ক্রিপ্টো ক্রাশ: ট্রাম্প পরিবার ও সমর্থকদের কোটি ডলারের সম্পদ লস | Crypto Crash Drains Billions from Trump’s Family and Followers
ক্রিপ্টো বাজারের সাম্প্রতিক ধস ট্রাম্প পরিবার এবং তাঁদের সমর্থকদের সম্পদে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। মেমেকয়েন, WLFI টোকেন, TMTG-এর বিটকয়েন বিনিয়োগ এবং অন্য ক্রিপ্টো উদ্যোগের পতনে বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে তারা। এই রিপোর্টে উঠে এসেছে এই ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র, ঝুঁকি, এবং ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ।

ক্রিপ্টো ক্রাশ: ট্রাম্প পরিবার ও সমর্থকদের কোটি ডলারের সম্পদ লস | Crypto Crash Drains Billions from Trump’s Family and Followers - Ajker Bishshow
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার — বিশেষ করে তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে — ক্রিপ্টো সম্পদে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় তারা শুরুতে বিশাল লাভ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ক্রিপ্টো বাজারের ধস (cryptocrash) তাদের সম্পদকে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, এবং একই সঙ্গে তাদের অনুসারীদেরাও তাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো স্টেক: একটি ঝুঁকিপূর্ণ কেলেঙ্কারি
Bloomberg বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিবারের মোট সম্পদ এখন প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ছিল ৭.৭ বিলিয়ন।
এই এক বিলিয়ন ডলারের পতন মূলত তাদের ক্রিপ্টো উদ্যোগগুলোর কারণে হয়েছে।
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো পোর্টফোলিওতে রয়েছে বেশ কয়েকটি মূল অংশ:
- ট্রাম্প-নামক মেমেকয়েন
- ট্রাম্প ব্র্যান্ডেড এই মেমেকয়েন তার উদ্বোধনের পর থেকেই অনেক আলোচনায় ছিল এবং আগস্ট থেকে এর দাম প্রায় ২৫% কমে গেছে।
- Bloomberg অনুসারে, পরিবারের অংশীদারিত্বের একটা অংশ এখনও “লকড” রয়েছে — মানে তা অবিলম্বে বিক্রি করা যাচ্ছে না — কিন্তু প্রতি বছর কিছু অংশ “ওয়েস্টিং পিরিয়ডে” আনলক হচ্ছে।
- এছাড়া, এই মেমেকয়েনে বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষের অনেকেই এখন অনেকটা অর্থ হারাচ্ছেন।
- ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্স (World Liberty Financial – WLFI)
- এটি ট্রাম্প পরিবারের একটি বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগ। তাদের নিজস্ব টোকেন WLFI রয়েছে। Bloomberg প্রাক্কলন করে যে, শীর্ষ সময়ের পর এই টোকেনের দাম কমে গিয়ে আছে — সেপ্টেম্বর মাসে WLFI ছিল প্রায় ২৬ সেন্ট, এখন প্রায় ১৫ সেন্টের কাছাকাছি।
- ওই সময়ে, ট্রাম্প পরিবার প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্য WLFI টোকেনের মালিক ছিল, কিন্তু বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী তা প্রায় ৩.১৫ বিলিয়ন এ নেমে এসেছে।
- যদিও এই WLFI-এর বেশিরভাগ টোকেন “লকড” রয়েছে (অবিলম্বে বিক্রি করা যায় না), কিন্তু পার্থক্য তারাপাবে টোকেন বিক্রির লেনদেনে।
- American Bitcoin Corp.
- ট্রাম্প পরিবার আরও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ শুরু করেছে — American Bitcoin Corporation, যেখানে বিশেষ করে এরিক ট্রাম্প অংশীদার।
- তবে ABTC-এর শেয়ার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় অর্ধেক মূল্য হারিয়েছে, ফলে এরিক ট্রাম্পের অংশীদারিত্বে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
- যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী ABTC-তে প্রথমদিন শেয়ার কিনেছিলেন, তাদের এখন প্রায় ৪৫% পর্যন্ত লোকসানে থাকতে পারে।
- Trump Media & Technology Group (TMTG)
- ট্রাম্প পরিবারের সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি Truth Social-এর মালিক এই প্রতিষ্ঠান, এবং তারা ক্রিপ্টোতে এক বড় বাজি বসিয়েছে। বিশেষ করে, তাদের ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যে বিটকয়েন ও সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ছিল।
- তারা প্রায় ১১,৫০০ বিটকয়েন ধারণ করেছিল, যা কিনা কিনে ছিল প্রতি কয়েন ~$115,000 মূল্যে। এখন বিটকয়েনের দাম পরিবর্তনের কারণে এর মান ২৫% বা তারও বেশি কমে গেছে।
- এছাড়া, তারা CRO টোকেনেও বিনিয়োগ করেছিল (Crypto.com-এর টোকেন), যার মূল্যও প্রায় আধা কমে গিয়েছে।
- ফলস্বরূপ, TMTG-এর শেয়ারে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি তৈরি হয়েছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিপদ
এরকম ধরণের সম্পদ ক্ষয় শুধু ট্রাম্প পরিবারকেই নয়, তাদের সমর্থকদেরও প্রভাব করছে। বেশ কিছু বিনিয়োগকারী মেমেকয়েনে বিনিয়োগ করেছিল, যাদের অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন এটি ট্রাম্প ব্র্যান্ড দ্বারা মূল্যবান হবে। কিন্তু বর্তমান পতন তাদের জন্য বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ।
