ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড: ট্রাম্পের আঙুল, NATO-র ভবিষ্যৎ ও নতুন ভূরাজনৈতিক সংকেত | Greenland after Venezuela: The Finger of Space, the Future of NATO, and New Geopolitical Signals
ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। ডেনমার্ক সতর্ক করেছে—গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হামলা মানেই NATO-র অবসান। এই সংকট আসলে কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড: ট্রাম্পের আঙুল, NATO-র ভবিষ্যৎ ও নতুন ভূরাজনৈতিক সংকেত | Greenland after Venezuela: The Finger of Space, the Future of NATO, and New Geopolitical Signals - Ajker Bishshow
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শাসনব্যবস্থা, তেল ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে তারা প্রয়োজনে সরাসরি শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবে না। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সামনে আনলেন গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ।
২০১৯ সালে প্রথমবার গ্রিনল্যান্ড কেনার কথা বললেও, এবার ট্রাম্পের ভাষা আরও কড়া। তিনি ইঙ্গিত দেন—যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক কৌতুক নয়; বরং আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান শক্তির লড়াইয়ের প্রতিফলন।
গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এটি আর্কটিক অঞ্চলের অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। এখান থেকে উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক শিপিং রুট নজরদারি করা যায়। বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ তৈরি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে রয়েছে বিরল খনিজ, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রশিল্পে অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করছে। রাশিয়া আর্কটিকে সামরিক ঘাঁটি জোরদার করছে, আর চীন বিনিয়োগ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার নামে প্রভাব বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় না এই অঞ্চল তাদের হাতছাড়া হোক।
কিন্তু গ্রিনল্যান্ড কোনো স্বাধীন ভাসমান ভূখণ্ড নয়। এটি ডেনমার্কের অংশ এবং ডেনমার্ক NATO সদস্য। তাই ট্রাম্পের মন্তব্যকে ডেনমার্ক সরাসরি সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তবে সেটি হবে NATO-র নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির অবসান।
NATO গঠিত হয়েছিল পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতিতে। এক সদস্য আক্রান্ত হলে সবাই একসাথে প্রতিরোধ করবে। কিন্তু যদি জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ নিজেই আরেক সদস্যের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালায়, তাহলে NATO কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই কারণেই ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া এত কঠোর।
বর্তমানে বাস্তবতা হলো—কোনো সরাসরি মার্কিন সামরিক অভিযান গ্রিনল্যান্ডে শুরু হয়নি। যা চলছে, তা হলো রাজনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক বার্তা এবং শক্তি প্রদর্শনের ভাষা। তবে এই ভাষাই ভবিষ্যতের বড় সংঘাতের বীজ বপন করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রিনল্যান্ড—এই দুটি ঘটনা একই সুতোয় গাঁথা। এটি একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত, যেখানে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো মিত্রতা ও আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
Related Posts
View All
মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ভেনেজুয়েলার তেল আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো | Maduro Brought to the US as Trump Vows to Take Control of Venezuela’s Oil
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন—ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও দেশটির বিপুল তেল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ।

কারাকাসে হঠাৎ হামলা: মাদুরো ও স্ত্রী আটক, বিশ্ব চমকে গেছে | Venezuela in Crisis: Maduro and Wife Taken by US Special Forces
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটক করেছে — এমন দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও বিশ্ব রাজনীতিতে বিশাল





