নেতানিয়াহু ভূতের ভয় দেখছেন”—সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষুব্ধ আমেরিকা
ইসরায়েলের সিরিয়ায় ধারাবাহিক হামলা ও গজনাকে নিয়োজিত নজিরবিহীন পদক্ষেপগুলো নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র এখন গম্ভীর; তারা মনে করছে বিষয়গুলো সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য ইসরায়েল–সিরিয়া শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্রুটি দেয়।

নেতানিয়াহু ভূতের ভয় দেখছেন”—সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষুব্ধ আমেরিকা - Ajker Bishshow
গত কয়েক মাস ধরে Benjamin Netanyahu–র নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল প্রায় নিয়মিতভাবে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষাংশে একটি বড় সংঘর্ষে, ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার ভূখণ্ডের কমপক্ষে ১০ মাইলেরও ভেতরে একটি রেইড চালায় — সেখানে সম্ভাব্য “সন্ত্রাসী” সন্দেহে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার দাবি করা হয়। তবে, স্থানীয় উৎস এবং পরে বহু প্ৰতিবেদন বলেছে, ওই হামলায় আহত হয়েছেন ইসরায়েলি জওয়ানরা; কিন্তু আগে থেকেই সিরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবে জানানো হয়নি।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত উদ্বেগ প্রকাশ করে। কারণ, এই ধরনের একপাশা সামরিক বহির্শাসন — বিশেষ করে যখন তাতে সিরিয়ার নতুন শাসনব্যবস্থা এবং সম্ভবত ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তি জড়িত — সেগুলোর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: কেন এত উদ্বেগ?
- নেতৃত্বহীন ও একতরফাভাবে হামলা: মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলা আগে থেকে ওয়াশিংটন বা সিরিয়া উভয়কেই জানানো হয়নি — যা গত কয়েকবারের ক্ষেত্রে ছিল।
- স্থিতিশীল সিরিয়ার সম্ভাবনায় ধীরগতি: নতুন সিরিয়া শাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এই ধরনের হামলা সিরিয়া–ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে পারে।
- “শুট ফার্স্ট, প্রশ্ন পরে” নীতি: একাধিক আমেরিকান কর্মকর্তা — অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও — এই নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক কর্মকর্তা বলেছেন, “Bibi sees ghosts everywhere” — অর্থাৎ, নেতানিয়াহু এমন শত্রুর ভয় দেখছেন, যা আসলে আছে কিনা সন্দেহ।
- ডিপ্লোমেটিক ও কূটনৈতিক সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি বা এমনকি অংশীদারির চেষ্টায় ছিল; কিন্তু এই হামলা সেই সুযোগকে বিলোপ করার পথে।
ইসরায়েলের যুক্তি ও পরিস্থিতি
ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে, এই হামলা ছিল “প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক” — তারা বলেছে, অভিযুক্তরা “সন্ত্রাসী” এবং গাজা বা সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু সিরিয়ার নতুন সরকার এবং তাদের মিত্ররা, সেই সঙ্গে বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, এই দাবি নিয়ে সন্দিহান।
এমনকি মধ্যপ্রাচ্য এবং সিরিয়া–ইসরায়েল স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এখন তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নীতি (অপ্রচুর ডিপ্লোম্যাটিক পরামর্শহীন সামরিক হানা) ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মারাত্মক প্রভাব: সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সম্ভাবনা
- শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা জরুরি সংকটে: যুক্তরাষ্ট্র বহু চেষ্টা চালাচ্ছিল সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার। এই ধরনের হামলা সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
- সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: সাধারণ নাগরিকেরা, বিশেষ করে যাদের এলাকায় হামলা হয়েছে, তারা দমন, উদ্বেগ, শান্তি–চুক্তি ও পুনর্বাসন বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের খারাপ প্রভাব: এমন unilateral হামলা পশ্চিমা শক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঝুঁকি: যদি এমন হামলা নিয়মিত হয়, সিরিয়া–ইসরায়েল সীমান্তসহ সার্বিক মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা, সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া ও শান্তি প্রক্রিয়া প্রতিকূল হয়ে পড়বে।
মন্তব্য
ইসরায়েল এবং সিরিয়ার ইতিহাস দীর্ঘ — সমঝোতা, যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা, আন্তর্জাতিক চাপ: সবই লেগেই রয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের এই “গভীর হানা” বা “রেইড” যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং мир-পরিকল্পনার মধ্যে একটি সম্ভাব্য গোপন চুক্তির ঠিক বাঁকে এসে লেগেছে, তখন এমন হামলা সত্যিই — কূটনৈতিক ভুল, সমাজিক বিপর্যয় আর মানবিক সংকট — সবকিছু একসঙ্গে তৈরি করছে।
“Bibi sees ghosts everywhere” — এই উক্তি শুধু আক্ষরিক নয়, তা ইঙ্গিতমূলক: ইসরায়েল হয়তো এমন শঙ্কা, পর্যবেক্ষণ বা নিরাপত্তা বিধানের নামে কাজ করছে, যেগুলোর বাস্তবতা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু এর মূল্য দিতে হচ্ছে — সিরিয়ার সাধারণ মানুষ, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, এবং ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাকে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন সর্তক অবস্থানে এসেছে; এটি শুধু তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নয়, সামগ্রিক আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি, এবং ভবিষ্যৎ শান্তির প্রশ্ন।
যদি এই ঊর্ধ্বমূখী যুদ্ধবিরতি–উদ্বলনায় একপক্ষীয় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য আবার থেকেই “সংঘাত-উৎপরক” অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
বর্তমানে ইসরায়েল–সিরিয়া সঙ্কট কেবল সামরিক–রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি, নিরাপত্তা ও কূটনীতি গঠনকে পুনর্বিবেচনায় ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ — “Bibi sees ghosts everywhere” — এক ধরনের সতর্কবার্তা, কিন্তু সেই সতর্কবার্তা যদি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে শুধু সিরিয়া নয়, পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
আজকের এই ঘটনা শুধুই এক হামলা নয় — এটি একটি সংকেত, একটি সিদ্ধান্তের মোড়, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যকে অন্য রকম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য করবে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






