🔥 শান্তি আলোচনার মাঝেই ভয়াবহ হামলা! ‘ম্যাসিভ স্ট্রাইক’-এ কেঁপে উঠল ইউক্রেন | Massive Russian Strike Hits Ukraine Just as US Peace Talks Conclude!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি আলোচনা শেষ হতেই ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাশিয়ার চালানো ‘ম্যাসিভ’ হামলায় তীব্র ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ–পানি বন্ধ, অবকাঠামো ধ্বংস—যুদ্ধ ও কূটনীতির দ্বৈরথ নতুন করে সামনে এসেছে।

🔥 শান্তি আলোচনার মাঝেই ভয়াবহ হামলা! ‘ম্যাসিভ স্ট্রাইক’-এ কেঁপে উঠল ইউক্রেন | Massive Russian Strike Hits Ukraine Just as US Peace Talks Conclude! - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ৬–৭ ডিসেম্বর রাতে, যখন ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা — Miami peace talks — শেষ হয়েছে, ঠিক সেই সময় Kremenchuk নামক ইউক্রেনের অন্যতম শিল্প নগরী ও এনার্জি হাব “ভয়াবহ ও ব্যাপক” হামলার শিকার হয়েছে।
এ হামলা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, যে যুদ্ধের ময়দানে কখনোই সোমবার বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনুযায়ী শান্তি স্থাপন নিশ্চিত নয়। দুই পক্ষ যখন কাগজে-কলমে আলোচনা করছে, রুশ বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে অন্তত এক শহরকে পঙ্গু করতে চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধ, কূটনীতি ও সাধারণ মানুষের দুঃখ — তিনেরই মধ্যকার সংযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
- রাশিয়া একসঙ্গে 653 ড্রোন এবং 51টি ক্ষেপণাস্ত্র (missiles) নিক্ষেপ করেছে, এর মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনী 585 ড্রোন এবং 30 ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
- তবুও, ২৯টি স্থানে আঘাত পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৮ জন আহত এবং একটি শহরে — Kremenchuk — বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
- Kremenchuk এর মেয়র জানিয়েছেন, শহর “massive combined strike” — একটি জটিল বিমান হামলার শিকার হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতু্যু নিশ্চিত হয়নি, তবে পানি, তাপ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোদমে বন্ধ।
- তবে অন্য অঞ্চলেও হামলা হয়েছে: রেলওয়ে হাব, ট্রেন স্টেশন, বিদ্যুৎ ও এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার, এবং এমনকি একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- বিশেষভাবে, Zaporizhzhia Nuclear Power Plant (ZNPP) — যা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে — অফ-সাইট পাওয়ার হারিয়েছে। যদিও তা দ্রুত পুনরায় সংযুক্ত হয়েছে, তবে এই ধরনের হামলা পরমাণু নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করে।
কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এখনও পাওয়া যায়নি, কিন্তু অবকাঠামোগত ক্ষয়, জনজীবনের ব্যাহত হওয়া, এবং বড় ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি — সবগুলোই স্পষ্ট।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধের বাস্তবতায় সংঘর্ষ
এই হামলা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যকার সময়ের মিল — যেখানে কেবল ঘণ্টা বা দিন পার হয়েছে — চিত্রটা কতোটা করুণ তা দেখায়।
- যুদ্ধে একদিকে ব্যাপক আঘাত, অন্যদিকে — Volodymyr Zelenskyy এবং Steve Witkoff এবং Jared Kushner–র নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন আলোচনার শেষ ধাপ; তারা বলেছে আলোচনাগুলো “substantive and constructive” ছিল।
- Keith Kellogg, যুক্তরাষ্ট্রের রিটায়ারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ইউক্রেন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির মতে, শান্তি চুক্তি এখন “শেষ ১০ মিটার” দূরে।
- কিন্তু, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে — তারা ইউএস–উদ্বুদ্ধ পরিকল্পনায় “radical changes” চায়।
- উভয় দিকে এখনই স্পষ্ট নয় — চুক্তি হলে রুশ হামলা বন্ধ হবে কি না। কারণ, বাস্তব যুদ্ধের ময়দানে রুশ বাহিনী এখনও সক্রিয়; Kremenchuk–এ হামলার মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা এখনো বিরতি ভাবেনি।
