“It’s a great day” – ট্রাম্পের সইয়ের মাধ্যমে শেষ হলো ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের দীর্ঘতম ৪৩ দিনের সরকারি শাটডাউন শেষ হলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সই করেছেন ফান্ডিং বিল যা সরকারের কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া এই ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে।

“It’s a great day” – ট্রাম্পের সইয়ের মাধ্যমে শেষ হলো ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন - Ajker Bishshow
মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সই করে দিলেন একটি ফেডারেল বাজেট বিল, যা একসঙ্গে সরকারের কাজকর্ম বন্ধ রাখার ৪৩ দিনের ‘রেকর্ড’ শাটডাউন শেষ করল। তিনি বলেন, “এটা একটি মহান দিন। এই ধরনের শাটডাউন কখনও হওয়া উচিত নয়।”
শাটডাউন শুধু একটি প্রশাসনিক থমকে থাকার ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক কৌশল, অর্থনৈতিক চাপ, এবং জনসাধারণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করব কেন শাটডাউন হলো, তার প্রভাব কী ছিল, এবং ভবিষ্যতে কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
শাটডাউনের কারণ
শুরু
২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সরকারি দপ্তর ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, কারণ পার্লামেন্টের অনুমোদিত বাজেট বা অস্থায়ী অর্থায়ন প্রণয়ন হয়নি।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
– ডেমোক্র্যাটরা চেয়েছিলেন, নতুন ফান্ডিং বিলের সঙ্গে যুক্ত করা হোক স্বাস্থ্যবীমার জন্য ট্যাক্স ক্রেডিটস (ACA), যা প্রিমিয়াম কমাতে সাহায্য করে।
– রিপাবলিকানরা এই দাবিতে সাড়া দেননি এবং বললেন, আগে সরকার খুলুন, তারপর আলোচনার বিষয়গুলো দেখব।
ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সরকার কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
প্রভাব
– প্রায় ৭ লাখ ফেডারেল কর্মচারী furlough বা ছুটিতে চলে যান; আরও অনেকে কাজ করলেও বেতন পাননি।
– খাদ্যসহায়তা প্রোগ্রামগুলোতে সমস্যা দেখা দেয়।
– বিমান চলাচলও প্রভাবিত হয়, কারণ নিয়ন্ত্রণকর্তাদের ছুটি ও কাজের ঝামেলা।
শাটডাউন শেষ ও নতুন আইন
আইন সই
হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভস ২২২–২০৯ ভোটে ফান্ডিং বিল পাস করে, যা জানুয়ারি ৩০, ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের কার্যক্রম চালু রাখবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতেই বিল সই করেন।
– অধিকাংশ সরকারি বিভাগ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কার্যক্রম চালু রাখবে।
– কৃষি, সামরিক, এবং সংসদ‑সংক্রান্ত বিভাগ বছরের জন্য অর্থায়ন পাচ্ছে।
– ACA‑র ট্যাক্স ক্রেডিট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের পরে।
প্রভাব ও সমালোচনা
রাজনৈতিক প্রভাব
– রিপাবলিকানরা বলছেন, “ডেমোক্র্যাটরা রাজনীতি খেলেছে।”
– ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, তারা স্বাস্থ্যবীমার দাবিতে লিপ্ত না হয়ে সহমত হয়েছে।
– মধ্যমার্গীয় কিছু ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন, যা পার্টির মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
– দীর্ঘ সময় সরকারের বন্ধ থাকার কারণে অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে, বিশ্লেষকরা কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতির উল্লেখ করেছেন।
– খাদ্যসহায়তা প্রোগ্রাম বিলম্বিত হয়েছে।
– সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, সরকারি সেবা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন।
উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ
– ACA‑র ট্যাক্স ক্রেডিট পুনর্নবীকরণ নিশ্চিত নয়।
– বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা স্বাভাবিক হতে কিছু সময় লাগবে।
– জানুয়ারিতে নতুন ফেজে নতুন বাজেট চ্যালেঞ্জ আসবে।
বিশ্লেষণ
১. রেকর্ডসেটিং ঘটনা: এটি ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন।
২. শক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব: বাজেট ও অর্থায়ন নিয়ে পার্টির মধ্যে বিরোধ।
৩. ভবিষ্যৎ সতর্কতা: সরকারের বন্ধ রাখার রাজনৈতিক কৌশল জনসাধারণকে প্রভাবিত করে।
৪. স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিরোধ: ACA‑র নীতি এখন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু।
৫. জনসাধারণের দৃষ্টিতে: সরকারি কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ।
উপসংহার
৪৩ দিনের দীর্ঘ শাটডাউন শেষ হয়েছে, তবে শুধু আইন সই হওয়াই যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক ক্ষতি, এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেছেন এটি “ভালো দিন”, তবে আসল প্রশ্ন হলো, এরপর কী হয়?
ACA‑র ট্যাক্স ক্রেডিট, বিমান সেবার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসা, সরকারি কর্মচারীদের পূর্ণ বেতন—all এসব এখন নতুন চ্যালেঞ্জ।
এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শুধু আইন সইয়ের খবর নয়, বরং তার পেছনের কারণ, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকিও।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






