নেতানিয়াহুর দৃঢ় ঘোষণা: ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনোই হবে না’—জাতিসংঘে ভোটের আগে তীব্র উত্তেজনা | Netanyahu Declares: ‘No Palestinian State Ever’ — Tension Rises Ahead of Crucial UN Vote
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ইসরায়েল কোনোভাবেই স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবে না। জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

নেতানিয়াহুর দৃঢ় ঘোষণা: ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কখনোই হবে না’—জাতিসংঘে ভোটের আগে তীব্র উত্তেজনা | Netanyahu Declares: ‘No Palestinian State Ever’ — Tension Rises Ahead of Crucial UN Vote - Ajker Bishshow
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—ইসরায়েল কোনোভাবেই স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবে না। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ওপর ভোট হতে যাচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পাওয়ার দরজা সামান্য হলেও খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য কী ছিল?
রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন—
- “ইসরায়েলের অবস্থান বদলায়নি। আমরা কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেব না।”
- “কেউ টুইট করলেই বা বক্তৃতা দিলেই ইসরায়েলের নীতি বদলাবে না।”
- তাঁর মতে, যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি হয়, সেটা ভবিষ্যতে হামাসের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
অর্থাৎ, তিনি একেবারে শুরুতেই সব সন্দেহ আর বিতর্ক বন্ধ করতে চাইলেন—ইসরায়েলের জন্য একটিমাত্র নীতি, এবং সেটি হলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্পূর্ণ বিরোধিতা।
জাতিসংঘে কী প্রস্তাব উঠছে?
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে একটি খসড়া প্রস্তাব তোলা হয়েছে যেখানে—
- গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ভবিষ্যতে নিজস্ব রাষ্ট্রের পথ নিয়ে অস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত রাখা হয়েছে
- গাজায় অস্ত্র কমানো, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং অঞ্চলটিকে আরও নিরাপদ করার দিক নির্দেশনা রয়েছে
এই প্রস্তাবটিকে অনেকেই “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ” হিসেবে দেখছেন।
কিন্তু নাতানিয়াহু এটিকে কোনোভাবেই সেইভাবে দেখতে চান না।
ফিলিস্তিনি পক্ষ কী বলছে?
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলো বলছে—
- এই পরিকল্পনা তাদের স্বাধীনতার অধিকার স্পষ্টভাবে সমর্থন করে না
- আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় গেলে সেটা হয়তো ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হবে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার আরও পিছিয়ে যেতে পারে
- হামাস বলেছে: এমন কোনো প্রস্তাব তারা গ্রহণ করবে না যা “ইসরায়েলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়”
এদিকে, পশ্চিম তীর ও গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিরা পরিস্থিতিটিকে আরও অনিশ্চিত হিসেবে দেখছেন। কারণ নাতানিয়াহুর বক্তব্য তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা আরও দূরে ঠেলে দেয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের অনেক দেশই নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। সমাজতান্ত্রিক, আরব, এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ বলছে—
- দীর্ঘমেয়াদে শান্তি কেবলমাত্র দুই রাষ্ট্র সমাধান দিয়েই সম্ভব
- ইসরায়েলের নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনি ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র পাওয়াও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার
- স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ বলেছে—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে “অবশেষে স্বীকৃতি পাবে”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা জটিল। তারা একদিকে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে জাতিসংঘের খসড়ায় ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুযোগ রেখেছে।
নেতানিয়াহু কেন এত কঠোর?
এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—
১. ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
নেতানিয়াহুর সরকারে কট্টরপন্থী ডানপন্থী মন্ত্রীরা আছেন, যারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্পূর্ণ বিপক্ষে।
তাঁদের সমর্থন ধরে রাখতেই নাতানিয়াহুকে কঠোর অবস্থান রাখতে হয়।
২. নিরাপত্তার আশঙ্কা
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে—ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি হলে সেটি শত্রু সংগঠনের হাতে যেতে পারে।
এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ভয়।
৩. ভূ-রাজনৈতিক চাপ
বিশ্বে প্রচুর চাপ থাকা সত্ত্বেও নাতানিয়াহু মনে করেন—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে।
যদি জাতিসংঘের প্রস্তাব পাস হয় তাহলে কী হবে?
- গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রবেশ করতে পারে
- পুনর্গঠন, নিরাপত্তা, এবং প্রশাসনিক কাঠামো নতুনভাবে গঠন হতে পারে
- অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভবিষ্যতে কোনো না কোনো সময় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করতে পারে
কিন্তু নাতানিয়াহুর বক্তব্য স্পষ্ট—ইসরায়েল যেকোনো অবস্থায় এটি বাধা দেবে।
পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ দিক
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে—
- একদিকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে চাইছে
- অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে সেই দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করে সামান্য খোলা রাখা হচ্ছে
- এই দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে তা অনেকটাই নির্ধারণ করবে
আগামী কয়েক দিনের জাতিসংঘের ভোট ও আন্তর্জাতিক আলোচনাই ঠিক করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ দিশা।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






