রাশিয়ার বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Kyiv-র অর্ধেক শহর অন্ধকারে, ২ জন নিহত—শীতের আগেই ইউক্রেইনের যুদ্ধ ও নাগরিক সংকট গম্ভীর।
রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানী Kyiv-র প্রায় অর্ধেক — অন্তত ৫০০,০০০ মানুষ অন্ধকারে; ২ জন নিহত, ৩০+ আহত — শহরবাসী নিরাপত্তাহীনতায়, রাজনৈতিক সংকটে ইউক্রেইন।

রাশিয়ার বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Kyiv-র অর্ধেক শহর অন্ধকারে, ২ জন নিহত—শীতের আগেই ইউক্রেইনের যুদ্ধ ও নাগরিক সংকট গম্ভীর। - Ajker Bishshow
রাতের অন্ধকারে ২০২৫ সালের ২৮–২৯ নভেম্বর, রাশিয়ার বাহিনী এক বিরাট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইউক্রেইনের রাজধানী Kyiv এবং আশেপাশের অঞ্চলে।
প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বা উদ্দেশ্যপূর্ণ স্ট্রাইক — তা স্পষ্ট না হলেও, হামলার লক্ষ্য ছিল শহরের বিদ্যুৎ ও শক্তি অবকাঠামো। এটি ছিল এক ‘ব্যাপক’ হামলা, যা শুধু সামরিক লক্ষ্য নয়, সিভিল উন্নয়ন ও নাগরিক ভিত্তিক অবকাঠামোকেও বদনের।
ভয়াবহ পরিণতি: অর্ধেক শহর অন্ধকার, জনজীবনে বিক্ষোভ
হামলার ফলে শহরের পশ্চিম অংশসহ— প্রায় অর্ধেক Kyiv-র বাসিন্দা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। আনুমানিক ৫০০,০০০ এরও বেশি গ্রাহক (ভবন, আবাসন, অফিস) অন্ধকারে।
শহরের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে Obolonskyi, Solomianskyi, Shevchenkivskyi, Podilskyi, Holosiivskyi ও Sviatoshynskyi, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
শুধু করে না, জল সরবরাহ ও পানি চাপেও প্রভাব পড়ে — কিছু আবাসিক ভবনে পানি পাওয়া যায়নি বা পানির প্রবাহ কমে যায়।
এমন black-out এর মধ্যেই, রাতভর বাতি জ্বলবে বলে ভরসা ছিল না। বাচ্চা, বৃদ্ধ, রোগী — কারো কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এক Kyiv-বাসী অভিজ্ঞতা জানায়:
“We’ve been spending nights in the subway almost since 2022… but today it was very loud … station was packed with people.”
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন — সামরিক হামলা নয়, নাগরিক জীবনের এক বড় মর্মান্তিকতা।
মানবিক ক্ষতি: মৃত্যু, আহত, ভগ্ন ভবন
এই হামলায় কমপক্ষে ২ জন নিহত, আর ৩০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
শহরের বিভিন্ন উচ্চ-মালমাল ভবন ও আবাসিক ব্লকে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে — জানালা ভেঙেছে, অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, কিছু ভবনই বাসযোগ্য নয়।
কেউ কেউ হাসপাতালে, কেউ কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায়; শিশুসহ আহত হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও চিকিত্সা চলছে।
প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রশ্ন — সামরিক নয়, নাগরিক যুদ্ধ?
রাশিয়া সময়ের আগেই জানে — শীত আসছে; বিশেষ করে দক্ষিন ও পূর্ব ইউক্রেইনে তাপ ও বিদ্যুৎ জরুরি। এমন সময় এই ধরনের হামলা প্রমাণ করে, তারা করছেন কেবল সামরিক আঘাত নয় — সিভিল ডিজাস্টার, জনজীবনের ধ্বংস।
বিদ্যুৎ ও শক্তি অবকাঠামো ভেঙে দিয়ে, তারা সাধারণ মানুষের খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, গরম — সব কিছু বিলুপ্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শীতের আগে, রাতের ঠাণ্ডা, অন্ধকার, জল–পানি–গরমের অভাব — মানুষের জন্য মারাত্মক।
জাতীয়ভাবে, এমন হামলা যুদ্ধের ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পিত ধ্বংসনীতি নির্দেশ করে — যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারবিরোধীদের দৃষ্টিকোণে “সিভিলিয়ান টার্গেটিং” হিসেবে গণ্য হতে পারে।
প্রতিক্রিয়া, পরিবেশ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই হামলা অপর এক রাজনৈতিক–সামরিক সংকটের অংশ। শুধু অস্ত্র নয়, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
এতে আক্রান্ত হয়েছে শুধু পুলিশের, সেনাবাহিনীর নয় — সাধারণ মানুষ ও নাগরিক জীবনের ভিত্তিই। বদলি করা যাবে না।
শীত আসছে। যদি শক্তি অবকাঠামো পুনরুদ্ধার না হয় — শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ, গর্ভবতী — সবাই বিপদে পড়বে।
ভবিষ্যতে এক মানবিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে: স্বাস্থ্য, গরম, পানি, খাদ্য — সব কিছু।
সার্বিক মূল্যায়ন ও আহ্বান
এই হামলা একটি স্পষ্ট বার্তা — যুদ্ধ শুধু সামরিক সীমাবদ্ধতায় নয়; নাগরিক জীবন, অবকাঠামো, শান্তি, বসতি — সবকিছুই লক্ষ্য।
বিশ্বকে অবশ্যই এটা দেখার সময় এসেছে: এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত ধ্বংস। এবং শান্তি প্রক্রিয়া, যুদ্ধবিরতি, মানুশিক সুস্থতা — সবকিছু দূরে এক ভয়াবহ ভবিষ্যৎ।
যদি সত্যিকারের শান্তি চাই, মানুষ চাই ঘুমানোর আগে নিরাপদ ঘুম — তাহলে, শক্তি অবকাঠামোর পুনরুদ্ধার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা — সব কিছুই জরুরি।
ইতিহাসই দেখাবে — আজকের অন্ধকার, কালকের আলো। কিন্তু আলো ফিরে পেতে হলে, শুধু অস্ত্র নয়; মানবতার মূল্যায়ন, সমর্থন এবং সাহস চাই।
ভলোদিমির জেলেন্সকি বলেছেন — ইউক্রেন কখনো হার মানবে না। কিন্তু এই ধরনের হামলা, এই ধরনের ধ্বংস — শুধু যুদ্ধে নয়; সন্ত্রাস, পীড়ন, মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
শীত, অন্ধকার, ভয় — সব মিলিয়ে চলছে সাধারণ মানুষের জীবন।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে, আমি — আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি সেই ভয়, যন্ত্রণা, এবং প্রশ্ন — যেখানে যুদ্ধ শেষ হলেও, রেকর্ড থাকে।
আমি আশা করি: শান্তি, প্রতিরোধ এবং মানবিক সমর্থন — এই তিনের সমন্বয়েই আমরা দেখতে পাব কীভাবে সাধারণ মানুষ হয় যুদ্ধের প্রথম ও শেষ শিকার।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






