ভারত কেন এখন রুশ তেল কেনা কমাচ্ছে — কারণ, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ
নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ার তেল আমদানি কমাচ্ছে। রাশিয়ার ওপর একতরফাভাবে নির্ভরতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক চাপই মূল কারণ। এই পদক্ষেপের ফলে তেলের দাম, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।

ভারত কেন এখন রুশ তেল কেনা কমাচ্ছে — কারণ, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ - Ajker Bishshow
গত কয়েক বছরে, ভারত রাশিয়া থেকে অনেক সস্তা তেল আমদানি করেছে। কিন্তু এখন সেই “সাথে কেনার সময়” ধীরে ধীরে শেষ হওয়ার পথে আছে। কারণ: যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং ভারত এখন তার তেল আমদানির পথ পরিবর্তন করতে চাইছে।
কেন ভারত রুশ তেল কম আনে এখন
- নতুন নিষিদ্ধতা
- যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার দুটি বড় তেল কোম্পানি — Rosneft এবং Lukoil —‑এর ওপর নতুন নিষিদ্ধতা আরোপ করেছে।
- এই নিষিদ্ধতার ফলে ভারতের রিফাইনারি সংস্থাগুলো (যেমন Indian Oil, BPCL, HPCL) দেখতে শুরু করেছে যে তারা সরাসরি এসব কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চালিয়ে যেতে পারবে কি না।
- বিশেষ করে নভেম্বর ২১ তারিখ থেকে নিষিদ্ধতাগুলোর প্রভাব বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
- জ্বালানির নিরাপত্তা ও ঝুঁকি
- রাশিয়ার উপর পুরোপুরি নির্ভর করা অর্থপূর্ণ নয়, বিশেষ করে যে সময় নিষিদ্ধতা বাড়ছে। ভারতের মতো দেশ তার তেল উৎস বৈচিত্র্য করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানো যায়।
- অর্থনৈতিক ফাইদা কমে আসছে
- অতীতে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারত অনেক সাশ্রয় করতে পেরেছিল।
- কিন্তু এখন ডিসকাউন্ট বা ছাড় কমতে শুরু করেছে, অর্থাৎ লাভের মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে।
- রাজনৈতিক চাপ
- যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প আবার শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে ভারতীয় পণ্যের ওপর, কারণ তার মতে ভারত রুশ তেল কেনায় মোটামুটি “রাশিয়ার সহায়ক” হয়ে উঠেছে।
ভারতের রিফাইনারিগুলোর প্রতিক্রিয়া
- কিছু রিফাইনার, যেমন HPCL‑Mittal Energy (HMEL), ইতিমধ্যে রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।
- Reliance Industries‑ও ঘোষণা করেছে যে তারা রুশ তেল চুক্তি পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করবে।
- রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিরাও সতর্ক হয়ে পড়েছে — তারা এখন দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চুক্তি, লজিস্টিক ও ঝুঁকি বিষয়গুলো।
সম্ভাব্য প্রভাব
- তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা
- রুশ তেল কম হলে ভারতকে হয়তো অন্য উৎস (যেমন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা) থেকে তেল আনতে হবে, যা কিছুটা বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে।
- ইরো‑অর্থনীতি ও কূটনীতিতে পরিবর্তন
- রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমালে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে — পশ্চিম বিশ্ব (যেমন যুক্তরাষ্ট্র)‑এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতি
- ভারত হয়তো নিজের জ্বালানি নীতি আবার নতুনভাবে সাজাবে — বিভিন্ন দেশে থেকে তেল আমদানির পথ তৈরি করবে এবং ঝুঁকি কম রাখার চেষ্টা করবে।
ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
- নিষিদ্ধতার কারণে পেমেন্ট ও লজিস্টিক সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিকল্প উৎসে যাওয়া মানে ব্যয় বাড়া, এবং ভারতকে নতুন চুক্তি ও শিপিং চ্যানেল গড়তে হবে।
- রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ভারসাম্য রাখা কঠিন হতে পারে — রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো মৈত্রী এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে নতুন চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
ভারত রুশ তেল থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে — আর তার পেছনে শুধু অর্থের কারণ নয়, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত কারণও কাজ করছে। নতুন নিষিদ্ধতা, ঝুঁকি এবং অহেতুক চাপের মুখে, ভারত তার আমদানির পথ পরিবর্তন করছে। এটি বড় সিদ্ধান্ত, কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের কূটনীতিতে এর গতি‑প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