หนึ่งজন ফিনান্স অধ্যাপক জিম অ্যাঙ্গেল বলেছে,
“রিটেইল বিনিয়োগকারীরা শুধু স্পেকুলেট করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পরা শুধু স্পেকুলেট করছে না — তারা টোকেন তৈরি করছে, বিক্রি করছে এবং লেনদেনে মোনিটাইজ করছে।”
মূলত, ট্রাম্পরা তাদের ব্র্যান্ড এবং প্রেক্ষাপট ব্যবহার করে একটি অর্থনৈতিক গঠন গড়েছেন যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পায় — এবং এই রকম ধরণের কাঠামোগত ঝুঁকিও থাকে।
ক্রিপ্টো মার্কেট ধস: একটি বড় প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প পরিবারের সমস্যা কেবল তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নয় — এটি ব্যাপক ক্রিপ্টো বাজারের গুমরাহি (rout) এর অংশ। Bloomberg রিপোর্ট করে যে সামগ্রিকভাবে ডিজিটাল অ্যাসেট ওয়ার্ল্ডে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি মান বিলুপ্ত হয়েছে।
এই ধস শুধুমাত্র ট্রাম্প-কেন্দ্রিক প্রজেক্টে প্রভাব ফেলছে না; এটি মার্কেট গভীর এবং বিস্তৃতভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
তবে, ট্রাম্প পরিবার এখনও আশাবাদী। এরিক ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই মুহূর্তটি “একটি চমৎকার buying opportunity” — তিনি এমন বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করছেন যারা পতনের সময় কিনতে প্রস্তুত।
তারা বিশ্বাস রাখে যে গতির এই ওঠানামা দীর্ঘমেয়াদে তাদের পক্ষে লাভজনক হবে এবং তারা ক্রিপ্টোকে “ভবিষ্যতের আর্থিক ব্যবস্থাপনার” অংশ হিসেবে দেখছে।
নীতিগত প্রশ্ন এবং ঝুঁকি
এই ঘটনা শুধুমাত্র আর্থিক প্রভাবই তৈরি করছে না — নীতিগত এবং নৈতিক প্রশ্নও গড়ে উঠছে:
- প্রথমত, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো উদ্যোগ এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান একসাথে থাকায় স্বার্থসংঘর্ষ (conflict of interest)-এর সম্ভাবনা।
- দ্বিতীয়ত, তাদের ক্রিপ্টো স্ট্রাকচার তাদের "আলাদা ধরণের অসামান্য সুযোগ" দিচ্ছে — তারা শুধুমাত্র টোকেন ধারণ করছেন না, বরং তা তৈরি ও বিক্রি করছেন, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে প্রতিলিপি করা কঠিন।
- তৃতীয়ত, যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পতনের মুখে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তখন ট্রাম্পরা “লোকসান” হিসেবে যে মূল্যহ্রাস দেখছে, তা সবসময়ই "কাগজে ক্ষতি" (“paper loss”) — কারণ অনেক টোকেন এখনও লকড বা আংশিকভাবে অফ-চেইন বিক্রয়যোগ্য লেনদেনে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?
বর্তমানে ট্রাম্প পরিবার একটি দ্বৈত পন্থা গ্রহণ করছে: তারা পতনকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন এবং একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ সফল হতে হলে বিংশাঙ্ক চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
- টোকেন লিকুইডিটি: যদি তাদের বেশ কিছু মূল টোকেন আবার বাজারে আনলক হয়, তাহলে তারা বড় লিকুইডিটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- বিনিয়োগকারীর আস্থা: সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যদি বিশ্বাস হারায়, তাহলে মেমেকয়েন বা WLFI-এর মতো প্রোজেক্টগুলোতে নতুন প্রবাহ আসা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
- নিয়ন্ত্রক চাপ: ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা বাড়ার সাথে সঙ্গে, ট্রাম্পদের মতো রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠিন আইনগত ও পারদর্শিতার চাহিদা বাড়তে পারে।
ক্রিপ্টো-ধস (cryptocrash) স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ডিজিটাল অ্যাসেটের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি কতটা গভীর হতে পারে — এমনকি রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও। ট্রাম্প পরিবার তাদের ব্র্যান্ড, প্রবল রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্রিপ্টো স্ট্রাকচার একত্রে ব্যবহার করে লক্ষণীয় সম্পদ গঠন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পতন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে — আর তাদের অনুসারীদের জন্যও প্রতিফলন রয়েছে।
এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ক্রিপ্টো এক্সপোজার শুধু উন্নতির কথা নয়; এটি বড় ধরনের উত্থান-পতন নিয়ে আসে। যারা পেছনে দাঁড়িয়ে শুধু ব্র্যান্ড নাম বা জনপ্রিয়তা দেখে বিনিয়োগ করেছে, তারা এখন দেখছেন সেই নামকেই ক্ষতির “মিষ্টি স্বাদ” দিতে পারে।
যদি চাও, আমি এ প্রতিবেদনকে আরও বাংলায় রিপোর্ট হিসেবে রূপ দিতে পারি (বাংলাদেশি পাঠকের জন্য উপযোগী করে), এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ (যেমন: বাংলাদেশে এর প্রভাব, আইনগত দৃষ্টিকোণ)ও দিতে পারি। তুমি চাইবে?
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






