সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট Ahmed al‑Sharaa যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে—নিষেধাজ্ঞা উচ্ছেদের পর নতুন অধ্যায় |
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে করণীয় এক পর্ব পার করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা মার্কিন সফরে যোগ দিলেন। Donald Trump–শরা বৈঠক এবং সশস্ত্র সংঘাত পরবর্তী পুনর্গঠন ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মোড় নির্দেশ করছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট Ahmed al‑Sharaa যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে—নিষেধাজ্ঞা উচ্ছেদের পর নতুন অধ্যায় | - Ajker Bishshow
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি আগামী দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। বিষয়টি কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃষ্টিকোণেই নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে একটি বড় পালাবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণত সিরিয়া দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। এখন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সে বিচ্ছিন্নতা ভেঙে নতুন পথ খোলার আগ্রহ দেখাচ্ছে।
প্রেক্ষাপট
সিরিয়া দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ভূগেছে। Caesar Syria Civilian Protection Act (২০১৯)-এর মতো আইনগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ও তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করে এসেছে।
তবে গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব–আল-শরা–আবার পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সংলাপের পথে এগিয়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
সফরের তাৎপর্য
এই সফর একাধিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ:
- এটি সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রথম সরাসরি যোগাযোগ হিসেবে রেকর্ড হবে।
- নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আল-শরার এই যুক্তরাষ্ট্র সফর মূলত একটি সিগন্যাল হিসেবে কাজ করছে—যে সিরিয়া এখন পুনরায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে স্থাপন করতে চাচ্ছে।
- পূর্ববর্তী বিজেপি ও সংঘাতপূর্ণ সময়ের পর, এই মুহূর্তে সিরিয়া-পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও অঞ্চলীয় নিরাপত্তা আলোচনা, আলোচনায় রয়েছে।
মূল আলোচ্য বিষয়বস্তু
- নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী ধাপ
- আল-শরা আলোচনা করবেন যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর সিরিয়া কিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। ইউএসের আইনগত বাধা যেমন Caesar Act এখনও পুরোপুরি উঠে যায়নি; তবে ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় রয়েছে।
- পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন
- যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় অবকাঠামো পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ খুলে দেওয়া ইত্যাদি বিষয় টেবিলে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক সহ বিভিন্ন সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো ব্যাপক।
- মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব
- সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্ত, কুর্দি অঞ্চলের সঙ্কট, এবং জঙ্গি সংগঠন প্রতিরোধে নতুন সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ। আল-শরা তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে বিরত হয়ে এখন নতুন অংশীদারিত্ব গড়তে চাচ্ছেন।
চ্যালেঞ্জ ও বিপদ
সফর যতই প্রতিশ্রুতিময় হোক, চ্যালেঞ্জ কম নয়:
- অনেক মার্কিন সংসদ সদস্য এখনও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে সন্দিহান। রক্ষণশীল ও স্বাধীন উভয় পার্টির মধ্যে রয়েছেন সন্দেহ।
- সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এখনো অসম্পূর্ণ। যুদ্ধের দাগ, শরণার্থী সমস্যা, অবকাঠামো ধ্বংস অবস্থা এখনও আছে।
- মধ্যপ্রাচ্যে নানা কারণে সিরিয়ার নতুন ভূমিকায় اعتراض রয়েছে—বিশেষ করে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে।
সম্ভাব্য প্রভাব
- যদি এই সফর সফল হয়, তাহলে সিরিয়া আবার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবাহে ফিরতে পারে এবং মার্কিন বিনিয়োগ ও ধারায় নতুন সুযোগ পেতে পারে।
- মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন জিও-পলিটিক্যাল বোর্ড গঠন হতে পারে যেখানে সিরিয়া পশ্চিমা বিশ্ব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হবে।
- তবে ব্যর্থ হলে—যেমন যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে বিনিয়োগ না আসে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত না হয়—তাহলে সিরিয়া আবারও সংকটের দিকে ঝুঁকতে পারে।
উপসংহার
আহমেদ আল-শরার যুক্তরাষ্ট্র সফর ও নিসেধাজ্ঞা উঠানোর পরবর্তী ধাপ হল মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন অধ্যায়। যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার বছরগুলোর পর যদি এই যোগাযোগ সফল হয়, তাহলে সিরিয়ার পুনরুজ্জীবন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পুনরায় সংযোগে তা বড় ইঙ্গিত হতে পারে। কিন্তু এটা শুধুই প্রথম ধাপ—সফল হয়ে উঠতে হলে বাস্তব পরিবর্তন, একাধিক অংশীদারিত্ব ও স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন।
আমাদের চোখ এখন থাকবে—ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-শরা বৈঠকের পরকালে কী ঘোষণা আসে, সিরিয়ার পুনর্গঠন কবে শুরু হয়, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক রূপ রটনায় কতটা বাস্তবতা উঠে আসে।
Related Posts
View All
ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে? ন্যাটো প্রধানের কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এই ধারণাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন ন্যাটো মহাসচিব। তাঁর ‘গুড লাক’ মন্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

B-2 বোমারু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলার সম্ভাব্য রূপরেখা |
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল—এই দুই অস্ত্রই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলার পথে হাঁটে, তাহলে কীভাবে, কোন অস্ত্র দিয়ে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে? এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দাবি জুড়লেন ট্রাম্প: নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক | Trump Links Greenland Ambitions to Nobel Peace Prize in Message to Norway’s Prime Minister
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রাসী অবস্থানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।






