🚨 বেনিনে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ: রাষ্ট্রপতি নিরাপদ, দেশ শান্ত! | Benin Coup Attempt Foiled: President Safe, Country Stable
বেনিনে একটি সামরিক অভ্যুৎপাদন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি Patrice Talon নিরাপদ রয়েছেন এবং loyalist সৈন্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। পুরো ঘটনাপ্রবাহ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিশ্লেষিত হয়েছে এই রিপোর্টে।

🚨 বেনিনে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ: রাষ্ট্রপতি নিরাপদ, দেশ শান্ত! | Benin Coup Attempt Foiled: President Safe, Country Stable - Ajker Bishshow
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর (স্থানীয় সময়) পশ্চিম আফ্রিকার বেনিনে একটি সামরিক অভ্যুত্থান (কূট-প্রচেষ্ট) সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল; তবে দেশটির পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর বিশ্বাসযোগ্য অংশ - “ভক্ত সৈন্য” — তা দ্রুত দমন করে। অভ্যুৎপাদনকারীরা প্রথমে রাষ্ট্রীয় টিভিতে একটি ভাষণ দিয়েছিল, দেশীয় সংবিধান স্থগিত করা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলির বিলুপ্তি ঘোষণার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রপতি Patrice Talon কে অপসারণের দাবি করেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভ্যুৎপাদন প্রয়াস ব্যর্থ করে দেওয়া হয় — রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারের আনুগত্যদার সেনারা কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করে বলে ঘোষণা করে।
এই প্রতিবেদন সেই ঘটনা, তার প্রেক্ষাপট, প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য বহুমাত্রিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
কিভাবে অন্তর্ঘাত ঘটল — অভ্যুৎপাদনকারীদের দাবি
রোববার ভোরে, একটি অজ্ঞাত সংখ্যক সেনা (বর্তমানে জানানো হয়েছে আটজন) — যারা নিজেদের “Military Committee for Refoundation (CMR)” নামে অভিহিত করেছিল — তারা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম (টিভি এবং সম্ভবত রেডিও) দখল করে একটি ঘোষণাপত্র পাঠায়।
তারা ঘোষণা দেয় যে, —
- রাষ্ট্রপতি ও সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে;
- সংবিধান ও সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে স্থগিত।
- সীমান্ত, আকাশ-সীমান্ত ও সামুদ্রিক সীমান্ত বন্ধ করা হচ্ছে।
খুব দ্রুতই, এই জানানো হয়, তাদের নেতা হিসেবে Pascal Tigri (লেফটেন্যান্ট কোলোনেল) কে “CMR-এর সভাপতি” হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
CMR দাবি করেছিল, তারা এই ব্যবস্থা নিচ্ছে কারণ:
- দেশীর সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক — বিশেষ করে উত্তর বেনিনে — যা “নিরাপত্তা অবনতি” আড়ালে রয়েছে;
- আহত বা শহীদ সেনাদের পরিবার ও ফলিত পরিবারগুলোর অবহেলা।
- সেনাবাহিনীতে অযৌক্তিক প্রমোশন, অবিচার — অর্থাৎ, সেনাদের মধ্যে রেটিং বা মর্যাদা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা অভাব।
অতঃপর তারা বলেছিল, “সাহব ন্যায়, একতা ও কাজের প্রতিশ্রুতি” — এমন এক নতুন দিনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
প্রতিক্রিয়া ও প্রতিহিংসা — কেন অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলো
কিন্তু তাদের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, সরকার ঘোরালো প্রতিক্রিয়া জানায়।
- Alassane Seidou, বেনিনের অভ্যন্তরীণ ও জননিরাপত্তা মন্ত্রী, একটি টিভি ভাষণে বলেছিলেন যে, “সকালে একটি ছোট গ্রুপ সেনা রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেনিন সেনাবাহিনী এবং তাদের নেতৃত্ব, যারা তাদের শপথের প্রতি ভক্ত, তারা দ্রুত অ্যাকশন নিয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভ্যুৎপাদন প্রতিরোধ করেছে।”
- সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, তারা গুলি করার শব্দ শুনেছিল এবং কিছু সাংবাদিককে, যারা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে কাজ করছিলেন, আটক করা হয়।
- রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার (টিভি/রেডিও) ট্যান্সমিশন সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু পরে পুনরায় চালু করা হয়।
- সেনাবাহিনীর বৃহত্তর অংশ — বিশেষ করে যারা সরকার এবং রাষ্ট্রকায়ী — তাদের শপথে থাকা রূপে ছিল এবং তারা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।
- সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, তারা তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং আতঙ্ক বা গুজবে ভীড় না করতে।
