হংকংয়ের হাইরাইজ কমপ্লেক্সে ভয়াল আগুন: কমপক্ষে ৭৫ জনের মৃত্যু, শত শত নিখোঁজ, ৩ জন গ্রেফতার
হংকংয়ের তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ৭৫ জন মর্মান্তিক প্রাণ হারিয়েছেন। শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ — ২৭৯+ জনকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেসকিউ, তদন্ত ও পুনর্বাসন কাজ জোরদারে চলছে।

হংকংয়ের হাইরাইজ কমপ্লেক্সে ভয়াল আগুন: কমপক্ষে ৭৫ জনের মৃত্যু, শত শত নিখোঁজ, ৩ জন গ্রেফতার - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর হংকংয়ের তাই পো (Tai Po) এলাকায় অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট (Wang Fuk Court) আবাসিক কমপ্লেক্সে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় — যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো হাইরাইজ জটিলটি কাভার করে ফেলেছে। ৩১ তলা ও তার অধিক উঁচু বহুতল ভবনগুলো আগুনে জ্বলতে শুরু করলে, ওই সময়ই কমপক্ষে ২০০০-এর বেশি ফ্ল্যাটের আবাসিক এলাকায় থাকা প্রায় ৪,৬০০–৪,৮০০ বাসিন্দা মর্মান্তিক বিপর্যয়ে পড়েন।
🔥 আগুন কেন এবং তা কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুন শুরু হয়েছিল একটি ফ্ল্যাট ব্লকের বাইরের বাম্বু স্ক্যাফোল্ডিং (bamboo scaffolding) থেকে — এটি সম্ভবত সম্প্রতি রিনোভেশন কাজ চলাকালে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রথম সূত্র অনুযায়ী, বাইরের সবুজ নেটিং ও প্লাস্টিক / ফোম জাতীয় অপরিশোধিত আবরণ ছিল, যা আগুনে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
কমপক্ষে সাতটি (বিভিন্ন রিপোর্টে ৭–৮ টি) টাওয়ার ব্লকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়াবহ তাপ ও ধোঁয়ার কারণে দমকল বাহিনী দুর্গম ফ্লোরে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে শতাধিক বাসিন্দা ফ্ল্যাটে আটকে পড়েছিল।
হতাহতের পরিমাণ ও নিখোঁজ
শুরুর প্রথম আলো অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৬। কিন্তু তৎকরণাৎ পরবর্তী উদ্ধার ও তদন্তে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ে। সর্বশেষ দফায় ঘোষণা করা হয়েছে — কমপক্ষে ৭৫ জন নিহত। আহতের সংখ্যা ৭০ এর বেশি। প্রায় ৯০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ২৭৯+ জন এখনও নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
একজন দমকলকর্মীও (যিনি উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিলেন) নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার ও দায়-দায়িত্ব
স্থানীয় পুলিশ — হংকং পুলিশ ফোর্স (Hong Kong Police Force) — ইতোমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা ওই রিনোভেশন কাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারি সংস্থার পরিচালক ও এক ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট। তাদের বিরুদ্ধে “ম্যানস্লটারের” অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও দমকল বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবন রিনোভেশনের সময় ব্যবহৃত বাম্বু স্ক্যাফোল্ডিং এবং ফোম/নন–ফায়ার রেটেড নেটিং হলো দুর্ঘটনার মূল কারণ। পুলিশ উল্লেখ করেছে, “গ্রসলি নেগ্লিজেন্স” (gross negligence) ছিল; ফলে সাধারণ নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
হংকং সরকারের তরফে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থার অফিস তল্লাশি করা হয়েছে; দরকারে এক্সপোজার ও আর্থিক অনিয়মসহ সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবন রিনোভেশনে বাম্বু স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবহারের পরিবর্তে ধাতব (metal) বা অন্য নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অনেক বাসিন্দা এখন ভগ্ন-আত্মবিজ্ঞপ্তির (trauma) শিকার, এবং কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক সহায়তা, খাদ্য, বাসস্থানের প্রয়োজন।
এ ঘটনায় হংকংয়ের ভবন নিরাপত্তা ও রিনোভেশন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে জাতীয়ভাবে গম্ভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র “নিরাপত্তা বিধি” নয় — নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদন ও তদারকির অভাবই মূল সমস্যা।
বিশ্লেষণ ও প্রতিফলন
- নিরাপত্তা বিধি খুবই জরুরি: এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে, পুরনো বা রিনোভেটেড হাইরাইজে যদি সঠিক মানের নির্মাণ সামগ্রী এবং স্ক্যাফোল্ডিং/ক্ল্যাডিং ব্যবহার করা না হয়, তাহলে আগুন মাত্র মিনিটের মধ্যে পুরো টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- নিয়মিত তদারকি দরকার: শুধু রিনোভেশন হলে নয় — নিয়মিত ভবন অর্থাৎ নিরাপত্তা অডিট, অগ্নি দমন ব্যবস্থা, আগুনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি বের হওয়ার পথ সবসময় সক্ষম রাখতে হবে।
- দায় ও জবাবদিহিতা: যে ঠিকাদারি সংস্থাগুলো কাজ করে — তাদের দায়িত্ব এবং নিরাপত্তা জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে হওয়া উচিত। শুধুমাত্র অনুমোদন নয় — দেয়া কাজের মান এবং ব্যবহৃত উপাদানগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
- বাসিন্দার সচেতনতা: ভবন মালিক এবং বাসিন্দাদের সচেতন থাকতে হবে — যদি ভবন রিনোভেটেড বা স্ক্যাফোল্ডিং চলাকালে হয়, তাহলে অগ্নি নিরাপত্তা, জরুরি বের হওয়ার রাস্তা, ডিটেক্টর, অ্যালার্ট সিস্টেম সবসময় সচল রাখার দায়িত্ব আছে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