এই দ্বৈরথ (diplomatic push vs military onslaught) — দীর্ঘ সমঝোতা ও আস্থার পুনর্গঠনের চেষ্টার পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কি বলছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা
ইউক্রেন সরকার এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলাকে “শান্তি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সচেতন ও পরিকল্পিত আক্রমণ” হিসেবে দেখছে।
- Kremenchuk–এ হামলায় বিদ্যুৎ, পানি এবং গরম জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে, শীত দিনে সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হবে। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এবং বিদেশ মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ঐক্যবদ্ধ ঐতিহাসিক অপরাধ বলে অভিহিত করেছে।
- পশ্চিমা নেতারা — বিশেষ করে Emmanuel Macron (ফ্রান্স), Keir Starmer (যুক্তরাজ্য), এবং Friedrich Merz (জার্মানি) — পরবর্তী দিনগুলোতে ইউক্রেনকে সমর্থন জানাতে একত্র হতে যাচ্ছেন। তারা একাধিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, যে ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের জন্য তারা প্রস্তুত।
- অন্যদিকে, রাশিয়া দাবি করছে তারা সামরিক-শিল্প প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধ-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে; তবে পশ্চিমা ও ইউক্রেনীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবেই লক্ষ্য ছিল নাগরিক-ইনফ্রাস্ট্রাকচার — যা যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্য শর্ত পূরণ করে।
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যত দৃশ্য
যদি ধীরে ধীরে একটি শান্তি চুক্তি গঠন হয়, তাহলে এর মূল দুই চ্যালেঞ্জ থাকবে —
- প্রকৃত রুশ প্রতিশ্রুতি: রাশিয়া কি সত্যিই যুদ্ধ বন্ধ করবে? কেবল কাগজে নয় — মাঠে, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত পুনর্বহালের মাধ্যমে।
- নিরাপত্তা ও গ্যারান্টি সিস্টেম: পুনরুদ্ধার করার সময়, ইউক্রেনকে বিদেশি নিরাপত্তা গ্যারান্টি, পিসকিপার বা রক্ষাকবচ পেতে হবে। এবং এগুলো এমনভাবে তৈরি হবে যাতে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধ সম্ভব হয়।
বর্তমানে, IAEA (আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ জানাচ্ছে, বিশেষ করে যেভাবে ZNPP–এর মতো একটি পারমাণবিক-নিরাপত্তা স্পট এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়াও, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি, যদি বাস্তবে রূপ পায় — অর্থনৈতিক পুনর্বাসন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি, এবং রাশিয়ার প্রতি কড়া নজর — তাহলে একটি সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি কাঠামো গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
Kremenchuk–এ “massive” হামলা — এটি কী শুধু এক রাতের ঘটনা? সম্ভবত না। এটি রূপক হিসেবে দেখা যাচ্ছে: যে যুদ্ধ যেভাবে চলছে, শান্তি যখন আলোচনাসূত্রে সামনে আসছে, তখনই বাস্তব মাটিতে আগুন নেমে আসছে।
এই যুদ্ধ শুধু কূটনীতি বা সেনা-অভিযান নয় — এটি প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জীবন, শহর, জীবনযাত্রা, এবং ভবিষ্যতের ওপরেও আঘাত করে।
এভাবে চলতে থাকলে, শান্তি কেবল দলিল–চুক্তি হবে, বাস্তব নিরাপত্তা হবে না। তাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, পশ্চিমা নীতি নির্মাতারা, এবং ইউক্রেনীয় জনগণকেই এখনো সচেষ্ট থাকতে হবে — পরিস্থিতির দিকে সর্তক নজর রাখতে হবে, এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, চুক্তি হলে, সেটি হবে এমন যা রক্ষা করবে শান্তি, নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের অধিকার।
বাংলাদেশ থেকে, আমরা — সংবাদদাতা, পাঠক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে — বদ্ধ পরিকর হয়ে যুদ্ধের ভুক্তভোগীদের দিকে দৃষ্টিপাত রাখতে পারি, এবং আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখতে পারি, যাতে এ ধরনের হামলা আর না হয়।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






