পাকিস্তান–ইরান সম্পর্কে নতুন মোড়: ইশাক দারের জোরালো ঘোষণা | Pakistan–Iran Relations Deepen: What’s Coming Next for the Region?
পাকিস্তান জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সবক্ষেত্রে সম্পর্ক গভীর করাই এখন তাদের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার বলেছেন—তেহরানকে তারা ‘বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃসুলভ’ দেশ হিসেবে দেখে।

পাকিস্তান–ইরান সম্পর্কে নতুন মোড়: ইশাক দারের জোরালো ঘোষণা | Pakistan–Iran Relations Deepen: What’s Coming Next for the Region? - Ajker Bishshow
ইসলামাবাদ এবং তেহরান — সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দার বলেছেন যে পাকিস্তান তেহরানকে একটি "বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃসুলভ" অংশীদার হিসেবে দেখেছে এবং সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্ব দেয়।
পটভূমি ও সর্বশেষ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
পাকিস্তান ও ইরান বহু বছরের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও জ্যামিতিক নিকটতার ভিত্তিতে গাঁথা হয়েছে। দুই দেশ ভৌগোলিকভাবে একে অপরের খুব কাছেই অবস্থান করে এবং তাদের শেয়ার করা সীমান্ত, ধর্মীয় সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।
আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বরা একাধিক সাক্ষাৎকার ও বৈঠকে পরস্পরের প্রতি ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছেন। ০৫ মে, ২০২৫-এ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বৈঠকে বলেছিলেন যে তারা “আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
ইশাক দারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
ইশাক দার, যিনি পাকিস্তানে উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন, সম্প্রতি ছিলেন এমন এক বৈঠকে যখন ইরান-এর সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (SNSC)-এর সচিব আলি লারিজানি পাকিস্তান সফর করেছিলেন। এই সাক্ষাৎকারে দার স্পষ্ট করলেন যে পাকিস্তান এবং ইরান একে অপরকে কেবল ভৌগোলিক প্রতিবেশী হিসেবে নয়, বরং বন্ধু ও ভ্রাতৃসুলভ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি তেহরানের সাথে "সব ক্ষেত্রেই" সহযোগিতা শিথিল করার গুরুত্ব দিয়েছেন — অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যাবস্থাপনা ও অন্যান্য কূটনৈতিক দিক। এছাড়াও, দার লারিজানিকে তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ সচিব হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা দুই দেশের রাজনৈতিক শ্রেণিতে ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসাবেও দেখা যেতে পারে।
পারস্পরিক সমর্থন ও অঞ্চলের স্থায়িত্ব
লারিজানি তাঁর সফর শুরুতেই X (যা পূর্বে Twitter নামে পরিচিত ছিল) প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন যে পাকিস্তান “বন্ধুসুলভ ও ভ্রাতৃসুলভ দেশ” এবং তারা পারস্পরিক এক গভীর সম্পর্ক রেখেছে। তিনি আরও বলেন যে, “ইরান কখনও ভুলতে পারবে না” পাকিস্তানের সমর্থন, বিশেষ করে সেই সময়ে যখন তারা ১২-দিনব্যাপী যুদ্ধে ছিল মার্কিন ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে।
তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রাতৃভাব সম্পন্ন সম্পর্ক গড়ে তোলা তেহরানের অগ্রাধিকার, এবং পাকিস্তান সেই অগ্রাধিকারের অংশীদার হতে চায়।
এই ঘনিষ্ঠতা কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যেই সীমাবদ্ধ নয় — দার বলেছেন যে পারস্পরিক সহযোগিতা “অঞ্চলীয় শান্তি ও নিরাপত্তাকে” উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। অতিরিক্তভাবে, দুই দেশ ইতিমধ্যে একাধিক যৌথ উদ্যোগ ও চুক্তি পর্যবেক্ষণ করছে, এবং ভবিষ্যতে তাদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে অধিকতর বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি
পাকিস্তান-ইরান বাণিজ্য সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিলে ২০২৫-এ রিপোর্ট করা হয়েছে যে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই অগ্রগতি কেবল সংখ্যা নয়, গঠনগত গুরুত্বপূর্ণ কারণও নির্দেশ করে — অর্থনীতিতে তাদের পরস্পর পরিপূরকতা বাড়ছে, যেমন ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি এবং পাকিস্তানে কিছু কৃষিপণ্য রপ্তানি।
পাকিস্তান বিদেশ দফতর ও অন্যান্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা শুধু বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য চায় না, বরং “নিয়মিতভাবে কার্যকর হওয়া” ব্যবসায়িক যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতে চায় — বিশেষত সীমান্ত পোর্ট, পরিবহন পথ (স্থল ও সমুদ্র), এবং বিনিয়োগ-প্রণোদনা ব্যবস্থায়।
রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব
এই নতুন সহযোগিতা কেবল অর্থনীতিই নয় — তা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সীমান্ত নিরাপত্তা, মিলিটারি সমন্বয় ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক জটিলতা, সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্ত সমস্যাগুলি এখানে গুরুত্ব পায়।
