষত, এমন দাবিকে তারা যুদ্ধ বিরাট পুরস্কার হিসেবে দেখছে, যা যুদ্ধ শুরু করার চেয়েও ভয়াবহ।
সম্ভাব্য পরিণতি: যুদ্ধ অব্যাহত, শান্তি অচিরেই সম্ভব নয়
Putin-এর এই নতুন হুঁশিয়ারি এবং রুশ সিদ্ধান্ত যে তারা Donbas দখল করতে বাধ্য, যেকোনো মধ্যস্থতায় পার্থিকা নিমেষেই ম্লান করে দিয়েছে। এর ফলে, কয়েকটি সম্ভাব্য পরিণতি আমরা দেখতে পারি:
- রুশ আক্রমণ তীব্র হবে — কারণ “force or withdrawal” এর হুশিয়ারি দিয়ে রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, এটি এখন কূটনীতি নয়, যুদ্ধ চালাবে।
- ইউক্রেন প্রতিরোধ জোরদার করবে, এবং পশ্চিমা দেশগুলো — বিশেষত নেটো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন — সমর্থন বাড়াবে। (তবে, পশ্চিমাদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত এখন বড় চ্যালেঞ্জ)
- মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রস্তাব ছিল, তা এখন প্রায় শূন্যের দিকে; যদি রাশিয়া কোনো ছাড় না দেয়, তাহলে আলোচনা শুধুই সময় নষ্ট।
- যুদ্ধ থেকে দমনযজ্ঞ ও জনহানি বাড়তে পারে — সাধারণ মানুষ, সিভিলিয়ান, অবকাঠামো, বাড়িঘর, বিদ্যুৎ–জল–তাপ যোগাযোগ সবই ঝুঁকির মুখে।
সবমিলিয়ে, বর্তমানে শিথিল কোনো স্থিরতা সম্ভব নয়; সংঘর্ষ জ¦ালিয়ে রাখাই রাশিয়ার পরিকল্পনায়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ: দ্য ওয়ারলাইন
যদিও রাশিয়া দাবী করেছিল যে, সাম্প্রতিক মার্কিন মধ্যস্থ প্রস্তাব “গুরুতর ও উপযোগী” ছিল, কিন্তু এখন তার কঠোর শর্ত — পুরো Donbas দখল বা যুদ্ধ — স্পষ্ট করেছে, যা বিশ্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।
পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষত নেটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ইউক্রেনের বন্ধুবান্ধব দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: শক্তি, সমর্থন, অর্থনৈতিক ও সামরিক — কতটা দিতে রাজি। নতুন শীত, যুদ্ধের তীব্রতা, শরণার্থী সংকট, সিভিলিয়ান ক্ষতি — সব মিলিয়ে এগুলো ভয়ঙ্কর দৃশ্য তৈরি করতে পারে।
তবে এক্ষুণি, রাশিয়ার দাবি ও হুঁশিয়ারি স্পষ্ট: Donbas তার — এবং সে তার সিদ্ধান্ত বদলাবে না। ফলে, শান্তি আলোচনায় এখন খুবই কঠিন প্রান্তর।
৭ থেকে ৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা ও সংঘর্ষের পর, ২০২২ সালের পূর্ণস্কেল অভিযানের পর, এক দিয়ে এক স্থানের দখল। কিন্তু ২০২৫ সালের এই ঘোষণা — যে রাশিয়া force এর মাধ্যমে Donbas পাবে না, যদি না ইউক্রেন সেনা সরে যায় — ইঙ্গিত দেয়, রাশিয়া এখন যুদ্ধকে প্রাথমিক নীতি হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এটি কোনো কূটনৈতিক বা মধ্যস্থ প্রক্রিয়ার অংশ নয়; এটি একটি যুদ্ধ সিদ্ধান্ত। এর মানে সহজ: শান্তি চাইলে — যুদ্ধ থামাবে না। কেবল একটি পথ: যুদ্ধ।
এখন, পুরো বিশ্ব—পশ্চিমা দেশ, নেটো, ইউক্রেন এবং তার জনগণ — এক বড় সিদ্ধান্ত নিতে বসেছে। যুদ্ধ রোখা যাবে কীভাবে, রুখতে কি সাহস থাকবে, এবং শান্তি হবে না, কখন হবে — সেটা এখন প্রশ্ন।
“আজকেরবিশ্ব.press” এর পাঠকদের জন্য এই রিপোর্ট হলো একটি সতর্কবার্তা: যুদ্ধ থামার নয় — বৃদ্ধি পাবে, যদি রাশিয়া তার ইচ্ছা পূর্ণ করতে বাধ্য হয়।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






