ইতালি: লিওনার্ডো উন্মোচন করল ‘মাইকেলাঞ্জেলো ডোম’ মাল্টি-ডোমেইন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম
ইতালীয় বিমান ও প্রতিরক্ষা কর্পোরেশন লিওনার্ডো উন্মোচন করেছে “মাইকেলাঞ্জেলো ডোম” — একটি AI-ভিত্তিক একীকৃত এয়ার ডিফেন্স ও বহু-ডোমেইন সুরক্ষা কাঠামো, যা ২০২৮ সালের মধ্যে পুরো কার্যকারিতায় পৌঁছাবে।

ইতালি: লিওনার্ডো উন্মোচন করল ‘মাইকেলাঞ্জেলো ডোম’ মাল্টি-ডোমেইন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম - Ajker Bishshow
বর্তমান বিশ্বে হুমকির ধরন অভূতপূর্ব গতিতে বদলায় — শুধু বিমানপথ বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এখন ড্রোন-সোয়ার্ম, হাইপারসনিক মিসাইল, সাইবার হুমকি, এবং সমুদ্র বা স্থলভিত্তিক হামলার মতো মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একক বা সীমিত মিডিয়া (যেমন শুধু বিমান বা মিসাইল) ভিত্তিক প্রতিরক্ষা যথেষ্ট নয়।
তাই, একটি “security dome” বা “সুরক্ষা ছাতা” দেওয়া জরুরি — যা একসঙ্গে, এক সমন্বিত নেটওয়ার্ক হিসেবে, সব ধরণের হুমকির মোকাবিলা করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই Leonardo তাদের নতুন সিস্টেম তৈরি করেছে।
Michelangelo Dome কী — এবং এটি কিভাবে কাজ করবে?
- মাল্টি-ডোমেইন এবং ওপেন আর্কিটেকচার: Michelangelo Dome কোনো একক সিস্টেম নয়। এটি হলো একটি “আর্কিটেকচার” — যা যুক্ত করবে নতুন প্রজন্মের সেন্সর (ভূমি, সমুদ্র, বিমান, এমনকি স্পেস ভিত্তিক), সাইবার সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম, কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত effectors।
- হুমকি সনাক্তকরণ ও нейutralisation: সিস্টেমটি সক্ষম হবে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, এমনকি হাইপারসনিক মিসাইল এবং ড্রোন-সোয়ার্ম শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে।
- ডেটা ফিউশন ও AI-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: একাধিক সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্যগুলোর ফিউশন হবে, এবং AI-ভিত্তিক predictive algorithms ব্যবহার করে সম্ভাব্য হামলার আগে সমাজ বা স্থাপনায় প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা ও প্রয়োগ করা যাবে।
- ন্যাটো সামঞ্জস্যতা ও ইন্টারঅপারেবলিটি: সিস্টেমটি ন্যাটো মান (NATO standard) অনুযায়ী ডিজাইন করা হবে, এবং অন্যান্য দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করা যাবে। অর্থাৎ, যারা অন্য ধরনের সেন্সর বা মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করে — তারা সহজেই Michelangelo Dome-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
- ব্যবহারযোগ্যতার বিস্তৃতি: শুধু এয়ার-ডিফেন্স নয়; সমুদ্র, স্থল, স্পেস, এবং সাইবার — সব ডোমেইনে এক সময়েই বহুমুখী সুরক্ষা সক্ষমতা।
কখন থেকে চালু হবে?
- প্রথম ধাপে অংশিক বাস্তবায়ন চলবে, এবং পুরো সিস্টেম পূর্ণরূপে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের মধ্যে।
- সিস্টেম নির্মাণ ও বাস্তবায়নের জন্য Leonardo এবং ইতালীয় সশস্ত্র বাহিনী একটি যৌথ টিম গঠন করবে, যাতে প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত উভয় দিকই একত্রে প্রস্তুত করা যায়।
কেন এটি শুধু ইতালির জন্য নয়, পুরো ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
- ইউরোপে, বিদেশি (যেমন রাশিয়া) হুমকি, সাইবার হামলা, হাই-থ্রেট ড্রোন এবং নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু দেশই একক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নজিরহীন। Michelangelo Dome-এর মত “Unifying Shield” যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে ছোট বা মধ্যম দেশগুলোও, যাদের সমৃদ্ধ সেনা বাহিনী বা ডিফেন্স বাজেট নেই — তারা খুব সহজেই একটি আধুনিক, বহু-স্তরীয় সুরক্ষা কাঠামোর অংশ হতে পারবে।
- এছাড়া, এটি ন্যাটো-ভিত্তিক সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে। কারণ ন্যাটোর দেশগুলোর প্রতিরক্ষা স্তর একরূপ নয় — কিন্তু একটি ওপেন, ইন্টারঅপারেবল সিস্টেম হিসেবে Michelangelo Dome সব দেশকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে পারে।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং উদ্বেগ
যদি সব কিছু পরিকল্পনা মতো হয়, তবে Michelangelo Dome শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দিতে পারে — কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন:
- প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং মান নির্ধারণ (compatibility) নিশ্চিত করতে হবে।
- ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিনিময়ের জন্য যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
- বড় বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি — ২০২৮ সালের জন্য প্রস্তুতি মানেই হলো এখন থেকেই বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা শুরু করা।
কিন্তু, যদি এই চ্যালেঞ্জ গুলো উতরে দেওয়া যায়, তাহলে Michelangelo Dome হতে পারে ইউরোপের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি মাইলস্টোন।
ইতালীর Leonardo সংস্থার Michelangelo Dome প্রজেক্ট হল একটি গেম-চেঞ্জার: একটি ওপেন, মাল্টি-ডোমেইন, AI-ভিত্তিক, এবং ন্যাটো-সহযোগী সিস্টেম, যা কেবল একটি দেশ নয় — পুরো ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোই পরিবর্তন করতে পারে। ২০২৮ সালের দিকে এটি পূর্ণরূপে চালু হলে, হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন-সোয়ার্ম, সাইবার হামলা, এবং সমুদ্র বা স্থলভিত্তিক হুমকির বিরুদ্ধে নতুন এক নিরাপত্তা স্তর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি অন্যান্য ন্যাটো দেশ এতে যুক্ত হয়, তাহলে ইউরোপীয় ও ন্যাটো সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে Michelangelo Dome হয়ে উঠতে পারে একটি “গেম চেঞ্জার” — এবং ২০২০-এর দশকে শুরু হওয়া প্রতিরক্ষা পুনরায় গঠন (defence re-building) প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