সাথেই, বহির্বিশ্বে প্রতিক্রিয়া ছিল দৃঢ়। African Union (AU) এবং Economic Community of West African States (ECOWAS) — দুই বড় আঞ্চলিক সংস্থা — দ্রুত এই অভ্যুৎপাদনকে নিন্দা জানায় এবং সব পক্ষকে আইন শৃঙ্খলা, সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আহ্বান করে।
প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক প্রভাব
এই ঘটনা একক নয়; বরং — সাম্প্রতিক বছরগুলোতে — পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার অনেক দেশেই সামরিক অভ্যুত্থানের প্রবণতা বেড়েছে।
বেনিন দীর্ঘকাল ধরে সেই দেশগুলোর মধ্যে ধরা হত যা তুলনামূলক স্থিতিশীল গণতন্ত্র বজায় রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে — নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, জঙ্গি হামলা (বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে), রাজনৈতিক চাপে, প্রগতিশীল মূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক ঝোঁকসহ — এই স্থিতিশীলতার ধার কমতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, অভ্যুৎপাদনকারীরা তাদের দাবি করেছিলেন যে, প্রশাসনিক ও সেনা বিভাগে অবিচার, অবহেলা, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি — এমন কারণেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সব দাবিই আয়োজন করে যে — যদিও অ্যাপ্রোচ সম্ভবত বেআইনি — তারা “দেশের জন্য সঠিক কিছু করত” বলে মন চেয়ারম্যান করেছিল।
এই প্রয়াস প্রমাণ করে যে, বেনিনের মত দেশেও সামরিক অভ্যুৎপাদনের ঝুঁকি কম নয় — বিশেষ করে যখন সামাজিক-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
পরবর্তী প্রশ্ন ও ঝুঁকি
যদিও অভ্যুৎপাদন ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু কিছু প্রশ্ন এখনো বাকি রয়েছে:
- কীভাবে মাত্র আটজন সেনা (অভিযুক্ত) এত দ্রুত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার দখল করতে পেরেছিল? — এটি নির্দেশ করে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বা অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে শ্লথতা থাকতে পারে।
- তারা কি বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ অন্য কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল? — এখনও পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
- এই ঘটনা জনমিডিয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা সাধারণ জনগণের মধ্যে কতটা উদ্বেগ বা অন্বাস্যতা তৈরি করছে? — বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে সামনে রেখেই।
- সবাই কি নিশ্চিন্ত যে ভবিষ্যতে আর এমন প্রচেষ্টা হবে না? — যদি দেশীয় সমস্যাগুলি সমাধান না হয়, তাহলে অন্য কোন গোষ্ঠা আবারো চেষ্টা করতে পারে।
এই কারণে, বেনিন এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠাগুলোর — যেমন AU এবং ECOWAS — জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো: নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরায় গঠন, সেনা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নজরদারি, এবং জনগণের মধ্যে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা বজায় রাখা।
৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বেনিনে ঘটেছে একটি গুরুতর সামরিক অভ্যুৎপাদন‑চেষ্টা। কিছু সেনা, যারা নিজেদের “CMR” নামে অভিহিত করেছিল, রাষ্ট্রীয় সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানগুলি স্থগিত ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি করেছিল। কিন্তু, loyalist — অর্থাৎ, সরকার ও রাষ্ট্রকীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী — দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দমন করেছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ করে দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী Alassane Seidou সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য জনগণকে ধৈর্য ও সচেতন থাকার আহ্বান করেছিলেন। পাশাপাশি, AU ও ECOWAS-এর মত আঞ্চলিক সংস্থা দ্রুত এই প্রয়াসকে নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু বেনিনের জন্য নয় — পুরো পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। রাজনৈতিক নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা, এবং আইনগত কাঠামো রক্ষা করতে হলে, দীর্ঘমেয়াদী এবং বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি — সেনাবাহিনীর সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক সমন্বয়, সামাজিক ন্যায্যতা, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনরায় মূল্যায়ন।
বেনিন এই মুহূর্তে স্থিতিশীল রয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে — যদি সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান না হয় — নতুন চ্যালেঞ্জ আসা অপরিহার্য।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






