ইরান-পাকিস্তানের নতুন জোট: ইসরায়েলের সম্প্রসারণ থামাতে যৌথ উদ্যোগ | Iran and Pakistan Unite to Counter Israeli Expansionism: A New Geopolitical Alliance in the Making
ইরান ও পাকিস্তান একসাথে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির মোকাবিলায় নতুন যুগের সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। ইসলামাবাদ সফরে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, আঞ্চলিক ঐক্য ছাড়া ইসরায়েলের প্রভাব রোধ সম্ভব নয়। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ইরান-পাকিস্তানের নতুন জোট: ইসরায়েলের সম্প্রসারণ থামাতে যৌথ উদ্যোগ | Iran and Pakistan Unite to Counter Israeli Expansionism: A New Geopolitical Alliance in the Making - Ajker Bishshow
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মনোরমটি প্রতিদিনই পরিবর্তনশীল। বিশেষ করে Israel-এর সম্প্রসারণবাদী ধাঁচ ও সেই প্রেক্ষিতে Iran এবং Pakistan-এর ব্রত এবং কর্মকৌশল এখন ঘন মনোযোগ পাচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf পাকিস্তানে তাঁর সফরে বললেন, “ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ ও তার সমর্থকদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইরান-পাকিস্তানের রয়েছে বিস্তৃত সহযোগিতার সম্ভাবনা”।
এই কলামেই আমরা পরীক্ষা করব — এই নয়া জোটের পটভূমি, যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা কী এবং এর মাধ্যমে মধ্য-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসতে পারে।
পটভূমি
প্রথমত, ইরান নিজে একাধিকবার জানিয়েছে যে ইসরায়েল এক ধরনের “বড় ইসরায়েল” (Greater Israel) রূপায়নের চেষ্টা করছে — যার অংশ হিসেবে সে সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে ভূমি ও প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বলেছিলেন, ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আরব, মুসলিম এবং এশীয় দেশগুলোর ঐক্য জরুরি।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে—ভৌগলিক নিকটতা, ইসলামীভিত্তিক একমাত্রবোধ এবং সীমান্তবর্তী সমস্যাগুলি দুই দেশের মাঝে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। Ghalibaf তাঁর পাকিস্তানি সফরে এই দৃষ্টিভঙ্গা তুলে ধরেছেন।
তৃতীয়ত, আজকের বিশ্বায়িত ভূ-রাজনীতিতে কোনো এক দেশ একা চলে যেতে পারছে না। অঞ্চলীয় চ্যালেঞ্জ যেমন হচ্ছে শক্তির ভারসাম্য, নিরাপত্তা চেইন, অর্থনৈতিক সংযোগ আরও — তাই নতুন ধরণের জোট ও অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
ইরান-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগ: কী বললেন Ghalibaf?
Ghalibaf পাকিস্তানে বললেন:
- “ইরান ও পাকিস্তানকে অনেক যৌথ স্বার্থ রয়েছে — রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে”।
- তিনি যোগ করেন, “আমরা ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঘনভাবে কাজ করতে পারি”।
- পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার Ayaz Sadiq উল্লেখ করেন, “আমাদের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের হামলায় অনুভূত বিরক্তি ব্যক্ত করেছে এবং আমাদের মতে ইসরায়েল উভয়েরই শত্রু”।
- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর ইচ্ছাও রয়েছে — বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়।
যৌথ মোকাবিলার সম্ভাব্য ক্ষেত্র
১. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব
ইরান-পাকিস্তান একসাথে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেমন United Nations-এ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে; যৌথ বিবৃতি, রেজল্যুশন বা কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।
২. অর্থনৈতিক সহযোগিতা
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, সীমান্তবর্তী ইনভেস্টমেন্ট, এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই জোটের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক সংযুক্তি শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।
৩. সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন
“এক জাতি, দুটি দেশ” (Pakistan স্পিকার Sadiq-র ভাষায়) এই ভাবনায় সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা ও ধর্মীয় সংলাপ জোরদার হতে পারে, যা সাধারণ জনমত গঠনেও ভূমিকা রাখে।
৪. রক্ষণশীল নিরাপত্তা ও সীমান্ত সহযোগিতা
যদিও মূল সংবাদে নিরাপত্তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই, তবে সীমান্তবর্তী সহযোগিতা, গোয়েন্দা বিনিময় বা সীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা-এর ভিত্তিতে এই জোটের নিরাপত্তাগত দৃষ্টিকোণও বিবেচনায় আসতে পারে।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ
- পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় সুনির্মল ছিল না — সীমান্তে বিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনীতির ঝঞ্ঝাট সব রয়েছে।
- ইসরায়েল বিষয়ক মূল মনোবল ভিন্ন — পাকিস্তানের জন্য ইসরায়েল একটি বিরোধী শক্তি হলেও, পাকিস্তান ও সৌদি-সহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের কারণে তার পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ হতে পারে।
- ইরানের বিরুদ্ধে সার্বজনীন সঙ্কট রয়েছে — যেমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা, যা তার বহুমুখী নীতিকে প্রভাবিত করে।
- এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়া (বিশেষ করে আমেরিকা-ও parts) বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এর প্রভাব কী হতে পারে?
- যদি এটি সফল হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্লক গঠন হতে পারে — যা ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ থামাতে সহায়ক।
- দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে; বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
- তবে, ইরান-পাকিস্তান এই অংশীদারিত্বকে শুধু সমাকারক বলেই না, বরং কার্যকর নীতি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে পারলে তবেই তার কার্যকারিতা মিলবে।
উপসংহার
আজ-কের এই বিমূর্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে, Iran ও Pakistan-এর যৌথ কথা এবং সম্ভাব্য প্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যদিও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে এই উদ্যোগ যদি দৃঢ় ইচ্ছা ও বাস্তব কৌশল নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে এটি শুধু দুই দেশ নয় — বড় অংশে অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক ধারা পরিবর্তনের দিকে নির্দেশ করতে পারে।
আমাদের এখন দেখার বিষয় — তারা কি শুধু বিবৃতি দিয়েই থামবেন, নাকি এগিয়ে নেবেন কার্যকর সমরূপ পদক্ষেপ।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






