জার্মানির ১,২০০ পৃষ্ঠার গোপন যুদ্ধ পরিকল্পনা! রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের ভয়াবহ প্রস্তুতি . Germany’s 1,200-Page Secret War Plan Against Russia Revealed!
জার্মানির ১,২০০ পেজের গোপন যুদ্ধ পরিকল্পনা ফাঁস! ⚔️ রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে কী হবে? Decode25-এ আজকের বিশেষ রিপোর্ট। ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে এই নথি।

জার্মানির ১,২০০ পৃষ্ঠার গোপন যুদ্ধ পরিকল্পনা! রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের ভয়াবহ প্রস্তুতি . Germany’s 1,200-Page Secret War Plan Against Russia Revealed! - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, The Wall Street Journal (WSJ)–র এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানানো হয়, Bundeswehr (জার্মান সশস্ত্র বাহিনী) প্রায় ১,২০০ পৃষ্ঠার একটি গোপন কৌশলগত নথি প্রস্তুত করেছে — নাম: OPLAN DEU (Operation Plan Germany)। এই পরিকল্পনায়, যদি কখনো রাশিয়া (অথবা অন্য শক্তি) ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়, তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার জন্য সজ্জিত একটি বিশাল লজিস্টিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সামরিক এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণের থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনার মূলে: কেন এই OPLAN DEU?
- ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ আক্রমণের পর ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু এবং ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা জটিলতা বাড়ার পর থেকে — বিশেষ করে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি ও প্রভাব মাথায় রেখে, জার্মানির নিরাপত্তা বিভাগ নব্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিলেন প্রায় ১২ জন উচ্চপদস্থ জার্মান অফিসার, এবং তারা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এটি মূলত “যুদ্ধ প্রতিরোধ (deterrence)” এর উদ্দেশ্যেই — অর্থাৎ, শত্রুকে জানিয়ে দেওয়া হবে, যদি তারা আক্রমণ করে, তাদের প্রতিদান সহজ হবে না।
- পরিকল্পনায় শুধু সামরিক মোবিলাইজেশন নয়; বলা হয়েছে “whole-of-society” — অর্থাৎ, সামরিক + বেসামরিক + বেসরকারি অবকাঠামো, রেল, সড়ক, বন্দর, নদীপথ এবং নাগরিক প্রশাসনসহ পুরো দেশকে একসাথে যুক্ত করতে হবে।
OPLAN DEU: কী রয়েছে পরিকল্পনায়?
- মোট ১,২০০ পৃষ্ঠার নথিতে, প্রায় ৮০০,০০০ ন্যাটো সৈনিক (জার্মান, মার্কিন ও অন্যান্য দেশ) দ্রুত পূর্ব ফ্রন্টে স্থানান্তর করার ধরন বর্ণনা করা হয়েছে।
- সেই স্থানান্তরের জন্য বন্দর, নদী, রেল, সড়ক, সেতু — সমস্ত সম্ভাব্য পথ ও গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। কোথা দিয়ে যাওয়া যাবে, কোন রুটে যানবাহন যাবে, কোথায় সরবরাহ এবং লজিস্টিক হাব হবে — সব কিছুই পরিকল্পনায়।
- বেসামরিক সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ আছে — যেমন জ্বালানি সরবরাহকারী, বন্দর ও রেল সংস্থা, লজিস্টিক কোম্পানি, স্থানীয় প্রশাসন ইত্যাদি।
- সামরিক নিরাপত্তায় সাইবার হামলা, স্যাবোটাজ, তথ্যপ্রভাব (misinformation) ও গুপ্তচরবৃত্তির শঙ্কা মাথায় রেখে, পরিকল্পনায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।
বাস্তবায়ন আর চ্যালেঞ্জ
যাচাইকৃত ড্রিল ও সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ নয়।
- সম্প্রতি জার্মানিতে একটি সামরিক মহড়া (drill) — “Red Storm Bravo” — চলাকালে দেখা গিয়েছে, সামরিক কনভয়ের গাড়ি দীর্ঘ সময় নির্ধারিত স্থানে পৌঁছায়নি; রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, বিক্ষোভকারীর আচরণ ও ট্রাফিক জটিলতার কারণে।