গত মে মাসে দার ও আরাঘচির বৈঠকে, তারা যৌথভাবে এমন একটি কাঠামোগত ভিত্তি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা “নিগমিত বোঝাপড়া ও কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে।”
সাথে সাথেই, পাকিস্তান সম্প্রতি বলেছে যে তাদের লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও প্রসারিত করার, যাতে ভবিষ্যতে সীমান্ত পারবর্তী সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধ মোকাবিলা করা যায়।
বিশেষ সাক্ষাতকার ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের যোগাযোগ
ইশাক দার-লারিজানি বৈঠক কেবল কূটনৈতিক টোকেন হিসেবে নয়, এক অন্তর্নির্মিত সঙ্কেতও পাঠায়: দুই দেশ প্রত্যাশা করছে যে তারা নিজেদের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করতে পারবে। দার লারিজানিকে তার নতুন দায়িত্বে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তান সমন্বিত সহযোগিতা চায়, যা কেবল রাজনৈতিক নয় বরঞ্চ মাঠ পর্যায়েও ফলপ্রসূ হবে।
এই ধরনের শ্রেষ্ঠস্তরের সাক্ষাত্কারের ফলস্বরূপ, আগ্রহী আলোচনা ইতিমধ্যেই চলছে অন্যান্য প্রবণ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে, যা দুই দেশকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও কৌশলগত মিলনবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারে।
চ্যালেঞ্জসমূহ ও সম্ভাবনাগুলি
তবে, এসব উদ্যোগ সহজ পথেই আসেনি এবং সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
- ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্কের পরিমাণ এবং প্রকৃতি
- কূটনৈতিক ভাষা বেশ বন্ধুসুলভ হলেও, বাস্তবে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সমন্বয় স্থাপন করা দীর্ঘমেয়াদী ও কঠিন প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র কথাবার্তার পর্যায়েই বন্ধুত্ব মানেই আর্থিক বা কৌশলগত বোঝাপড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হবে না।
- ভিত্তি ও পরিকাঠামোগত বাধা
- সীমান্ত এলাকা বিশেষ করে বাণিজ্য ও পরিবহন রুটগুলোতে উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সমন্বয় প্রয়োজন। রাস্তা, বন্দর, চেকপোস্ট এবং শুল্ক ব্যবস্থা উন্নত না হলে, বাণিজ্যিক প্রবাহে বাধা আসতে পারে।
- আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা
- পাকিস্তান-ইরান অংশীদারিত্ব এমন এক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটছে যেখানে অন্যান্য শক্তি এবং দেশগুলোর স্বার্থও কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা এবং প্রভাব মূল্যায়ন করার বিষয় হবে।
- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা
- পাকিস্তান এবং ইরান উভয়েই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে তাদের পারস্পরিক চুক্তি ও প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্ব বা জটিলতা হতে পারে।
তবুও, সম্ভাবনাও বড়। যদি দুই দেশ সফলভাবে তাদের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গাকে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে রূপান্তর করতে পারে, তাহলে তারা আঞ্চলিক প্রভাবশালীর ভূমিকা নিতে পারে এবং প্রতিপক্ষ দেশগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
চেষ্টা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের রোডম্যাপ
- দ্রুত কেন্দ্রগুলোর সম্প্রসারণ: বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশকে যৌথ পোর্ট উদ্যোগ, রেল ও স্থল পথ উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।
- নিরাপত্তা-সহযোগিতা: সীমান্ত এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা মিশন, তথ্য ভাগাভাগি এবং প্রতিরক্ষা পরামর্শ স্তর উন্নত করতে হবে।
- সততাপূর্ণ কূটনীতি: কোর্ট-লেভেলে (কমনীয়) মিটিং, সংসদীয় ও সরকারি পর্যায়ের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার ভিত্তি গড়তে হবে।
- অর্থনৈতিক বিনিয়োগ: পারস্পরিক বাণিজ্যকে শুধু পরিমাণে নয়, মানে উন্নত করতে নতুন শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহ দিতে হবে।
- সাংস্কৃতিক ও জনগণের সংযোগ বৃদ্ধি: শিক্ষা, তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে মজবুত করার সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তান এবং ইরান এখন জটিল এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের সম্পর্ককে শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রতীক হিসেবে না দেখে, একটি গভীর, বহুমুখী ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইশাক দারের পক্ষ থেকে করা এই স্পষ্ট ঘোষণা — যে পাকিস্তান “সব ক্ষেত্রেই” ইরানকে গুরুত্ব দেয় — কেবল কাগজেও না, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে অভিব্যক্ত হয়েছে।
যাতে এই প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে রূপ পায়, দুদেশকে প্রয়োজন হবে দৃঢ় ইচ্ছা, সংহত নীতিমালা এবং টেকসই সহযোগিতা। যদি তারা সফল হয়, তাহলে তাদের এই গতি কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না — এটি পুরো অঞ্চলের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির একটি মডেল হতে পারে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






