ফিলিস্তিনি ইস্যুতে পোপের অবস্থানের প্রশংসা করলেন এরদোয়ান | Erdogan Praises Pope's Stand on the Palestinian Issue
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বুধবার আঙ্কারায় পোপ লিও XIV-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফিলিস্তিনি ইস্যুতে তাঁর স্পষ্ট বিরোধী ও ন্যায্য-ভিত্তিক বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান যা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে — এবং জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা সংরক্ষণ অ

ফিলিস্তিনি ইস্যুতে পোপের অবস্থানের প্রশংসা করলেন এরদোয়ান | Erdogan Praises Pope's Stand on the Palestinian Issue - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, পোপ লিও XIV প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে পৌঁছান। এই সফরকে কেন্দ্র করে আঙ্কারায়, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নেতাদের সামনে একটি অভিজ্ঞান সভায় অংশ নেন তিনি।
এ সময়, ফিলিস্তিনি ইস্যু, গাজার সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ লক্ষ্য রেখে পোপ লিও যুদ্ধ, সংঘাত এবং বসতি-মূলক সমস্যাগুলোর দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
এরপরেই, একই দিনে, এরদোয়ান তাঁর ভাষণে পোপের সেই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন —
এরদোয়ানের বক্তব্য
- “আমরা পোপ লিও-এর ফিলিস্তিনি ইস্যুতে স্বচ্ছ ও জ্ঞাতদৃষ্টিকোণভিত্তিক অবস্থানকে উচ্চাভিলাষী ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ হিসেবে গ্রহন করি” — এরদোয়ান উল্লেখ করেন।
- তিনি বলেন, “আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি দায় ঈমানদারি; এবং ন্যায়ের পথ হলো ১৯৬৭ সালের সীমারেখা ভিত্তিক দুই-রাষ্ট্র সমাধান অবিলম্বে বাস্তবায়ন”।
- পাশাপাশি, তিনি জোর দেন জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা সংরক্ষণের গুরুত্বে।
- এরদোয়ান পোপের অন্য বার্তাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন — যেমন, তিনি ইউক্রেনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গাজার যুদ্ধের প্রেক্ষিতে শান্তি ও কূটনীতি চর্চার আহ্বানকে “গুরুতর ও সময়োপযোগী” হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরদোয়ানের এমন বক্তব্য ইতিমধ্যে তার আগের অবস্থান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানের ধারাবাহিকতা বহন করে। তুরস্ক, বিশেষত গাজার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করছে।
কেন এই মুহূর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে?
- গাজার যুদ্ধ এবং মানবিক সংকট – ইসরায়েলি হামলা ও গাজার বর্তমান সংকট, সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে। এমন সময় পোপ ও তুরস্কের মতো প্রভাবশালী শক্তির অবস্থান আন্তর্জাতিক বুলেটে গুরুত্ব বাড়ায়।
- ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীকী গুরুত্ব – পোপ হিসেবে লিও XIV বিদেশে প্রথম যাত্রা তুরস্কে। ইসলামী-মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্কে তার ঐতিহাসিক সফর, এবং সেখানে মুসলিম নেতা-রাজনীতিকের সঙ্গে ঐক্যমূলক বার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- দুই-রাষ্ট্র সমাধান পুনরুজ্জীবন – দীর্ঘ চেষ্টার পরও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিক দুই-রাষ্ট্র সমাধান। এরদোয়ান ও পোপের মতো ব্যক্তিদের এমন আহ্বান ন্যায়ের পথে আন্তর্জাতিক চাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
- অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, পোপের এই অবস্থান শুধু একটি ধর্মীয় নেতার ন্যায় আহ্বান নয় — সেটা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একটি নতুন সংলাপের সূচনা করতে পারে।
- অন্যদিকে, এমন সমর্থন তুরস্কের কূটনীতিক ভাবনাতেও প্রভাব ফেলবে: তুরস্ক যাতে গাজার পুনর্গঠন, হিউমানিটারিয়ান সহায়তা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
- তবে প্রতিক্রিয়া বাড়লে, তুরস্ক এবং ভ্যাটিকান উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে — বিশেষত ধর্মীয় সংলাপ ও দ্বি-ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যকার সংহতি প্রসঙ্গে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তাৎপর্য
যদিও বাংলাদেশ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যীয় কূটনীতি বা তুরস্ক–ভ্যাটিকান সম্পর্কের অংশ নয়, তবে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বিশ্ববাসীর ন্যায়ের দাবি এবং একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান — যা এসব নেতারা দিচ্ছেন — সেটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সন্বেদন এবং সমর্থনের সঙ্গে একরূপ।
বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের চেতনা ও মিডিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংহতি ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
পোপ লিও XIV এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সর্বশেষ অন্যানযোগ্য ধর্মীয় এবং কূটনৈতিক মন্ত্রণার মধ্য দিয়ে — ফিলিস্তিনি ইস্যুতে মানবিকতা, ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরদোয়ান পোপের এই অবস্থানকে ‘দায়বদ্ধ ন্যায়ের দৃষ্টান্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
১৯৬৭ সালের সীমারেখায় ভিত্তি করে দুই-রাষ্ট্র সমাধান জরুরি, এবং জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মর্যাদা সংরক্ষণ অপরিহার্য — এমন মূল দাবি তারা উত্থাপন করেছেন।
এই নতুন সংলাপ ও সমর্থন গাজা, ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায়, এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম–খ্রিস্টান সৌহার্দ্য গড়ে তোলায় — এক নতুন দৃষ্টান্ত হতে পারে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