- জার্মানির বেসামরিক অবকাঠামোর কিছু অংশ অত্যন্ত পুরনো। প্রায় ২০% হাইওয়ে এবং এক-চতুর্থাংশ সেতু জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। অনেক সেতু এবং সড়ক ভারি সামরিক যানবাহন বহনের জন্য উপযোগী নয়।
- বন্দর, রেল এবং বন্দর সুবিধা উন্নয়নের জন্য বিশাল বিনিয়োগ দরকার — কিন্তু ওগুলো সময় সাপেক্ষ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া ধীর।
- বেসামরিক আইন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সময়োপযোগী অনুমোদন নেই — যুদ্ধকালীন পরিবেশে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন করা আইনগতভাবে কঠিন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
যদিও বহু মিডিয়া ও বিশ্লেষক এই OPLAN DEU-র গোপনীয়তা ও প্রস্তুতি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন, কিন্তু নিজ সংশ্লিষ্ট দফতর — জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় — কিছুটা ভিন্ন দাবি করেছে। তারা বলেছে, “জার্মানির কোনো স্বতন্ত্র যুদ্ধ পরিকল্পনা (War‑with‑Russia plan) তৈরি হয়নি”। তাদের মতে, ন্যাটোর ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে কাজ করা হচ্ছে; এবং এমন এক নথি, যা ১,২০০ পেজ বলে বলা হচ্ছে, তারা সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকার করে না।
এই মতবিরোধ কূটনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রত্যেক পক্ষ — এমনকি নন-ন্যাটো দেশও — এখন জিজ্ঞাসা করছে: এই পরিকল্পনা কি যুদ্ধকে অপরিহার্য করে তুলছে, নাকি এটি শুধুই প্রতিরক্ষামূলক প্রস্ততি?
এই পরিকল্পনা কেন শোচনীয় — এবং এর প্রভাব কি হতে পারে?
- প্রথমত, পুরনো অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা এবং সময়োপযোগী উন্নয়নের অভাব — যদি দ্রুত আপগ্রেড না হয়, তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব হতে পারে।
- দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ প্রস্তুতি যেমন হয় — “total war” বা “all-of-society” ব্যবস্থার দিকে যায় — ফলস্বরূপ বেসামরিক মানুষ, অর্থনীতির সাধারণ অংশ এবং নাগরিক জীবনে বিশাল প্রভাব পড়বে।
- তৃতীয়ত, এমন পরিকল্পনা ফাঁস হলে, প্রতিপক্ষ (এখানে রাশিয়া) প্ররোচিত বা আতঙ্কিত হতে পারে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে।
- চতুর্থত, কূটনৈতিকভাবে, এটি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত দেশগুলোর প্রতি জার্মানির ভূমিকা এবং দায়‑দায়িত্বকে আবার নতুন ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে — যা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, বাল্টিক দেশগুলোর মত দেশগুলোর সঙ্গে জটিল সমন্বয় দাবি করবে।
OPLAN DEU — জার্মানির ১,২০০ পেজের গোপন যুদ্ধ পরিকল্পনা — শুধুই একটি নথি নয়; এটি বদলে দিচ্ছে পশ্চিমা নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত অবস্থানের মানচিত্র। যদিও পরিকল্পনাটি “প্রতিরোধ” (deterrence) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন এবং বেসামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি দেখিয়ে দিয়েছে এই ধরনের সজ্জা কতটা জটিল।
যদি গড়পড়তা বেসামরিক অবকাঠামো, আইনগত জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরতা এবং জনমতের চাপ সামলানো যায় — এমনকি তবুও — যুদ্ধের বাস্তব ধাক্কার মুখে কীভাবে এই পরিকল্পনা টিকে থাকবে, সেটা সময়ই বলবে।
একই সঙ্গে, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটি একটি বড় বার্তা: যে সময় শান্তি ছিল, সেই সময় শেষ হতে পারে — এবং সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
Watch Video
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






