যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র বয়কট করলো ইরান
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ড্র যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঠিক তার আগমুহূর্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফুটবল কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে ড্র থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র বয়কট করলো ইরান - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর বিশ্ব ফুটবল মহাসংস্থা FIFA-র ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ড্র-এর আয়োজনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল — যা আগামী ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আকস্মিকভাবে ঘোষণা করা হয়, Iran national football team (ইরান) draw-এ অংশ নেবে না। কারণ: যুক্তরাষ্ট্র তাদের ফুটবল প্রতিনিধিদলের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা প্রদান করেনি।
এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক বড় ধাক্কা। কারণ, draw-এর সময় দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয় কার বিরুদ্ধে কে খেলবে, এবং এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের প্রথম গুরুত্বপুর্ণ ধাপ শুরু হয়।
ইরানের দাবি ও ভিসা বিষয়ে অভিযোগ
ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (Football Federation Islamic Republic of Iran — FFIRI) এর মুখপাত্র Amir Mehdi Alavi জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অস্বীকৃতি “খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন, রাজনৈতিক” সিদ্ধান্ত।
ভিসা না দেওয়ার মধ্যে ছিলেন ফেডারেশনের শীর্ষ পদে থাকা কর্মকর্তারা। রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্বমোট ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে মাত্র চারজনের ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছিল; বাকিদের ভিসা নামঞ্জুর।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, “এইভাবে অংশ নেওয়া অর্থহীন”। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে ন্যায্যতার পরিপন্থী ও ক্রীড়া-নৈতিকতার বিরুদ্ধে হিসেবে দেখেছে।
ভিসা অস্বীকৃতির পটভূমি: রাজনৈতিক টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক বহু বছরের রাজনৈতিক উত্তেজনায় আবদ্ধ। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব থেকে শুরু করে, যা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি বিরাজমান।
এবারকার ভিসা অস্বীকৃতির বিষয়টিও এই দীর্ঘ প্রতিযোগীতার অংশ হিসেবে অনেকেই দেখছেন। ইরান মনে করছে, ভিসা না দেওয়া শুধু একটি প্রশাসনিক/নাগরিক বিষয় নয়, বরং একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত — যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও কূটনীতির পরিবেশে নতুন বিতর্কে দেবে।
প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য পরিণতি
Mehdi Taj ও FFIRI
FFIRI সভাপতি Mehdi Taj ভিসা না দেওয়া বন্ধ করার জন্য United States Department of State–র দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি “খেলাধুলার ন্যায্যতা” ও “মৌলিক ক্রীড়া-নৈতিকতার” প্রতি আঘাত।
বেশ কিছু সমর্থক এবং ক্রিকেট/ফুটবল বিশ্লেষক বলছেন, যদি এমন ঘটনা draw-এ হয়, তাহলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে অংশগ্রহণ নিয়েও সন্দেহ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, ইরান হয়তো ভবিষ্যতে টুর্নামেন্ট থেকে সরে আসতে পারে।
United States Soccer Federation এবং যুক্তরাষ্ট্র
যদিও ভিসা অস্বীকৃতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে ভঙ্গিমিক — যুক্তরাষ্ট্রি প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোন অফিসিয়র বা প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, “কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি মেলেনি”।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়ানীতির প্রশ্নে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ, বিশ্বকাপের মতো গ্লোবাল ইভেন্টে এমন সিদ্ধান্ত ক্রীড়াকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফেলে দেয়।
2026 FIFA World Cup ও draw-এর প্রভাব
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য। draw-এর সময় দলগুলোর গ্রুপ ও ম্যাচসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। ইরানের অনুপস্থিতি draw-এর সাজায় পরিবর্তন এনেছে।
এই সিদ্ধান্ত অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা World Cup, Olympics বা অন্যান্য গ্লোবাল ক্রীড়া ইভেন্টে রাজনৈতিক প্রভাব কিনা — সে বিষয়ে উদ্বেগ বাড়াবে।
বিশ্লেষণ: খেলাধুলা, কূটনীতি ও ন্যায্যতা
- ক্রীড়ার সঙ্কটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নতুন নয়। কিন্তু, ভিসা অস্বীকৃতি এবং draw-বর্জন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াকে এমন একটি দিক দেখালো যেখানে ক্রীড়া আর শুধু ক্রীড়া নয় —
- এটি কূটনীতি, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
- Gianni Infantino — FIFAর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগে বলেছিলেন, সকল যোগ্য দল এবং প্রতিনিধিদের draw-এ স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু, এই ঘটনা দেখালো, এমন প্রতিশ্রুতি সব সময়ই পর্যাপ্ত নয়।
- ভবিষ্যতে, বিশ্বকাপ বা অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে যারা অংশগ্রহণ করবে — তাদের জন্য কূটনৈতিক পার্থক্য, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি বা ভিসা শর্ত এখন আর গোপন বিষয় নয়।
- অন্যদিকে, শিক্ষণীয় বিষয় হলো: ক্রীড়া আমাদের “ভালোবাসা, ঐক্য, প্রতিযোগিতা” — কিন্তু যখন ক্রীড়া ব্যবহৃত হয় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, তখন এর মৌলিক মান ও মানুষের আশা ক্ষুন্ন হয়।
ইরান — যিনি ইতিমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে — draw-বর্জন করতে বাধ্য হয়েছে মাত্র একমাস আগে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধিদলের জন্য ভিসা না দিয়েছে।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গ্লোবাল ক্রীড়ার পটভূমিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা কখনোই ‘নেতারহীন’ নয়। ক্রীড়া এবং রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার প্রচেষ্টা যত শক্ত — বাস্তবতা তার চেয়েও জটিল।
যে draw একটি ক্রীড়া-উৎসবের অংশ এবং দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে, সেখানে ক্রীড়ার ন্যায্যতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের জায়গা হয়তো সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন — ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন এই ধরণের চাপ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে কি?
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






