D.C. শুটিং সন্দেহভাজন: CIA‑সমর্থিত ইউনিটের নৃশংসতা ফাঁস | Afghan Ex-Soldier in D.C. Shooting Couldn’t Handle CIA Unit Violence
গত ২৬ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে National Guard সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এক আফগান ব্যক্তি, যিনি পূর্বে আফগানিস্তানে CIA‑পৃষ্ঠপোষিত একটি ইউনিটে কাজ করেছিলেন, সেই ইউনিটে সংঘর্ষ ও সহিংসতা দেখার পর মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন বলে তার শৈশবের এক বন্ধু দাব

D.C. শুটিং সন্দেহভাজন: CIA‑সমর্থিত ইউনিটের নৃশংসতা ফাঁস | Afghan Ex-Soldier in D.C. Shooting Couldn’t Handle CIA Unit Violence - Ajker Bishshow
২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই জন West Virginia National Guard–এর সদস্য — Sarah Beckstrom (২০) এবং Andrew Wolfe (২৪) — গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পাওয়া গেছে, তারা একটি সাবওয়ে স্টেশনের কাছে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন, যখন হঠাৎ একজন বন্দুকধারী হামলা চালায়।
আত্মরক্ষায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে গার্ড সদস্যরা গুলি ছুড়লে, অভিযুক্তও আহত হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে যিনি চিহ্নিত হয়েছেন, তিনি হলেন ২৯ বছরের আফগান নাগরিক Rahmanullah Lakanwal।
পরিচালনাকারী সংস্থা CIA বৃহস্পতিবার স্বীকার করেছে যে, লাকানওয়াল আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন — তার মধ্যে ছিল CIA‑পৃষ্ঠপোষিত একটি পার্টনার ফোর্স, যা ২০২১ সালের আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে কার্যরত ছিল।
ভিত্তি: “সহিংসতা সহ্য করতে পারিনি” — বন্ধু ও সহকর্মীর বয়ান
ঘটনার পর, পত্রিকা (যেমন একটি রিপোর্ট অনুসারে) জানায়, লাকানওয়ালের শৈশবের এক বন্ধু বলেছে, “যখন সে রক্ত, মৃতদেহ এবং আহত মানুষ দেখত, সে সহ্য করতে পারত না, এবং এটা তার মনে অনেক চাপ দিচ্ছিল”।
অন্য এক পুরনো সহকর্মী, যিনি এক সময় আফগান বিশেষ বাহিনীতে লাকানওয়ালের সাথে কাজ করেছিলেন, বলেন — “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, সে এমন কিছু করতে পারে।” একই সময় তিনি জানান যে, শেষবার তিনি জানতেন, লাকানওয়াল আমাজনে কাজ করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যে, বেলিংহামে, স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস করছিল।
যদিও এই বয়ানগুলো সরাসরি যাচাই করা যায়নি, কিন্তু শব্দগুলোই একটি গভীর মানসিক বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয় — বিশেষ করে, একজন যিনি যুদ্ধ, রক্তপাত, সহিংসতা দেখেছেন, এবং হয়তো সেই ভয়ের ছায়া দীর্ঘদিন বহন করেছেন।
আফগানিস্তানে পার্টনার ফোর্স ও তাদের সহিংসতার ইতিহাস
যেখানে লাকানওয়াল কাজ করেছিলেন, সেই পার্টনার ফোর্স গুলোর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। Human Rights Watch (HRW) রিপোর্ট করেছে, অনেক CIA‑backed আফগান স্ট্রাইক ফোর্স — যারা তালেবানবিরোধী অভিযানে যুক্ত ছিল — তারা গোপন রাতের রেইড, summary execution, বিবাহহীন গ্রেপ্তার এবং আসামীদের নির্বিচারে হত্যা–সহ ভয়ানক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।
এই নৃশংসতার অভিজ্ঞতা — রক্ত, মৃত্যুর গন্ধ, সহিংসতা — অনেক আফগান কমান্ডোর জীবনে গভীর মানসিক পরিবর্তন আনে। অনেক তারাই, যুদ্ধ শেষ হলেও, এই ট্রমার সঙ্গে সারাজীবন বাস করে।
এই প্রেক্ষাপটে, লাকানওয়ালের পরিচিতদের উল্লেখ করা “সহিংসতা সহ্য করতে না পারা” মন্তব্যটি, যদি সত্য হয়, তাহলে তা এক ধরনের পোস্ট‑ওয়ার মানসিক ক্রমশ ভাঙন নির্দেশ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে তার অভিবাসন: আশ্রয়, অভিবাসি প্রক্রিয়া এবং নতুন ও হঠাৎ পতন
লাকানওয়াল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, যখন আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্পণকারী প্রোগ্রাম Operation Allies Welcome-এর আওতায়। তখন তার পূর্ব কর্ম ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সহায়তার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়।
তারপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর সে আশ্রয় (asylum) এর জন্য আবেদন করে, এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে asylum মঞ্জুর হয়।
কিন্তু অভিবাসন প্রক্রিয়ার পরবর্তী "ভেরিফিকেশন", মানসিক স্বাস্থ্য যাচাই বা পুনরায় মূল্যায়নের কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি — বা অন্তত জনসমক্ষে হয়নি।
এখন, এই গুলিকাণ্ডের পর, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা U.S. Citizenship and Immigration Services (USCIS) ঘোষণা করেছে যে, আফগান নাগরিকদের জন্য সব নতুন আবেদন অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, হাজার হাজার আফগান — যারা ২০২১ এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছিলেন — তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পরিপ্রেক্ষিত ও প্রভাব
— জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি
এই গুলিকাণ্ড একবারেই দেখিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধশেষাবস্থায় “পার্টনার ফোর্স” হিসেবে যাদের যুক্ত করা হয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। যাদের পেছনে সহিংস স্মৃতি ও ট্রমা রয়েছে — তারা শুধু একটি চাকরি বা ভূমিকা ছিল না; তারা মানব, যার মানসিক স্বাস্থ্য একইভাবে প্রভাবিত হয়।
এ কারণে, অভিবাসন নীতি ও শরণার্থী গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শুধু বায়োগ্রাফি বা কাগজপত্র যথেষ্ট নয়; মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, পুনর্বাসন, এবং সমাজে একীভূত করার জন্য পুড়নির্বাচিত পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
— আফগান শরণার্থীদের ওপর সামাজিক মতবাদ
এই ধরনের ঘটনা, যদিও খুবই অত্যন্ত বিরল, তবুও পুরো আফগান শরণার্থী সম্প্রদায়ীকে তার প্রভাব থেকে আলাদা করতে হবে। এক ব্যক্তির কাজকে গোটা সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত করা ন্যায্য হবে না। কিন্তু সমাজ এবং নীতি-নির্ধারকরা হয়তো এই ঘটনাকে ব্যবহার করে পুরো সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করবে।
— যুদ্ধ, সহিংসতা ও ট্রমা: এক দীর্ঘ পরিণতি
যুদ্ধ শুধু অস্ত্রবাজারে যুদ্ধ নয়; এটি সেই সেনাদের জীবনেও গভীর ক্ষত রেখে যায়, যারা যুদ্ধ করেছেন — এবং পরবর্তীতে যারা নতুন জীবনে পা রাখেন। যারা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখেছেন, जिन्होंने রক্ত, মৃত্যু, গুপ্ত হত্যা, রাতে রেইডের ভয় দেখেছেন — তাদের পুনর্বাসন কতখানি হয়েছে? না হলে পুরনো স্মৃতি কখনো “নগ্ন সত্য” হয়ে ফিরে আসে, এবং বাস্তুহারা হয় নতুন জীবন।
লাকানওয়ালের বন্ধু ও সহকর্মীর বয়ান যদি সত্য হয়, তাহলে এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়: যুদ্ধের পরবর্তী প্রভাব — শারীরিক নয়, এক গভীর মানসিক ক্ষত — যা সময়ের সঙ্গে মেমরি হয়ে যায়, কিন্তু কখনো পুরনো হয় না।
ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলিকাণ্ডে অভিযুক্ত আফগান প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে লাকানওয়াল শুধু একটি অপরাধীর চেহারা নয়। তার পেছনে রয়েছে যুদ্ধ, সহিংসতা, স্মৃতি ও সম্ভাব্য ট্রমা — যা হয়তো এক দীর্ঘ, অবিচ্ছিন্ন পথচলায় তৈরি হয়েছিল।
যে বন্ধুরা তার সঙ্গে কাজ করেছে, তারা বলছেন — সে সহিংসতা সহ্য করতে পারত না। সেটা হয়তো এক ব্যক্তির ব্যথা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে, এটি আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ফেলে: যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্য, অভিবাসন নীতি — এই সব কি যথেষ্টভাবে পরিকল্পিত ছিল?
যদি না হয়, তাহলে একসময়, যুদ্ধের ক্ষত শুধুই যুদ্ধে থাকে না; নতুন সমাজেও তার প্রতিফলন হয় — কখনো ভয়, কখনো ক্ষোভ, কখনো প্রতিশোধ। আর আমরা যদি ব্যর্থ হই এক অভিবাসন নীতি প্রয়োগে যার ভিত্তি শুধু কাগজিপত্র, তাহলে গুলির মতো ঘটনা নতুন করে ঘুরিয়ে ফিরবে।
এই ঘটনার ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আফগান শরণার্থীদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, এবং অভিবাসন‑নিরাপত্তা নীতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






